মামুন রশীদ অর্থনীতি বিশ্লেষক। বর্তমানে বিশ্বের একটি শীর্ষস্থানীয় পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ প্রধান। প্রায় ২৫ বছর কাজ করেছেন শীর্ষস্থানীয় তিনটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকে। পাশাপাশি ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষক হিসেবে সম্পৃক্ত রয়েছেন ২৭ বছরের বেশি সময়। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল, কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুল, কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট, যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিজনেস স্কুল, ক্রেনফিল্ড স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট, ফ্রান্সের ইনসিয়াড ও ভারতের ইন্ডিয়ান স্কুল অব বিজনেসে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তিনি বণিক বার্তার নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বদরুল আলম
প্রস্তাবিত বাজেটকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
বাজেটের
আলোচনাগুলো
হচ্ছে
বিভিন্ন
আঙ্গিকে।
আমার
কাছে
মনে
হয়
এগুলোর
বেশির
ভাগই
প্রথাগত
আলোচনা।
বাজেটের
আলোচনায়
অভিনব
কোনো
কিছু
দেখেছি
বলে
আমার
মনে
হয়নি।
গেল
বাজেটে
আমরা
দেখেছি
এমনকি
পত্রপত্রিকায়ও
এসেছে
যে
করোনাকালে
বাজেটের
মূল
লক্ষ্য
হওয়া
উচিত
মানুষের
জীবন
রক্ষা।
তারপর
পিছিয়ে
থাকা
জনগোষ্ঠী,
শ্রমজীবী,
বেকার
বা
কর্মচ্যুত
হয়ে
গেছেন,
তাদের
জন্য
আমরা
কী
করছি।
জীবিকার
কথা
যখন
আমরা
বলেছি,
নিম্নবিত্তদের
কথাই
বলছি
এবং
সাময়িকভাবে
যারা
বেকার,
তাদের
কথা
বলছি।
যারা
কভিডকালীন
লকডাউন
বা
স্বাস্থ্যগত
কারণে
নিয়মিত
আয়
থেকে
বঞ্চিত
হয়েছেন
কিংবা
গ্রামে
চলে
গিয়েছেন,
অনেকে
শহরে
চ্যালেঞ্জিং
জীবনযাপন
করছেন।
সেক্ষেত্রে
দুটি
বিষয়
আলোচনায়
এসেছে
বাজেটে।
একটি
তো
অবশ্যই
স্বাস্থ্য
চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলা
করা,
আইসিইউ,
সুলভে
চিকিৎসা
ব্যবস্থা
এবং
রোগ
নির্ণয়
করা।
নতুন
করে
যে
দরিদ্র
সৃষ্টি
হয়েছে,
এ
ব্যাপারে
আমার
ভিন্ন
মত
নেই।
এ
কারণে
বেশির
ভাগ
জায়গায়
বলা
হচ্ছে
নতুন
দরিদ্রদের
জন্য
কোনো
সুখবর
নেই।
আরেকটি
হচ্ছে
আমাদের
কর
জিডিপি
অনুপাত
যেহেতু
খুবই
দুর্বল,
দক্ষিণ
এশিয়ায়
তো
সর্বনিম্ন
অবশ্যই,
এমনকি
সারা
পৃথিবীতে
কর
জিডিপি
অনুপাতে
সর্বনিম্ন
পর্যায়ের
দেশগুলোর
মধ্যে
বাংলাদেশ
অন্যতম।
কভিডকালে
সেই
কর
জিডিপি
অনুপাত
আরো
প্রায়
১
শতাংশ
কমে
গেছে,
৭
শতাংশের
নিচে
চলে
এসেছে।
সে
কারণে
সরকারেরও
টাকা
নেই।
আমরা
দেখেছি
১
লাখ
২৮
হাজার
কোটি
টাকার
যে
২৩টি
প্রণোদনা
প্যাকেজ
দেয়া
হয়েছে,
তার
প্রায়
৮০
শতাংশ
হচ্ছে
ব্যাংকনির্ভর।
মোটা
দাগে
বলতে
গেলে
ওই
টাকাটা
সরকার
মূলত
সুদ
ভর্তুকি
দিচ্ছে।
সরকারের
কাছে
টাকা
না
থাকলে
কোথা
থেকে
দেবে।
তাছাড়া
আমাদের
ব্যাংক
খাতের
সামর্থ্য
নেই
তারা
গ্রামীণ
দরিদ্র
কিংবা
আপাতত
যারা
দরিদ্র
হয়ে
গেছেন
ক্ষুদ্র
ও
মাঝারি
উদ্যোক্তাদের
কাছে
পৌঁছতে
পারে।
বাংলাদেশের
ব্যাংকিং
কাঠামো
ক্ষুদ্র
ও
প্রায়
বিত্তহীনদের
কাছে
পৌঁছতে
পারে
না,
তাদের
খুবই
ঝুঁকিপূর্ণ
মনে
করে।
আমি
যেহেতু
ব্যাংকিং
পেশায়
অনেক
দিন
ছিলাম
সেহেতু
আমি
জানি
চিহ্নিত
এবং
প্রমাণিত
তেমন
টুলস
নেই,
যাতে
আমরা
ক্ষুদ্র
ও
মাঝারি
উদ্যোক্তা
কিংবা
ছোট
ব্যবসায়ীদের
কাছে
আমাদের
ব্যাংকিং
সেবা
নিয়ে
যেতে
পারি।
সংগত
কারণেই
আমরা
চিন্তা
করেছি
বিশ্বব্যাংকের
সহায়তায়
ক্রেডিট
গ্যারান্টি
স্কিমের
আওতায়
আপাতত
একটি
গ্যারান্টি
দিয়ে
ক্ষুদ্র
ও
মাঝারি
ব্যবসায়ী
কিংবা
উদ্যোক্তাদের
কাছে
ব্যাংকগুলোকে
নিয়ে
যেতে
পারি
কিনা।
আমাদের সামর্থ্যের এক ধরনের
দুর্বলতা আছে,
সেজন্যই কি
আমরা ক্ষুদ্র ও দরিদ্রদের জন্য বাজেটে কিছু পেলাম
না?
এখানে
আমি
একটা
নীতিগত
ব্যাপার
বলতে
চাই,
যেটি
আমাদের
চোখ
এড়িয়ে
গেছে।
মরহুম
তাজউদ্দীন
আহমদের
পর
থেকে
যখনই
আমরা
অর্থনৈতিক
ব্যবস্থাপনায়
একটা
মধ্যপন্থা
অবলম্বনের
চেষ্টা
করছি,
বাজার
অর্থনীতি
আর
নিয়ন্ত্রিত
অর্থনৈতিক
ব্যবস্থার
একটি
মাঝামাঝি
জায়গায়
গিয়ে
আমরা
বলছি—একটি
প্রতিযোগিতামূলক
অর্থনৈতিক
ব্যবস্থা
গড়ে
তুলতে
চাই
বিশ্বায়নের
আলোকে,
বাংলাদেশের
ব্যক্তি
খাতের
বিকাশের
আলোকে।
সেক্ষেত্রে
আমরা
স্বীকার
করি
আর
না
করি,
আমরা
লুকিয়ে
রাখি
কিংবা
প্রকাশ
করি,
অর্থনীতির
চর্চিত
পলিসি
হচ্ছে
‘চুইয়ে
পড়া
অর্থনীতি’।
যেটাকে
ইংরেজিতে
বলা
হয়
ট্রিক্যাল
ডাউন
থিওরি।
আমরা
সরাসরি
উপকারভোগীদের
কাছে
বা
উপকার-আকাঙ্ক্ষী
জনগোষ্ঠীর
কাছে
যেতে
পারছি
না;
এমনকি
মাইক্রোক্রেডিট
বা
ফাইন্যান্স
অর্গানাইজেশন
কিংবা
এনজিওগুলোর
ওপর
ভরসা
রাখতে
পারছি
না।
অন্যদিকে
আমরা
সম্মানজনক
একটি
স্থানীয়
সরকার
কাঠামো
গড়ে
তুলতে
পারিনি
কিংবা
এটিকে
দুর্নীতি
মুক্ত
করতে
পারিনি।
আমরা
আবার
নিজেদের
ডিসক্রেডিটও
দিতে
চাই
না।
সরকারগুলো
সেক্ষেত্রে
ব্যবসায়ীদের
একটু
ট্যাক্স
ব্রেক
বা
অব্যাহতি
দেয়া,
তাদের
কাছে
উদ্বৃত্ত
কিছু
টাকা
পৌঁছে
দেয়া
কিংবা
তাদের
নিজেদের
মতো
চলতে
দেয়া
কিংবা
উদ্যোক্তাশ্রেণীকে
একটু
সহায়তা
করলে
পরবর্তীকালে
কর্মসংস্থানের
ক্ষেত্রে
গরিব
জনগোষ্ঠী
কিংবা
সরকারের
সোস্যাল
সেফটি
নেটের
মাধ্যমে
গরিব
জনগোষ্ঠী
একটা
বেনিফিট
পাবে
বলে
ধরেই
নিয়েছি।
সরাসরি
যেহেতু
তাদের
কাছে
যাওয়া
যাচ্ছে
না
বা
আস্থার
জায়গাটা
একটু
নড়বড়ে
হয়ে
গেছে,
চুইয়ে
পড়া
তত্ত্বই
সরকারগুলোর
কাছে
একটি
গৃহীত
তত্ত্ব
হয়ে
গেছে।
বাংলাদেশের মতো
একটা
অর্থনৈতিক
কাঠামোয়
সরাসরি
ক্ষতিগ্রস্ত
জনগোষ্ঠীর
কাছে
আমরা
যেতে
পারি
না।
আমাদের
কাছে
মনে
হয়,
ধনী
লোকেরা
যেভাবে
জাকাত
প্রদান
করেন
বিভিন্ন
জেলায়,
যেমন
নোয়াখালী,
কুমিল্লা
কিংবা
যেকোনো
জায়গায়,
তেমনটি
আমরা
যদি
ব্যবসায়ীদের
ট্যাক্স
ব্রেক
দিই,
এটা
পরোক্ষভাবে
চুইয়ে
চুইয়ে
গিয়ে
দরিদ্রদের
কিংবা
আকাঙ্ক্ষী
জনগোষ্ঠীর
হাতে
পৌঁছবে।
কাঠামোর
সীমাবদ্ধতার
কারণে
কিংবা
রাজনৈতিক
কাঠামো
যে
অর্থনৈতিক
কাঠামোর
ওপর
ভিত্তি
করে
দেশ
চলছে
সেটার
কারণে
আমরা
সরাসরি
ক্ষতিগ্রস্ত
জনগোষ্ঠীর
কাছে
যেতে
পারছি
না।
গ্রামীণ দারিদ্র্য
দুরীকরণে
যেভাবে
আমরা
সাফল্যমণ্ডিত
হয়েছি,
শহরে
যে
নতুন
দারিদ্র্য
সৃষ্টি
হচ্ছে,
গ্রামের
জনগোষ্ঠীর
অনেকেই
যে
শহরে
চলে
আসছে,
যারা
গ্রামে
ফিরে
যেতে
চায়
না,
সেই
জনগোষ্ঠীর
দারিদ্র্য
বিমোচনে
আমরা
এখনো
কোনো
প্রমাণিত
টুলস
আনতে
পারিনি
কিংবা
গ্রামে
যেমন
এনজিওগুলোকে
সম্পৃক্ত
করতে
পেরেছি,
ক্ষুদ্রঋণ
সংস্থাকে
সম্পৃক্ত
করতে
পেরেছি,
শহরে
দারিদ্র্য
বিমোচনের
ক্ষেত্রে,
আমরা
এই
বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানগুলোকে
সম্পৃক্ত
করতে
পারিনি।
প্রস্তাবিত বাজেটকে কভিডের ক্ষতি
কাটিয়ে ওঠার
জন্য কতটুকু ইতিবাচক বলে
মনে করেন?
শ্লথগতিতে
পুনরুদ্ধার
হচ্ছে।
বাংলাদেশের
অর্থনীতির
কাঠামোগত
পরিবর্তন
কিংবা
রূপান্তর
হয়েছে
বিভিন্ন
সময়।
কারণ
এখন
ব্যক্তি
খাত
চালিকাশক্তি।
আমরা
দেখেছি
রাষ্ট্র
যেখানে
ব্যবসা
করতে
যাচ্ছে
সেখানেই
ব্যর্থ
হয়।
প্রচুর
টাকা
রাষ্ট্রীয়
প্রতিষ্ঠানগুলোর
মাধ্যমে
কিংবা
দুর্নীতির
মাধ্যমে
বেহাত
হচ্ছে।
যে
গোষ্ঠীকে
ধনবান
করছে,
সেটি
আমাদের
আকাঙ্ক্ষিত
গোষ্ঠী
নয়।
তারা
কর্মসংস্থান
সৃষ্টি
করছে
না।
তাদের
বেশির
ভাগ
টাকা
বিদেশে
পাচার
হয়ে
যাচ্ছে
কিংবা
ব্যাংকের
অলস
টাকায়
রূপান্তর
হচ্ছে।
আরেকটি ব্যাপার
হচ্ছে,
বিভিন্ন
দেশে
সেফটি
নেট
কিংবা
সামাজিক
সুরক্ষাবেষ্টনীর
চিহ্নিত
বিষয়ের
একটি
হচ্ছে
কর্মসংস্থান
সৃষ্টি
করা,
যেটাকে
গ্যারান্টেড
এমপ্লয়মেন্ট
বলা
হয়।
কভিডকালে
গ্যারান্টেড
এমপ্লয়মেন্ট
আমরা
কতটুকু
করতে
পারব,
এটাকে
আমরা
কতটুক
দুর্নীতিমুক্ত
রাখতে
পারব,
স্থানীয়
সরকার
কাঠামোকে
যদি
এটার
সঙ্গে
সম্পৃক্ত
করি,
সেটা
কতটুকু
দুর্নীতি
থেকে
দূরে
থাকতে
পারবে—এটি
নিয়ে
সরকারপ্রধান
এবং
সরকারের
সঙ্গে
সম্পৃক্ত
কর্তাব্যক্তিদের
সন্দেহ
রয়েছে।
কভিডকালে
আমাদের
স্টিমুলাস
প্যাকেজ
কিংবা
প্রণোদনা
প্যাকেজ
বণ্টনে
যত
না
জনপ্রশাসনের
কর্মকর্তাদের
সম্পৃক্ত
করা
হয়েছে,
তার
চেয়েও
কম
সম্পৃক্ত
করা
হয়েছে
স্থানীয়
সরকার
বা
জনপ্রতিনিধিদের।
পাশাপাশি
সামাজিক
সুরক্ষা
বেষ্টনীতে
বরাদ্দ
বাড়ানোর
পর্যাপ্ত
টাকাও
নেই।
আবার
এটি
কর
জিডিপি
অনুপাতেরও
একটি
বিষয়।
যেকোনো
কারণেই
হোক,
আমরা
মাইক্রোক্রেডিট
ইনস্টিটিউশনগুলোকে
বিশ্বাস
করি
না।
বেসরকারি
খাত
এবং
সরকারি
খাতের
মধ্যেও
অবিশ্বাস
সৃষ্টি
হয়েছে।
সবকিছুর
ক্রেডিট
সরকার
নিজেই
রাখতে
চায়।
ইতিহাস
প্রমাণ
করেছে
যে
বিআরডিবি
মডেল
আর
কাজ
করছে
না।
রাজনৈতিক
সংগঠনের
মাধ্যমে
বিতরণ
করা
সরকারের
দারিদ্র্য
বিমোচনের
মডেল
আর
কাজ
করছে
না।
রাজনৈতিক
সংগঠনগুলো
যেহেতু
দুর্নীতির
ওপরে
উঠতে
পারছে
না,
সরকার
আবার
ভয়
পায়
যে
এটা
আবার
জন-অসন্তোষের
কারণ
হয়ে
দাঁড়ায়
কিনা।
এ
ধরনের
বিভিন্ন
সীমাবদ্ধতার
কারণে
সামাজিক
সুরক্ষা
বেষ্টনীকে
ক্ষুরধার
করা
যাচ্ছে
না।
সামাজিক
সুরক্ষা
বেষ্টনীতে
অধিক
হারে
বরাদ্দও
দেয়া
যাচ্ছে
না।
কর
জিডিপি
অনুপাতের
কারণে
কর
আদায়
বাড়ছে
না।
কর
ফাঁকি
রোধ
করা
যাচ্ছে
না।
কর
খাতকে
সম্প্রসারণ
করা
যাচ্ছে
না।
এ সময়ে
জনগণকে
আরো
বেশি
টাকা
দেয়া
উচিত।
কিন্তু
সেই
টাকা
বিতরণে
আবার
সক্ষমতা
সরকারি
প্রতিষ্ঠানগুলোর
নেই।
আমরা
স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়ে
দেখেছি,
১০
মাসে
বরাদ্দকৃত
অর্থের
৫০
শতাংশও
তারা
ব্যয়
করতে
পারেনি।
আবার
একটু
ভয়ও
কাজ
করে,
গুণগত
মান
বজায়
রেখে
কীভাবে
এ
টাকা
ব্যবহার
করবে।
সরকারপ্রধান
যেহেতু
জনগণকে
ভালোবাসেন,
তিনি
চান
না
এটাকে
ব্যবহার
করে
তার
স্থানীয়
জনপ্রতিনিধিরা
দুর্নীতিতে
জড়িয়ে
পড়ুুক।
আমাদের ব্যবস্থাপনার যে কাঠামোগত দুর্বলতা, সেটা
অনেক দিনের। এটা থেকে
বেরিয়ে আসতে
আমাদের এত
দেরি হচ্ছে
কেন? আমাদের রাজস্ব কাঠামোরও দুর্বলতার কথা
বলেছেন আপনি,
সংস্কারগুলো কি
সঠিক উপায়ে
হচ্ছে?
কিছুদিন
আগে
একটি
পত্রিকায়
‘দুষ্টের
দমন
এবং
শিষ্টের
লালন’
বিষয়ে
একটি
লেখা
ছাপা
হয়েছে।
আমাদের
মতো
একটি
রাজনৈতিক
কাঠামোর
দেশে
প্রশাসনিক
সংস্কার
ছাড়া
এবং
সামাজিক
খাতের
যে
বিষয়গুলো
রয়েছে—সামাজিক
অগ্রগতি,
শিক্ষা,
সংস্কৃতি,
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি—এগুলোর
মধ্যে
সামঞ্জস্য
না
করে,
আমাদের
কর
জিডিপির
অনুপাত
বা
বাজেট
বরাদ্দ
যে
পর্যায়ে
রয়েছে,
তার
থেকে
উন্নত
করতে
পারব
না।
আমরা
কিন্তু
‘বেগার্স
ক্যান
নট
বি
চুজার্স’
পর্যায়ে
চলে
যাচ্ছি।
যেহেতু
প্রশাসনিক
কর্মকর্তারা
এ
বাজেট
প্রণয়ন
এবং
বাজেট
বাস্তবায়নের
সঙ্গে
ওতপ্রোতভাবে
জড়িত,
সেক্ষেত্রে
যদি
আমরা
একটা
দায়বদ্ধতা
সৃষ্টি
করতে
না
পারি,
আমরা
যদি
প্রযুক্তির
অধিকতর
ব্যবহারের
মাধ্যমে
সক্ষমতা
উন্নয়ন
করতে
না
পারি,
পরিকল্পনা
প্রণয়নের
দক্ষতা
বাড়াতে
না
পারি,
বাস্তবায়ন
সক্ষমতা
বাড়াতে
না
পারি
তাহলে
হবে
না।
এগুলো
বাড়ানোর
জন্য
প্রকল্প
পরিচালকদের
সক্ষমতা
বৃদ্ধি,
প্রকল্প
পরিচালকদের
প্রণোদনা,
দুষ্ট
প্রকল্প
পরিচালকদের
দমন
করা,
ভালো
প্রকল্প
পরিচালকদের
পুরস্কৃত
করা
কিংবা
শিষ্টের
লালন
করাও
প্রয়োজন।
এগুলোর
ক্ষেত্রে
শুধু
পে-কমিশন
কিংবা
বেতন
বাড়ানো
নয়,
একটা
সামগ্রিকভাবে
ক্যাপাসিটি
অপটিমাইজেশন
প্রয়োজন।
যেটাকে
ব্যবসায়ের
ভাষায়
আমরা
বলি
‘অপটিমাম
ক্যাপাসিটি
মডেলিং’।
আমাদের
মতো
একটা
দেশে
যেখানে
৬
লাখ
কোটি
টাকার
বাজেট
হয়,
৩
লাখ
৯০
হাজার
কোটি
টাকার
আয়ের
বাজেট
হয়,
১
লাখ
৭
হাজার
কোটি
টাকার
সামাজিক
সুরক্ষা
বেষ্টনী
হয়,
৩৩
হাজার
কোটি
টাকার
স্বাস্থ্য
বাজেট
হয়,
সেখানে
আমাদের
মনে
হয়
সময়
এসেছে
যোগ্য
ও
যথাবিহিত
প্রশাসনিক
সংস্কারের
মাধ্যমে
একটা
অপটিমাম
ক্যাপাসিটি
মডেলিং
করা।
আমাদের
সরকারের
আকার
কী
হওয়া
উচিত,
আমাদের
কতজন
সচিব
থাকবেন,
কয়টি
মন্ত্রণালয়
থাকবে,
কয়টি
বিভাগ
থাকবে,
শিক্ষা
বাজেট
কী
রকম
হওয়া
উচিত,
স্বাস্থ্য
বাজেটের
বাস্তবায়ন
প্রক্রিয়া
কী
হওয়া
উচিত,
আমরা
কি
সরকারি
কর্মকর্তাদের
বেতন-ভাতা
বৃদ্ধি
করব
নাকি
সরকারি
কর্মকর্তা
যারা
এগিয়ে
আছেন
তাদের
প্রযুক্তিগত
শিক্ষার
জন্য
বিলেতে
কিংবা
যুক্তরাষ্ট্রের
সেরা
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়
পাঠাব—এটা
ভাবতে
হবে।
বঙ্গবন্ধুর সময়ে আমাদের বেশকিছু সরকারি কর্মকর্তা, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, যারা সিএসপি পরীক্ষা দিয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছিলেন, তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা উত্তর আমেরিকায় উচ্চতর পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এসব মুক্তিযোদ্ধা, সিএসপি, প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়া সরকারি কর্মকর্তারাই বাংলাদেশের ব্যক্তিখাতনির্ভর প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির সোপান রচনা করেছিলেন। তাদের মতো সরকারি কর্মকর্তাদের কি আমরা এখন পাচ্ছি? এদের মতো সরকারি কর্মকর্তাদের লালন করার আমাদের এখন সময় এসেছে। সরকারের আকার, সরকারের প্রকার, সরকারের দায়বদ্ধতার জন্য একটি সুষ্ঠু অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক সংস্কারে অবিলম্বে হাত দেয়া উচিত। হাত দেয়া উচিত একটি বস্তুনিষ্ঠ ও ভবিষ্যত্মুখী রাজস্ব সংস্কারেও।










