২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর একঝাঁক তরুণ জমায়েত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সামনে। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন ২০১৯ সালের ডাকসুতে সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচিত আখতার হোসেন। সেখানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লেজুড়বৃত্তিহীন নতুন ছাত্র সংগঠনের ঘোষণা দেন আখতার হোসেন; নাম গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি। সবার সম্মতিতে নিজেই হন সেই ছাত্র সংগঠনের আহ্বায়ক। নতুন ওই ছাত্র সংগঠনের সদস্য সচিব হন ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নাহিদ ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয় আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারের নাম। নতুন সংগঠন ঘোষণার ১০ মাস পর ২০২৪ সালের ১ জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সূচনা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে শুরু হওয়া এ ছাত্র বিক্ষোভের প্রধান সমন্বয়ক হন নাহিদ ইসলাম। আন্দোলনের সমন্বয়কদের কমিটির তালিকায় দেখা যায়, প্রথম ২৩ জন সমন্বয়কের মধ্যে নয়জনই গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। এছাড়া তাদের বেশকিছু নেতাকর্মী আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকা অনুযায়ী, সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব, নুসরাত তাবাসসুম, রাফিয়া রেহনুমা হৃদি, সোহাগ মিয়া, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আব্দুল কাদের, আবু বাকের মজুমদার, আব্দুল হান্নান মাসুদ এবং সহ-সমন্বয়ক রিফাত রশীদ, হাসিব আল ইসলাম, আব্দুল্লাহ সালেহীন অয়ন, নিশিতা জামান নিহাসহ আরো অনেকেই গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী ছিলেন।
২০২৪ সালের ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সরকার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। একই সমাবেশে একদিন এগিয়ে দিয়ে ৫ আগস্ট ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ঐতিহাসিক এ সিদ্ধান্তের ফলে শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগ সরকার হটিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে আইসিটি উপদেষ্টা হিসেবে স্থান পান নাহিদ ইসলাম এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সরকারকে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করার সুযোগ না দিতে ১৬ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলনের সমন্বয়কদের পেছন থেকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। আবু সাঈদের মৃত্যুর পর ১৭ জুলাই তিনি প্রকাশ্যে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনরত অবস্থায় সেই দিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাসের সামনে থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের সামনেই পুলিশ তাকে মারধর করে। গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি প্রতিষ্ঠার আগে আখতার, নাহিদ, আসিফসহ অধিকাংশ নেতাকর্মী ছাত্র অধিকার পরিষদের পদধারী নেতা ছিলেন। ফলে তারা ছাত্র অধিকার পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ২০১৯ সালের ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতি করেছেন। পরে ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে একে একে বেরিয়ে এসে নতুন সংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি গড়ে তোলেন তারা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সারজিস আলম, যার বাগ্মিতা ও অনলবর্ষী বক্তৃতা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করে। ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তিনি অমর একুশে হল সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ডাকসুর হল সংসদের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কণ্ঠ তুলতে শিখিয়েছে।
২০১৯ সালের পর থেকে প্রচলিত সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের বাইরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন গণ অধিকার পরিষদ। নতুন রাজনৈতিক দলটি কয়েক বছর ধরে দেশের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রহীনতা, আওয়ামী লীগের দুঃশাসন ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধিতাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আওয়ামী লীগ সরকারকে চাপে রেখেছিল। এ দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ২০১৯ সালের ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর। দলটির অন্য দুই শীর্ষ নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান ও ফারুক হাসান ১৯-এর ডাকসু নির্বাচনে যথাক্রমে জিএস ও এজিএস পদে নির্বাচন করেছিলেন। পরবর্তীকালে জাতীয় রাজনীতিতে তারা আওয়ামী লীগের কঠোর বিরোধিতা করতেন।
’১৯-এর ডাকসু নির্বাচনে বিভিন্ন প্যানেল থেকে অংশ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ’২৪-এর অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এ রকম অসংখ্য গণতন্ত্রমনা তরুণ নেতৃত্বে রয়েছেন। এদের মধ্যে শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি, সুফিয়া কামাল হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মনিরা শারমিন ও বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাগুফ্তা বুশরা মিশমা; স্বতন্ত্র জোট থেকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে লড়েছিলেন অরণি সেমন্তি খান; ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছেন আকরাম হোসেইন, সদস্য হিসেবে নির্বাচন করেছেন মো. সোহরাব হোসেন ও মো. তারিকুল ইসলাম; মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্র সংসদে ভিপি পদে লড়েছিলেন নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী, সূর্যসেন হল ছাত্র সংসদের ভিপি প্রার্থী মশিউর রহমান, স্যার এফ রহমান হল সংসদে ভিপি পদে লড়েছিলেন বিন ইয়ামিন মোল্লা, কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছেন মশিউর রহমান শুভ ও মহসিন হল ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক পদে লড়েছিলেন আব্দুল্লাহিল প্রমুখ। মূলত ছাত্রলীগের প্যানেলের বাইরে যারাই ’১৯-এর ডাকসু নির্বাচন করেছিলেন তাদের প্রায় সবাই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে পাঁচ বছর ধরে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে এসেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা তাদের ফ্যাসিবাদ আন্দোলনে যুক্ত হতে সহযোগিতা করেছে বলে জানা যায়।
২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মিশনে নামে এবং নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র স্টেকহোল্ডার দাবি করে। এরপর যত দিন যায় ততই ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের সংস্কৃতি হারাতে থাকে। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের পর সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোকে ক্যাম্পাস থেকে একদম বিতাড়িত করা হয়। তবে ’১৯-এর ডাকসু নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়। যদিও নির্বাচনের পর আবারো ছাত্র সংগঠনটিকে ক্যাম্পাস ছাড়া করতে বর্তমানে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ হামলা-মামলাসহ বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকে। তবে ’১৯-এর ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রায় ১০ বছর পর ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে নব-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়, যার প্রভাব ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পড়ে। ’১৯-এর ডাকসু নির্বাচন করা ছাত্রদলের প্রায় সবাই ’২৪-এর ডাকসু নির্বাচনে আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এদের মধ্যে ডাকসুতে সদস্য প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান ৫ আগস্ট সকালে চানখারপুল এলাকা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের মাধ্যমে কারফিউ ভঙ্গ করেন। এর আগে বিক্ষুব্ধ জনতার মাঝে সাহস জোগাতে এবং সংগঠিত করতে তিনি বক্তৃতা দেন। বিজয় একাত্তর হল সংসদে জিএস পদে নির্বাচন করা বজলুর রহমান মামলার শিকার হন। ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মাসুম বিল্লাহর মাথা ফেটে যায়। ৩ আগস্ট সকালে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক মেহেদী হাসান স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। এছাড়া ডাকসুতে জিএস পদে নির্বাচন করা আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সদস্য পদে নির্বাচন করা তানভীর আজাদী সাকিব, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের সহসভাপতি প্রার্থী (ভিপি) নাহিদুজ্জামান শিপন, ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, শামসুন নাহার হল সংসদের (ভিপি) প্রার্থী মানসুরা আলম, বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পদে মো. কাওসার, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্র সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক পদে (এজিএস মোহাম্মদ ইকরাম খান, শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সম্পাদক পদপ্রার্থী নুরুল আমিন নূরসহ সংগঠনটির অসংখ্য নেতাকর্মী ’২৪-এর অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের একক নিয়ন্ত্রণ ছিল। এ সময় হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ বিভিন্নভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের অত্যাচার-নিপীড়নে শিক্ষার্থীরা বাকরুদ্ধ ছিল। প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোয় অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা মুক্ত কারাগারে বসবাস করত। দেড় যুগের অচলায়তনের ফলে পুরো একটি প্রজন্ম গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা থেকে দূরে ছিল। ফলে তারা ভোটাধিকার কিংবা মানবাধিকারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে অনেকটা অচেতন অবস্থায় ছিল। কিন্তু ’১৯-এর ডাকসু নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন হন। ছাত্রলীগের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।
অর্ধশত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ’১৯-এর ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট পাওয়ার আশায় ছাত্রলীগ নেতারা তাদের ভয়াল রূপ থেকে কিছুটা বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়। কারণ ভিপি হিসেবে নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে আখতার হুসেনকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুঝিয়ে দেয় যে তারা চাইলে ছাত্রলীগের মারাত্মক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে মতামত দিতে পারে। ডাকসুর পরই গেস্টরুমের নির্যাতন অনেকাংশে কিছুটা কমে এসেছিল। ডাকসু নিয়মিত হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেত। শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত হবে। ‘ভয়েস রেইজ’ করার সংস্কৃতি তৈরি হবে। অধিকার আদায়ের মানসিকতা তৈরি হবে। ছাত্র সংগঠনগুলোর মাঝে শিক্ষার্থীমুখী নীতি গ্রহণে মানসিকতা তৈরি হবে।
ইতিহাসে দেখা যায়, পাকিস্তান আমলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্র সংসদের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসেও আমরা এর ধারাবাহিকতা দেখেছি। ’৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানে ডাকসুর নেতাদের ভূমিকা ছাত্রনেতৃত্বের গৌরবের জায়গা। পরবর্তী সময়ে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া এবং যোগ্য, দক্ষ ও গুণগত মানসম্পন্ন নেতৃত্বের অভাব এবং এর প্রভাব রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, ’১৮-এর কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং ’১৯-এর ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা পাওয়া প্রজন্মই ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকে নেতৃত্ব দিয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, ছাত্র সংসদ থাকলে নেতাদের অনেকগুলো চেক পয়েন্টের ভেতর দিয়ে আসতে হয়, যা নেতৃত্বকে চারিত্রিক শুদ্ধতা, জবাবদিহিতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধসম্পন্ন হতে অনুপ্রাণিত করে। তাই শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু হলে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গণতন্ত্রের ভিত শক্ত হবে এবং রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে সংগঠিত হতে, যৌক্তিকভাবে নিজকে উপস্থাপন করতে, ঝুঁকি নিতে ও পরমতসহিঞ্চু হতে সহায়তা করতে পারে। তাই অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অন্যতম একটি চলক হতে পারে বলে মনে করি।
আনিসুর রহমান: সাবেক শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়










