কভিড-১৯
সংকট ব্যাংকগুলোর
জন্য শুধু
সমস্যা নয়,
সমস্যা সমাধানের
সুযোগও উন্মোচিত
করেছে। আমার
মনে হয়,
প্রধানত ২০০৭-০৯
বৈশ্বিক আর্থিক
সংকটের পরবর্তী
সময়ে কঠোরতর
মূলধন ও
তারল্য শর্ত
আরোপের ফলে
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো
যতটা সম্ভব
নিজেদের স্থিতিশীল
(রিজিলিয়েন্ট) প্রমাণ
করবে। আজকে
বিভিন্ন দেশের
সরকার মহামারীসৃষ্ট
অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার
ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে
অর্থ প্রবাহিত
করার ক্ষেত্রে
ব্যাংকগুলোকে ব্যবহার
করছে।
অধিকন্তু, কঠোর
বিধিমূলক ও
তত্ত্বাবধানমূলক মানদণ্ড
বাস্তবায়নের ওপর
সরকারগুলো ব্যাংকগুলোর
জন্য একটি
সাময়িক মরাটরিয়াম
মঞ্জুর করেছে।
এটি করা
হয়েছে মূলত
গত দুই
দশকে প্রবর্তিত
উদ্যোগগুলোর সম্ভাব্য
প্র-সাইক্লিক্যালিটি
প্রশমন এবং
ঋণ সংকট
বা তারল্য
সংকট ঠেকাতে।
ফলে ব্যাংকগুলোর
এখন আর্থিক
সংকটে ভোগা
সুনাম-ভাবমূর্তিজনিত
ক্ষতি পোষানোর
একটি সুযোগ
তৈরি হয়েছে।
তবে আর্থিক
প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারে
সমস্যা-সংকটের
বাইরেও নয়,
কারণ করোনা
সংকট লক্ষণীয়ভাবে
ঋণখেলাপির (নন-পারফর্মিং
লোন) পরিমাণের
বৃদ্ধি ঘটাবে।
তদুপরি একটি
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে
আমরা (যার
সহলেখক আমিও
একজন) উল্লেখ
করেছি যে
মহামারী আগে
থেকে বিরাজমান
চাপগুলো আরো
তীব্রতর করবে।
বিশেষ করে
নিম্ন সুদহার
ও ডিজিটাল
ব্যাহতকরণ ব্যাংকগুলোর
মুনাফাযোগ্যতায় বড়
ধরনের নেতিবাচক
প্রভাব ফেলবে।
ডিজিটালাইজেশন এখন
জোরালোভাবে এগোচ্ছে,
এগোবে। কারণ
ব্যাংক ও
গ্রাহক উভয়ই
উপলব্ধি করেছে
যে দূরবর্তী
জায়গা থেকে
তারা নিরাপদ
ও কার্যকর
উপায়ে কাজ
ও ব্যাংক
কার্যক্রম পরিচালনা
করতে পারে।
তথ্যপ্রযুক্তির বিনিয়োগ
বৃদ্ধি বিশেষ
করে ইউরোপে
অনেক ব্যাংকের
অতি সম্প্রসারিত
শাখা নেটওয়ার্ক
প্রত্যাশার চেয়ে
দ্রুতগতিতে অচল
করে দেবে।
এটি আলোচ্য
খাতে একটি
গভীর পুনর্বিন্যাসের
প্রয়োজনীয়তাও সামনে
আনবে।
মধ্যম আকৃতির
ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে
বেশি ভুগবে,
কারণ ব্যয়সাশ্রয়ের
সুযোগ সৃষ্টি
এবং নতুন
পরিবেশে প্রয়োজনীয়
আইটি বিনিয়োগ
নিশ্চিত তাদের
জন্য কঠিন
হবে। যদিও
একীভূতকরণ চাপে
থাকা ব্যাংকগুলোকে
একটি সমাধান
দিতে পারে,
তবে আন্তঃসীমান্ত
একীভূতকরণে রাজনৈতিক
প্রতিবন্ধকতা সম্ভবত
কিছু আইনগত
এখতিয়ার-সম্পর্কিত
জটিলতার উদয়
ঘটাবে, যেহেতু
সরকারগুলো জাতীয়
ব্যাংকিং ব্যবস্থার
প্রতি আরো
সুরক্ষিত হবে।
উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপে
যেখানে ব্যাংকিং
জাতীয়তাবাদের জোয়ার
বেশি চলে
আসছে, সেখানে
মনে হয়
অভ্যন্তরীণ একীভূতকরণই
বেশি হতে
পারে।
এছাড়া ব্যাংকগুলো
ছায়া ব্যাংক
ও নতুন
ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলোর
দিক থেকে
নতুন করে
প্রতিযোগিতার মুখে
পড়তে পারে,
যেগুলো এরই
মধ্যে মহামারীর
আগেই গতানুগতিক
ব্যাংক বিজনেস
মডেলকে চ্যালেঞ্জে
ফেলে দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান
কিংবা ফিনটেকগুলো
মর্টগেজ ও
ব্যক্তিগত ঋণে
গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রবেশ
করেছে। এদিকে
উদীয়মান বাজারগুলোয়
চীনের আলি
পের মতো
বৃহৎ ডিজিটাল
প্লাটফর্ম তথা
বিগটেকগুলো পেমেন্ট
সিস্টেমের মতো
কিছু বাজার
অংশে আধিপত্য
বিস্তার করা
শুরু করেছে।
কভিড-১৯
মোকাবেলায় গৃহীত
লকডাউন পদক্ষেপ
থেকে সৃষ্ট
জোরালো ডিজিটাল
স্থানান্তর ইঙ্গিত
দেয় যে
ব্যাংকিং খাতে
পরিবর্তনের গতি
প্রত্যেককেই বিস্মিত
করতে পারে।
এই ত্বরায়ন
বিপরীতে কেন্দ্রীয়
ব্যাংকসহ বিভিন্ন
ব্যাংক কর্তৃক
ডিজিটাল কারেন্সির
বিভিন্ন ধরনের
প্রবর্তনও বেগবান
করতে পারে।
আর্থিক সেবার
বাজারে প্রবেশ
ও প্রস্থান
প্রতিবন্ধকতাগুলো আরো
কমানোর মাধ্যমে
ডিজিটালাইজেশন প্রতিযোগিতামূলক
চাপ বৃদ্ধি
করবে এবং
স্বল্পমেয়াদে কার্যরত
ব্যাংকগুলোর মুনাফাযোগ্যতা
সংকুচিত করতে
পারে। তবে
এর দীর্ঘমেয়াদি
প্রভাব আরো
অনিশ্চিত এবং
চূড়ান্তভাবে বজায়
থাকা বাজার
কাঠামোর ওপর
তা নির্ভর
করবে।
একটি সম্ভাব্য
ফল হলো,
কিছু প্রভাবশালী
প্লাটফর্ম খণ্ডিত
গ্রাহক ভিত্তিতে
প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ
করবে, বিভিন্ন
আর্থিক ইকোসিস্টেমে
যারা অবস্থান
করে। এক্ষেত্রে
একটি প্লাটফর্মে
নিজেদের চাহিদা
নিবন্ধন করবেন
গ্রাহকরা এবং
আর্থিক সেবা
প্রদানকারীরা সেগুলো
সরবরাহ করতে
প্রতিযোগিতা করবে।
প্লাটফর্মভিত্তিক প্রতিযোগিতা
এবং গ্রাহকসেবার
মাত্রা এক
ইকোসিস্টেম থেকে
অন্য ইকোসিস্টেমে
স্থানান্তরিত করার
ব্যয়ের ওপর
নির্ভর করবে।
মূলধন পর্যাপ্ততা
শর্তের সময়সীমা
বাস্তবায়ন শিথিল
করার মাধ্যমে
ব্যাংক নিয়ন্ত্রকরা
এরই মধ্যে
মহামারী-পরবর্তী
বিশ্বের সঙ্গে
অভিযোজিত হয়েছে।
এছাড়া আর্থিক
স্থিতিশীলতা সুরক্ষার
প্রয়োজনে তাদের
প্রতিযোগিতা ও
উদ্ভাবনে ভারসাম্যের
জন্য ডিজিটাল
ব্যাহতকরণ (ডিজিটাল
ডিজরাপশন) দরকার
হবে।
সেটাই করার
উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রকদের
অবশ্যই একটি
সমতল ক্ষেত্র
নিশ্চিত এবং
প্রুডেন্সিয়াল রেগুলেশন
ও প্রতিযোগিতা
তথ্য নীতির
সঙ্গে সমন্বয়
নিশ্চিত করতে
হবে। তার
জন্য সিস্টেমের
স্থিতিশীলতা, অখণ্ডতা,
কার্যকারিতা, প্রতিযোগিতা
সক্ষমতা এবং
গোপনীয়তার মধ্যে
জটিল ট্রেড
অফ নেভিগেট
করা প্রয়োজন
হবে।
মহামারী এবং
তজ্জনিত প্রভাব
আর্থিক ব্যবস্থা
এবং ২০০৭-০৯
সালের সংকটের
পর প্রবর্তিত
বিধিমূলক-নিয়ন্ত্রণমূলক
সংস্কারগুলোর স্থায়িত্বশীলতাকে
পরীক্ষায় ফেলবে।
আইইএসই ব্যাংকিং
স্কুলস ব্যাংকিং
ইনিশিয়েটিভের প্রথম
প্রতিবেদনে পরিসমাপ্তি
টানা হয়েছে
যে এসব
পদক্ষেপ ব্যাংকিংকে
আরো সুদৃঢ়
করেছে, তবে
বিশেষত ছায়া
ব্যাংকিং সম্পর্কে
কিছু কাজ
করা এখনো
বাকি রয়ে
গেছে।
বর্তমান সংকটের
প্রতি সাড়া
বিশেষত ইউরোপে
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
হস্তক্ষেপের সীমার
পরিধি বাড়াবে,
যেখানে সভরেন-ডেট
স্থায়িত্বশীলতা মধ্যমেয়াদে
আরো গুরুত্বপূর্ণ
ইস্যুতে পরিণত
হতে পারে।
অধিকন্তু, চলমান
সংকট ইউরোজোনের
ব্যাংকিং ইউনিয়নকে
পরীক্ষায় ফেলবে,
কমন ডিপোজিট
ইন্স্যুরেন্স ছাড়া
যে ইউনিয়ন
অসম্পূর্ণ থেকে
যায়।
বিদ্যমান অর্থনৈতিক
সংকট প্রশমনে
একটি গঠনমূলক
ভূমিকা পালনের
মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর
সামনে নিজেদের
ভঙ্গুর পাবলিক
ইমেজ উন্নয়নের
একটি সুযোগ
আছে। তবে
কভিড-১৯-এর
বাস্তবতায় খাতটির
ডিজিটালাইজেশন ও
পুনর্গঠন ত্বরান্বিত
হওয়ার কারণে
তাদের ভবিষ্যৎ
শিগগিরই আরো
অনিশ্চিত হতে
পারে।
[স্বত্ব:
প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
]
জেভিয়ার ভাইভস: আইইএসই
বিজনেস স্কুলের
ইকোনমিকস অ্যান্ড
ফিন্যান্সের অধ্যাপক
ভাষান্তর: হুমায়ুন কবির










