[গতকালেরপর]

গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয়

এসওসিসহ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইসেন্সিদের রাজস্ব চাহিদায় ‘ডব্লিউপিএফ’ ও ‘করপোরেট কর’ সমন্বয় হবে না। কারণ তা লাইসেন্সিদের নিট মুনাফা থেকে প্রদেয়। পিএসসির মতে, আইওসিকে সরকার ‘করপোরেট কর’ দিতে পারে কিন্তু ভোক্তা নয়। বিইআরসি কর্তৃক প্রণীত প্রবিধানের বিধানাবলির অজুহাতে তা রাজস্ব চাহিদাভুক্ত করে ভোক্তাদের কাছ থেকে অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তাই সঞ্চালন ও বিতরণে রাজস্ব চাহিদা নির্ধারণে ডব্লিউপিএফ ও করপোরেট কর ক্যাবের প্রস্তাবে বিবেচনা করা হয়নি। কারণ প্রবিধানের কোনো বিধান সংশ্লিষ্ট আইনের সঙ্গে যদি সামঞ্জস্যহীন হয় তাহলে সে বিধান অকার্যকর ও বাতিলযোগ্য। সংশ্লিষ্ট আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রবিধান প্রণয়ন করা বাধ্যতামূলক। বিইআরসি প্রবিধান প্রণয়নে তার ব্যত্যয় ঘটিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যমান সঞ্চালন ক্ষমতার উল্লেখযোগ্য অংশ অব্যবহূত থাকে বা স্বল্প ব্যবহার হয়। জিটিসিএলকে প্রদত্ত বিইআরসির গত ৩১ মার্চের পত্রে যাচিত তথ্যের ব্যাপারে কিছু আলামত পাওয়া যায়। ২০১৫ সালে জিটিসিএলের সঞ্চালন চার্জহার ছিল ০.১৫৬৫ টাকা। ২০১৯ সালের আদেশে তা হয় ০.৪৩৩৫ টাকা। অর্থাৎ প্রায় তিন গুণ। জিটিসিএল প্রস্তাব করেছে ০.৭৩১৮ টাকা। টিসি প্রস্তাব করেছে ০.৪৮৯০ টাকা। তবে ঋণের আসল ও নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাবদ ব্যয়হার ০.২৪০৫ টাকা সমন্বয় হলে তা হবে ০.৯৭ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ গুণেরও বেশি। ক্যাবের প্রস্তাবে জিটিসিএলের রাজস্ব চাহিদায় ডব্লিউপিএফ ও করপোরেট কর সমন্বয় হয়নি। ফলে বিদ্যমান চার্জহারে জিটিসিএলের রাজস্ব উদ্বৃত্ত ৪৫.১৩ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে টিসি জিটিসিএলের নিট মুনাফা ও অবচয় প্রস্তাব করেছে যথাক্রমে ৪৫৬.৭৩ ও ৪৪২.৬১ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের আদেশে সঞ্চালনে নিট মুনাফা ও অবচয় ব্যয় ছিল যথাক্রমে ১১৩.৪৮ ও ১৪৮.৬৫ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের আদেশে সঞ্চালনে নিট মুনাফা ও অবচয় ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৬২০.৬০ ও  ৪৬৭.৪০ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২২ সালে জিটিসিএলের সঞ্চালন ও অবচয় ব্যয় এবং নিট মুনাফা বৃদ্ধি পায় যথাক্রমে ৫১৯.৮১ ও ২১৪.৪৩ ও ৬৯১.৬০ শতাংশ। অথচ সঞ্চালনে ইনটেক গ্যাস ছিল ২০১৫ সালে ২৬৫২২.৪৯ ঘনমিটার এবং ২০২২ সালে হবে ২৬৩৯৩.০৪ ঘনমিটার। অর্থাৎ ২০২২ সালে জিটিসিএল কর্তৃক ২০১৫ সালের তুলনায় ০.৪৯ শতাংশ গ্যাস কম সঞ্চালন হবে। মুনাফা ও অবচয় তথা সঞ্চালন ক্ষমতা অব্যাহত বৃদ্ধি গ্যাস সঞ্চালন বৃদ্ধির সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং তা অস্বচ্ছতার প্রমাণ। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিইআরসি আইনের ২২(ঘ) উপধারা মতে, লাইসেন্সির সামগ্রিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে গৃহীত স্কিম অনুমোদনের একক এখতিয়ার বিইআরসির। অথচ জিটিসিএল কর্তৃক গৃহীত কোনো স্কিম/প্রকল্পে বিইআরসির কোনো অনুমোদন নেই। সঞ্চালন ক্ষমতা উন্নয়নে গৃহীত কোনো প্রকল্পে গ্যাসপ্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা আছে কিনা, এ তথ্য কোথাও পাওয়া যায়নি। গ্যাস আমদানি, অনুসন্ধান, উৎপাদন ও বিতরণও এমন অবস্থার শিকার। তাই সঞ্চালন ও অবচয় ব্যয় এবং মুনাফা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা বিইআরসির জন্য কেবল সঞ্চালনেই জরুরি নয়, অন্য সব ক্ষেত্রেও জরুরি। গণশুনানিতে সঞ্চালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সঞ্চালন ক্ষমতা যে অনুপাতে ব্যবহার হবে, সে অনুপাতে অবচয় ব্যয় রাজস্ব চাহিদায় সমন্বয় করে সঞ্চালন চার্জহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত জিটিসিএলের মুনাফার মার্জিন স্থগিত রেখে ব্রেক ইভেনে পরিচালিত হওয়ার আদেশ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতিটি বিতরণ লাইসেন্সির বিতরণ চার্জ শূন্য হলেও তাদের প্রত্যেকের ব্যয় অপেক্ষা আয় এত বেশি যে আয় দ্বারা ব্যয় সমন্বয় হওয়ার পরও প্রত্যেকেরই কম-বেশি রাজস্ব উদ্বৃত্ত থাকে। তার পরও টিসি তাদের প্রত্যেককে ০.২৫ টাকা হারে বিতরণ চার্জ দেয়ার প্রস্তাব করেছে। ক্যাবের প্রস্তাবে বিতরণ চার্জ  ০.২৫ টাকা ধরা হয়েছে এবং তা রাজস্ব চাহিদাবহির্ভূত তথা উদ্বৃত্ত রাজস্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ক্যাবের প্রস্তাব মতে বিতরণে উদ্বৃত্ত আয় ও সব চার্জ মিলিয়ে উদ্বৃত্ত রাজস্ব ১৬০৯.৬৬ কোটি টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৬৩৮.৭৮ কোটি টাকা। সব উদ্বৃত্ত রাজস্ব সমন্বয়ে বিইআরসির অধীনে এনার্জি প্রাইস স্ট্যাবিলাইজড ফান্ড (জ্বালানি মূল্যস্থিতি তহবিল) গঠনের জন্য ক্যাব প্রস্তাব করেছে।

টিসির প্রস্তাবে তিতাসকে বিনিয়োগকৃত মূলধনের ওপর ১০ শতাংশ মুনাফা এবং শুধু তিতাসকেই ২ শতাংশ সিস্টেম লস প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই মুনাফা ব্যক্তি খাত এলপিজি লাইসেন্সিদের তুলনায় অবশ্যই কম হতে হবে। কারণ এ বিনিয়োগ শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত। তাই ওই মুনাফা প্রস্তাবে ক্যাবের আপত্তি রয়েছে। সরকরি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তিতাসে অবৈধ গ্যাস সংযোগ চলছে। মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ৭৭ ঘনমিটার গ্যাসের মূল্য নেয়া হয়, দেয়া হয় গড়ে ৪০ ঘনমিটারেরও কম। উদ্বৃত্ত গ্যাস একদিকে তছরুপ হয়, অন্যদিকে ভোক্তা প্রতারিত হন। তিতাসের রাজস্ব চাহিদা প্রাক্কলনে এ তছরুপকৃত গ্যাস সমন্বয় না করে তিতাসকে ২ শতাংশ সিস্টেম লস সুবিধা দেয়ায় ভোক্তাদের আপত্তি রয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিইআরসির আদেশ প্রতিপালনে ছাড় দিয়ে এ অবস্থা বছরের পর বছর জিইয়ে রাখার দায়ে তিতাসকে পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত কস্ট প্লাসের পরিবর্তে কস্ট বেসিসে পরিচালনার জন্য ভোক্তাপক্ষ প্রস্তাব করেছে এবং সেই সঙ্গে তিতাসের বিরুদ্ধে বিইআরসি আইনের ৪৩ ও ৪৬ ধারা মতে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যয়

গ্যাস উন্নয়ন তহবিল (জিডিএফ) ও জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলের (ইএসএফ) অর্থ রাজস্ব চাহিদাবহির্ভূত। তাই তা বাদে লাইসেন্সিদের রাজস্ব চাহিদা নির্ধারণ হবে। ক্যাবের প্রস্তাবে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়কৃত গ্যাসে প্রদত্ত ১৫ শতাংশ ভ্যাটে আমদানি পর্যায়ে এলএনজির ওপর প্রদত্ত ভ্যাট ক্যাবের প্রস্তাবে সমন্বয় করা হয়েছে। সে ভ্যাট টিসির প্রস্তাবে সমন্বয় করা হয়নি।

বিদ্যমান ভর্তুকিতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহে ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব চাহিদা ছিল ১০ দশমিক ৯৭ টাকা এবং নির্ধারিত পরিমাণ অপেক্ষা এলপিজি কম সরবরাহের কারণে রাজস্ব উদ্বৃত্ত থাকে ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৫৩৭.৯১ কোটি টাকা। মূলত বিদ্যমান ভর্তুকি ১০৭৯২ কোটি টাকা ও উদ্বৃত্ত রাজস্ব ২৫৩৭.৯১ কোটি টাকা এলএলজি আমদানি পর্যায়ে সমন্বয় করে, ডব্লিউপিএফ ও করপোরেট কর লাইসেন্সিদের রাজস্ব চাহিদায় সমন্বয় না করে, এলএনজি আমদানি পর্যায়ে প্রদত্ত ভ্যাট ভোক্তা পর্যায়ে প্রদত্ত ভ্যাটে সমন্বয় করে এবং সঞ্চালন ও বিতরণ পর্যায়ে উদ্বৃত্ত রাজস্ব সমন্বয় না করে ক্যাব ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্যহার ভারিত গড়ে ৯.৫৩ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে। অর্থাৎ গ্যাসের মূল্যহার ০.১৬ টাকা কমানোর প্রস্তাব করেছে। গ্যাস তছরুপ প্রতিরোধে মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকদের মাসিক গ্যাসের চাহিদা ৭৭ ঘনমিটারের পরিবর্তে ৪০ ঘনমিটার ধরে কেবল তাদের ব্যবহূত গ্যাসের মূল্যহার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অবশ্য অন্য সব শ্রেণীর গ্রাহকের জন্য বিদ্যমান মূল্যহার বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। শুনানিতে বিইআরসির কর্তৃত্বে এসওসির গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন প্রকল্পগুলোয় বিইআরসি অনুমোদিত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে সরাসরি অর্থ বরাদ্দ ও বণ্টনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অভিমত

(ক)   শুনানির শুরুতেই ক্যাব প্রতিনিধি বলেন, গণশুনানিতে ভোক্তাপক্ষের অংশগ্রহণ অর্থবহ করার লক্ষ্যে বিইআরসির মাধ্যমে লাইসেন্সিদের কাছ থেকে এর আগে নির্দিষ্ট তিনটি ছকে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য চাওয়া হয়। মাত্র তিনটি লাইসেন্সির কাছ থেকে যত্সামান্য তথ্য পাওয়া যায়। তা কোনো কাজে আসেনি। বিষয়টি বিইআরসির চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অবগত করা হলে বিইআরসি থেকে প্রেরিত ২০.৩.২০২২ তরিখে ই-মেইল মারফত জরুরি এক পত্রে ২১.৩.২০২২ তারিখ দুপুর ১২টার মধ্যে ক্যাব কর্তৃক যাচিত তথ্যাদি নির্ধারিত ছকে বিইআরসিতে পাঠানোর জন্য বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো তথ্য না পাওয়ায় শুনানিতে ক্যাবের পক্ষ থেকে ১০ দিন সময় বৃদ্ধির অনুরোধ করা হয়। আজ পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এই যদি অবস্থা হয় তাহলে গণশুনানি ও বিইআরসি উভয়ই কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

(খ) দেশীয় কোম্পানিগুলোর (SOCs) গ্যাস উত্পাদন ক্ষমতা কম-বেশি ১১৪৫ এমএমসিএফডি। অথচ উত্পাদন হয় ৮৪১.৪ এমএমসিএফডি। ৩০৩.৬ এমএমসিএফডি (২৬.৫২%) কম উত্পাদন হয়। বলা হয়, উত্পাদন ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে। বিদেশী কোম্পানিগুলোর (IOCs) উত্পাদন ক্ষমতা ২৭৬০ এমএমসিএফডি। উত্পাদন হয় ২২৮৬.৩ এমএমসিএফডি এবং জানা যায়, পরবর্তী সময়ে উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে ৭৫.৯ এমএমসিএফডি। তখন উত্পাদন হবে ২৩৬২.২ এমএমসিএফডি। উত্পাদন ক্ষমতার তুলনায় ৩৯৭.৮ (১৪.৪১%) এমএমসিএফডি কম উত্পাদন হয়। এসওসি ও আইওসির গ্যাস উত্পাদন যথাক্রমে হ্রাস ও বৃদ্ধির এমন তারতম্যের কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা গণশুনানিতে পাওয়া যায়নি।

(গ) উৎপাদনে থাকা এসওসির কূপগুলো থেকে গ্যাস উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত পরামর্শক প্রকল্পের আওতায় ২০১১ সালে উত্পাদনে থাকা ৫৯ এবং না থাকা কিছু সংখ্যক গ্যাস কূপ মূল্যায়ন করা হয়। তাতে দেখা যায়, কিছু সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হলে উত্পাদনে থাকা কূপগুলো থেকে গ্যাস উত্পাদন বৃদ্ধি করা এবং উত্পাদনে না থাকা কোনো কোনো কূপকে উত্পাদনে আনা সম্ভব। ওই প্রকল্প প্রতিবেদনে বর্ণিত সুপারিশে বলা হয়, ১২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে গ্যাস উত্পাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব ৪০০-৮০০ এমএমসিএফডি। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের পর্যাপ্ত অর্থ মজুদ থাকা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে কোনো কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। অর্থাত্ গ্যাস সংকট আসন্ন জেনেও এসওসিকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। অথচ সান্তোসের অযাচিত প্রস্তাবে (নাইকোর অনুরূপ) বাপেক্সের আপত্তি সত্ত্বেও ২০১৬ সালে মগনামা ২ অনুসন্ধান কূপ খননে বাপেক্স ও সান্তোসের মধ্যে অবৈধ সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সে অনুসন্ধানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস পাওয়া যায়নি। ২৬২ কোটি টাকা নষ্ট হয়। জনস্বার্থবিরোধী এমন সব কার্যক্রম গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং এলএনজি ও পরবর্তী সময়ে স্পট মার্কেট থেকে চড়া মূল্যে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্র তৈরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

(ঘ) এলএনজি আমদানি ক্ষমতা ১০০০ এমএমসিএফডি। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি আমদানি চূড়ান্ত করা হয়। চুক্তির তুলনায় কম মূল্যহারে স্পট মার্কেটে থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগও বিবেচনায় রাখা হয়। অতঃপর ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ঘনমিটার ৩০.৩৭ টাকা মূল্যে ৮৫০ এমএমসিএফডি চাহিদা ধরে ২০১৯ সালে বিইআরসি ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্যহার নির্ধারণ করে। তবে তথ্য দিতে দেখা যায়, চুক্তির আওতায় আমদানীকৃত এলএনজি সরবরাহ হয়েছে গত অর্থবছরে গড়ে ৫০৬.০৬ এমএমসিএফডি। গ্যাস সংকট মোকাবেলায় স্পট মার্কেট থেকে প্রতি ঘনমিটার ৮৩.৪৭ টাকা দরে এলএনজি আমদানি করা দরকার এ বিবেচনায় মূলত পেট্রোবাংলা ও টিসি উভয় প্রস্তাব করেছে। পার্থক্য পেট্রোবাংলা ভর্তুকি বিবেচনা করেনি, টিসি করেছে। ভোক্তাপক্ষ উভয় প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিদ্যমান ভর্তুকি সমন্বয়ে ভোক্তা পর্যায়ে ভারিত গড়ে  ০.১৬ টাকা মূল্যহার কমানোর প্রস্তাব করেছে।

(ঙ) ২০১৯ সালের গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির আদেশে দেখা যায়, প্রতি হাজার ঘনফুট এলএনজির গড় ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৯.১৪৯৫ ডলার। সে সময় ভারতে ক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ৬ ডলার। অতীতে জ্বালানি তেল ক্রয়ের অভিজ্ঞতায় এলএনজি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে ভোক্তাদের সন্দেহ রয়েছে। সময়-সুযোগমতো স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করা হলে ক্রয়মূল্য কম হয়, এ ধারণায় আদেশে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি গুরুত্ব পায়। কখন মূল্য কম-বেশি হয়, এ সম্পর্কে পূর্বাভাস পাওয়া অসম্ভব নয়। অভিযোগ রয়েছে, আগে স্পট মার্কেট থেকে কম মূল্যে এলএনজি আমদানির যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যখন মূল্য সর্বাধিক তখন আমদানি করা হলো। অথচ এ অভিযোগ আমলে নেয়া হলো না। অতি উচ্চমূল্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ে ভোক্তারা সম্মত কিনা, তা বিবেচনায় আসেনি। বিইআরসির মতামতও নেয়া হয়নি। বৈধতার প্রশ্নে এ ক্রয় প্রশ্নবিদ্ধ। তাই স্পট মার্কেট থেকে ক্রয়কৃত এলএনজিজনিত আর্থিক ঘাটতি ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্যহার সমন্বয়ে ভোক্তাদের আপত্তি রয়েছে।

(চ) ওই আদেশের ৭.১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘গণশুনানিতে এবং গণশুনানি পরবর্তী মতামতে দেশীয় গ্যাস উত্পাদন বৃদ্ধি এবং সমুদ্রবক্ষে গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়িয়ে স্থলভাগে ও সমুদ্রবক্ষে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ওপর জোর দেয়া, ছাতক (পূর্ব) গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনে গুরুত্বারোপ করা, গ্যাসের চাহিদা না থাকায় ভোলা গ্যাসক্ষেত্রের স্বল্প ব্যবহূত উত্পাদন ক্ষমতার ব্যবহার বৃদ্ধি নিশ্চিত করা, বাপেক্স সম্পর্কিত বিষয়ে পক্ষজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিটি গঠন, বিভিন্ন পক্ষজনকে নিয়ে জ্বালানি মনিটরিং কমিটি গঠন, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাত সংস্কার প্রস্তাব ও অন্যান্য বিষয়ে বক্তব্য এসেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ অনুযায়ী এসব বিষয় কমিশনের আওতাভুক্ত নয়।’ বিইআরসির এ বক্তব্যে ভোক্তাদের ভিন্ন মত রয়েছে। বিইআরসি আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যে যা কিছু করা দরকার, তার মধ্যে আইনের ২২(ট) উপধারা মতে ভোক্তাবিরোধ নিষ্পত্তি ও অসাধু ব্যবসার প্রতিকার করা। তাছাড়া ২২(ঝ) উপধারা মতে সরকারকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া। কিন্তু বিইআরসির এমন ভূমিকা জ্বালানি বিভাগের প্রত্যাশিত নয়। হাইকোর্ট এ প্রশ্নে একাধিক রায়ে বলেছে, বিইআরসি নিষ্ক্রিয়।

(ছ) বিউবোর মালিকানায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদ্যুত্ উন্নয়ন তহবিল গঠিত হয়। সে তহবিলের অর্থ বিনিয়োগে ভোলায় বিউবো গ্যাস বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারত। এমন প্রস্তাবও বিউবোর ছিল। কিন্তু তা হয়নি। বিইআরসি আইন লঙ্ঘন করে সে তহবিলের অর্থে পায়রায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে প্রায় ৬০ শতাংশ ইকুইটি বিনিয়োগ করা হয়। ক্যাব ওই ইকুইটি বিনিয়োগের অনুপাতে ভোক্তাদের জন্য পায়রা বিদ্যুেকন্দ্রের মালিকানার শেয়ার চায়। এ বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিইআরসি নিষ্ক্রিয়। কারণ তাতে বিদ্যুত্ বিভাগের সংশ্লিষ্টতা এবং আপত্তি রয়েছে।

(জ) ভেড়ামারা পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্রের বিদ্যুত্ ঢাকায় আনার জন্য সঞ্চালন লাইন হচ্ছে। তাতে সঞ্চালন ব্যয় বাড়ছে। তা না করে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে এ বিদ্যুত্ ব্যবহার হলে যমুনার ওপার থেকে এ অঞ্চলে বিদ্যুত্ পাঠাতে হতো না। ওপারে তেল এবং এপারে গ্যাসের চাহিদা কম হতো, এমন সব পরামর্শ সরকারকে দেয়া বিইআরসির দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তা যদি গণশুনানির প্রস্তাব হয় তাহলে সে পরামর্শের গুরুত্ব বাড়ে। ২২(ঘ) ধারায় প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে জ্বালানি পরিকল্পনার ভিত্তিতে লাইসেন্সিদের স্কিম তৈরিতে বিইআরসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বিইআরসির নিষ্ক্রিয়তার কোনো গ্রহণযোগ্য অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় না। 

(ঝ) বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকেই রশিদপুর ৯ নং কূপ গ্যাস উত্পাদনে প্রস্তুত। ৯ নং কূপ থেকে উত্পাদনে থাকা ৬ নং কূপ পর্যন্ত একটি গ্যাস পাইপলাইন বসালেই অতিরিক্ত ১০-১২ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া সম্ভব। অথচ তা করা হয় না! রশিদপুর ৬ নং কূপের প্রেসার নিয়ন্ত্রণ ভাল্ব সরিয়ে নিলেই অতিরিক্ত ২ এমএমসিএফডি গ্যাস গ্রিডে আনা সম্ভব। অথচ তা করা হয় না! কৈলাসটিলায় অপ-ডিপে ৬ নং কূপ থেকে ২২ এমএমসিএফডি গ্যাস উত্পাদন হচ্ছে। অথচ ডাউন-ডিপে থাকা ২ ও ৩ নং কূপ থেকে পানি আসায় উত্পাদন বন্ধ আছে। কারণ খুঁজে দেখা হয়নি। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থে গৃহীত কার্যক্রমের তালিকা তো কম দীর্ঘ নয়। অথচ উল্লিখিত কার্যক্রমগুলো সে তালিকায় অনুপস্থিত।

(ঞ ) বিইআরসির বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের ১ আগস্ট। ২০২১ সালের ১ জুন পর্যন্ত তহবিলে জমা হয় মোট ১৬ হাজার ৭৭৫ দশমিক ৮৮ কোটি টাকা। ৩৫টি প্রকল্পে গত ১২ বছরে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৭০৯ দশমিক শূন্য ৭ কোটি টাকা। বিনিময়ে কত উত্পাদন ব্যয় হারে কী পরিমাণ গ্যাস গ্রিডে যোগ হয়েছে তা উল্লেখ নেই। চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৩৯ দশমিক ৭২ কোটি টাকা এবং ফল হিসেবে বলা হয়েছে, জকিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস মজুদ পাওয়া গেছে ৬৮ বিলিয়ন ঘনফুট। সিলেট ৫ নং উন্নয়ন কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে এবং উত্পাদন হবে দৈনিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ছয়টি কূপ ওয়ার্কওভার শেষে প্রতিদিন ৯৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। তথ্যাদিতে দেখা যায়, এ তহবিলের অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং ব্যয় পরিকল্পনাধীন রয়েছে সব মিলিয়ে মোট অর্থের ৩৭ শতাংশ মাত্র। ওই তহবিলের অর্থ ব্যয়ে অক্ষমতার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বিইআরসির আদেশ ও বিইআরসি অনুমোদিত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যয় হতে হবে। অথচ বিইআরসির কোনো আদেশই প্রতিপালিত হয়নি এবং বিইআরসি অনুমোদিত কৌশলগত পরিকল্পনার কোনো অস্তিত্ব নেই। তাহলে ওই তহবিলের অর্থ ব্যয় হয় কীভাবে? এ প্রশ্নের জবাব শুনানিতে পাওয়া যায়নি।

(ট) আইওসি অপেক্ষা কম ব্যয়হার এবং বেশি অনুপাতে এসওসিরা গ্যাস উত্পাদন করবে, নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্পাদনে ভোক্তাদের বিনিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোক্তা প্রস্তাবে বিইআরসি গ্যাস উন্নয়ন তহবিল গঠন করে। ২০১৯ সালে উত্পাদন ব্যয়হার ছিল আইওসির ২ দশমিক ৫৫ টাকা। অথচ বাপেক্সের ক্ষেত্রে এ ব্যয় ৩ দশমিক শূন্য ৪১৪ টাকা। যেকোনো বিবেচনায় বলতেই হবে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল ব্যর্থ এবং ভোক্তা প্রতারণার শিকার। জাতীয় সক্ষমতার বিপর্যয়ের এই এক অন্যন্য দৃষ্টান্ত। তাই এ বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা আবশ্যক। পেট্রোবাংলা ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করে ওই তহবিল বিইআরসির নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।

(ঠ) এলএনজি আমদানিতে অর্থায়ন ও গ্যাসে ভর্তুকি প্রদানের লক্ষ্যে রাজস্ব চাহিদার অতিরিক্ত অর্থে ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিইআরসি জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল গঠন করে। জুন ২০২১ পর্যন্ত এ তহবিলে মোট ১২৯১৭.৪৩ কোটি টাকা সংগৃহীত হয়েছে। ব্যয় অনুমোদন হয়েছে ৯২২৭.৪৪ কোটি টাকা। তার মধ্যে গ্যাসে ভর্তুকি বরাদ্দ ছিল ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ হাজার ৪২৬ দশমিক ৪৫ কোটি টাকা। এ তহবিলে বছরে সংগৃহীত হয় ২৮৪১ কোটি টাকা। যে পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দেয়া হয়, তা রাজস্ব চাহিদাভুক্ত হওয়ায় ভোক্তাকে প্রায় ১.৪ গুণ বেশি পরিশোধ করতে হয়। ভর্তুকির নামে এও এক অভিনব লুণ্ঠন। যেহেতু উভয় তহবিল রাজস্ব চাহিদার অতিরিক্ত, সেহেতু উভয় তহবিলে সংগৃহীত সমুদয় অর্থ সরকারের আরোপিত রাজস্ব ও কোম্পানির হিস্যামুক্ত হওয়া ন্যায্য ও যৌক্তিক। তাছাড়া গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে ভোক্তা অনুদান কমিয়ে সে অর্থে রাজস্ব চাহিদাবহির্ভূত গবেষণা তহবিল গঠনে ভোক্তাপক্ষের আপত্তি রয়েছে। এ তহবিল ব্যবহারে বিইআরসির দক্ষতা ও সক্ষমতায় যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইনি দায়িত্ব পালনে তার নিষ্ক্রিয়তা উচ্চ আদালতের রায়ে প্রতিফলন ঘটেছে। বিদ্যমান চরম সংকটে সে প্রস্তাবই গ্রহণযোগ্য, যে প্রস্তাব মূল্যহার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে পারে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, টিসির প্রস্তাবে তেমন কিছু অনুপস্থিত।

(ড) বিইআরসির কারিগরি কমিটি (টিসি) রি-গ্যাসিফিকেশন চার্জ ও পেট্রোবাংলার চার্জ ২০২০-২১-এর তুলনায় ২০২১-২২-এ প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেছে, যা ন্যায্য ও যৌক্তিক বলে প্রমাণিত নয়। লাইসেন্সিদের কাছ থেকে বিইআরসি কর্তৃক গৃহীত ফিও ন্যায্য ও যৌক্তিক বলে প্রমাণিত নয়। গণশুনানি ব্যতীত এমন সব চার্জ নির্ধারণ বিইআরসি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিইআরসি আইনের ৩৪(২)(খ) উপধারা মতে, গ্যাস সরবরাহ ব্যয়ের সঙ্গে মূল্যহার বা চার্জহার নির্ধারণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অতএব, ওইসব চার্জ ও ফি আইনানুগভাবে গণশুনানির ভিত্তিতে নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান চার্জ ও ফি বহাল রাখার প্রস্তাব করা হলো।

(ঢ) ভোক্তা পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটে এলএনজি আমদানিতে প্রদত্ত ভ্যাট সমন্বয় না করা অন্যায় ও অযৌক্তিক বিধায় তা সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হলো। প্রয়োজনে বিইআরসি, পেট্রোবাংলা ও এনবিআরের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সভা হতে পারে। 

(ণ) সব পর্যায়ের লাইসেন্সির প্রস্তাবিত রাজস্ব চাহিদায় করপোরেট কর ও শ্রম কল্যাণ তহবিলের অর্থ অন্তর্ভুক্ত। অথচ যা লাইসেন্সিদের মুনাফার অংশ, রাজস্ব চাহিদার নয়। বিইআরসি প্রণীত প্রবিধানমালার বিধানের অজুহাতে লাইসেন্সিদের রাজস্ব চাহিদায় তা সমন্বয় করে তার ওপর আরোপিত ট্যাক্স-ভ্যাট ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করা ন্যায্য ও যৌক্তিক নয়। তাই করপোরেট কর ও শ্রম কল্যাণ তহবিলের অর্থ লাইসেন্সির প্রস্তাবিত রাজস্ব চাহিদায় অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি রইল।

(ত) গ্যাস সরবরাহের সব পর্যায়ের ট্যাক্স-ভ্যাট, লাইসেন্সিদের মুনাফা এবং অযৌক্তিক ব্যয় কমিয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কী করণীয়, লাইসেন্সিদের প্রস্তাব ও টিসিসির মূল্যায়ন প্রতিবেদনে তা মোটেও বিবেচনা করা হয়নি। তা করা হলে সরকার ভর্তুকি ও ভোক্তা মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাতমুক্ত হতো। অতএব, সে লক্ষ্যে পক্ষদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হলো।

(থ)    সিস্টেম লস সুবিধা দিয়ে গ্যাসের মূল্যহার নির্ধারণ করে গ্যাস চুরি ও পরিমাপে কারচুপিকে সুরক্ষা দেয়া হয়। চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে অস্বাভাবিক মূল্যে লাইসেন্সিরা সম্পদ অর্জন করে এবং সে সম্পদ স্বল্প ব্যবহূত বা অব্যবহূত থাকলেও তা মূল্যহারে সমন্বয় হয়। ফলে মূল্যহার লুণ্ঠনমূলক বলে বিবেচিত এবং ভোক্তারা অধিকার থেকে বঞ্চিত। এ প্রশ্নে কী করণীয় তা লাইসেন্সি কিংবা টিসির প্রস্তাবে বিবেচিত হয়নি। বরং প্রবিধানের অজুহাতে তা বজায় রাখা হচ্ছে, যা অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য।

(দ)২০১৯ সালে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির আদেশের ৮.১২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘পেট্রোবাংলা ও বিউবো একটি ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের আওতায় বিদ্যুতের একক ক্রেতার আওতাধীন বিদ্যুেকন্দ্রগুলোয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে গড়ে ১৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে।’ অথচ নিশ্চিত হয়নি। অর্থাত্ বিইআরসির আদেশ প্রতিপালিত হয়নি। প্রতিপালিত না হওয়ার যুক্তিসংগত কোনো কারণও পেট্রোবাংলা শুনানিতে উপস্থাপন করেনি। বিইআরসিও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ৮৩.৪৭ টাকা দরের এলএনজি আনা হলেও বিদ্যুত্ উত্পাদনে নির্ধারিত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। ফলে অতি উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি প্রশ্নবিদ্ধ।

(ধ) ২০১৫ সালে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির আদেশের ১০(১) উপানুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গ্যাসের অপচয় ও অপরিকল্পিত ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে নিম্নের পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে সময়াবদ্ধ কার্যব্যবস্থা ৩১.১২.২০১৫ তারিখের মধ্যে বিইআরসিতে দাখিল করতে হবে।

    (১) গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক শ্রেণীতে গ্রাহকদের জন্য প্রিপেইড মিটার চালুকরণ;

(২) সিএনজি, শিল্প, চা-বাগান, বিদ্যুত্, ক্যাপটিভ পাওয়ার ও সার শ্রেণীতে গ্রাহকদের জন্য ইভিসি মিটার চালুকরণ এবং 

           (৩) সব বিধিবহির্ভূত বিতরণ নেটওয়ার্ক ও সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ।

অদ্যাবধি সময়াবদ্ধ কার্যব্যবস্থা দাখিল করা হয়নি। বিইআরসির কোনো আদেশই প্রতিপালিত হয়নি। বরং টিসি অপচয় ও অপরিকল্পিত ব্যবহারজনিত গ্যাস সমন্বয় না করে ২০ শতাংশ মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। তাছাড়া টিসি প্রস্তাবে সিস্টেম লস সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহে ১ দশমিক ৪ শতাংশ ধরা হয়েছে এবং বিতরণে তিতাসের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ সমন্বয় সুবিধা দেয়া হয়েছে, যা বিইআরসি ওই আদেশের পরিপন্থী এবং বাতিলযোগ্য। ওই আদেশের ১০(৩) উপানুচ্ছেদে বলা হয়েছে, শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ ব্যয়সংক্রান্ত শ্রম আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর কোনটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তার ওপর প্রতিবেদন ৩১.১২.২০১৫ তারিখের মধ্যে বিইআরসিতে পাঠাতে হবে। এ আদেশও প্রতিপালিত হয়নি বলে শুনানিতে জানা যায়।

(ন) গ্যাস খাতে নিয়োজিত কোন কোন লাইসেন্সির ওপর বিইআরসি কী কী আদেশ-নির্দেশ দিয়েছে এবং কোনটি প্রতিপালিত হয়েছে বা হয়নি, তার ওপর কোনো প্রতিবেদন বিইআরসিতে নেই। শুনানি চলাকালে ওই প্রতিবেদন শুনানিতে উপস্থানের জন্য বলা হলেও তা উপস্থাপিত হয়নি। তাছাড়া ক্যাব আনীত যেসব অভিযোগ বিইআরসিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, সে ব্যাপারে ক্যাব একাধিকবার তাগাদা দিয়েছে এবং বিইআরসির চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তার তালিকা প্রস্তুত করার জন্য একাধিকবার আদেশ দিয়েছেন, সে আদেশও প্রতিপালিত হয়নি।

(প) যেহেতু স্পট মার্কেট থেকে ৮৩ দশমিক ৪৭ টাকা মূল্যহারে আমদানীকৃত এলএনজির কারণে উদ্ভূত ঘাটতি ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের মূল্যহারে সমন্বয়ে ভোক্তাদের আপত্তি রয়েছে এবং যেহেতু ওপরে বর্ণিত অসংগতির কারণে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় বৃদ্ধিতে মূল্যবৃদ্ধি, সেহেতু গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে আপত্তি রইল। তাছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্যক্তি/লাইসেন্সির বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষার্থে বিইআরসি আইনের ৪৬ ধারার আওতায় শুনানিতে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তাব করা হয়েছে।


সুপারিশ/প্রস্তাব

(ক) সব সঞ্চালন ও বিতরণ লাইসেন্সির চার্জহার পরিবর্তন প্রস্তাব ন্যায্য ও যৌক্তিক বলে গণশুনানিতে প্রমাণিত নয়। তাই সে মর্মে ঘোষণা করা এবং প্রত্যেক লাইসেন্সির ক্ষেত্রে বিদ্যমান চার্জহার বলবৎ রাখার জন্য আদেশের প্রস্তাব করা হলো। (খ) বিদ্যমান ভর্তুকি ১০ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা ও উদ্বৃত্ত রাজস্ব ২ হাজার ৫৩৭ দশমিক ৯১ কোটি টাকা এলএলজি আমদানি পর্যায়ে সমন্বয় করে, ডব্লিউপিএফ ও করপোরেট কর লাইসেন্সিদের রাজস্ব চাহিদায় সমন্বয় না করে, এলএনজি আমদানি পর্যায়ে প্রদত্ত ভ্যাট ভোক্তা পর্যায়ে প্রদত্ত ভ্যাটে সমন্বয় করে এবং সঞ্চালন ও বিতরণ পর্যায়ে উদ্বৃত্ত রাজস্ব লাইসেন্সির রাজস্ব চাহিদায় সমন্বয় না করে ভোক্তা পর্যায়ে ভারিত গড়ে গ্যাসের মূল্যহার ৯ দশমিক ৫৩ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হলো। অর্থাৎ বিদ্যমান মূল্যহার অপেক্ষা গ্যাসের মূল্যহার শূন্য দশমিক ১৬ টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হলো। (গ) সব শ্রেণীর গ্রাহকদের গ্যাসের বিদ্যমান মূল্যহার বলবৎ রেখে গ্যাস তছরুপ প্রতিরোধের লক্ষ্যে কেবল আবাসিক গ্রাহকদের চুলায় মাসিক ৭৭ ঘনমিটারের পরিবর্তে ৪০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার ধরে চুলাপ্রতি গ্যাসের বিদ্যমান মূল্যহার কমানোর প্রস্তাব করা হলো। (ঘ) কোনো গ্যাস বিতরণ লাইসেন্সির চার্জ নির্ধারণে সিস্টেম লস বিবেচিত হয়নি। কারণ বিতরণে সিস্টেম গেইন বিদ্যমান। সে অর্থে তিতাসেও সিস্টেম গেইন বিদ্যমান। বিদ্যমান মূল্যহারে বিইআরসির হিসাবে মিটারবিহীন চুলায় বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার গ্যাস না দিয়ে ভোক্তার কাছ থেকে সে গ্যাসের মূল্য নেয়া হয় এবং হিসাবে সে গ্যাস ব্যবহার দেখানো হয়। সে গ্যাস সমন্বয় হলে তিতাসেও সিস্টেম গেইন বিদ্যমান, তা প্রমাণ হতো। এটি বিবেচনা ছাড়াই টিসি তিতাসের বিতরণ চার্জ নির্ধারণে ২ শতাংশ সিস্টেম লস সমন্বয়ের প্রস্তাব করেছে, যা ন্যায্য ও যৌক্তিক নয়। তাই তিতাসের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ সিস্টেম লস সমন্বয় প্রস্তাবে আপত্তি রইল। (ঙ) টিসির প্রস্তাবে তিতাসকে বিনিয়োগকৃত মূলধনের ওপর ১০ শতাংশ মুনাফা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই মুনাফা ব্যক্তি খাত এলপিজি লাইসেন্সিদের তুলনায় অবশ্যই কম হতে হবে। কারণ এ বিনিয়োগ শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত। তাই ওই মুনাফা প্রস্তাবে আপত্তি রইল। (চ) বিইআরসির আদেশ প্রতিপালনে ছাড় দিয়ে গ্যাস তছরুপ ও অবৈধ সংযোগের সুযোগ বছরের পর বছর বজায় রাখার দায়ে তিতাসকে পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত কস্ট প্লাসের পরিবর্তে কস্ট বেসিসে পরিচালনার আদেশ প্রদানের প্রস্তাব করা হলো। সেই সঙ্গে তিতাসের বিরুদ্ধে বিইআরসি আইনের ৪৩ ও ৪৬ ধারা মতে ব্যবস্থা গ্রহণেরও প্রস্তাব করা হলো। (ছ) সঞ্চালনে অন্যায় ও অযৌক্তিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত জিটিসিএলের মুনাফার মার্জিন স্থগিত রেখে ব্রেক ইভেনে পরিচালনার আদেশ দেয়ার প্রস্তাব করা হলো। (জ) সঞ্চালন ও বিতরণ ক্ষমতা যে অনুপাতে ব্যবহার হবে, সে অনুপাতে অবচয় ব্যয় রাজস্ব চাহিদায় সমন্বয় করে সঞ্চালন ও বিতরণ চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হলো। (ঝ) পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে বিইআরসির নিয়ন্ত্রণে পক্ষদের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দ্বারা ‘গ্যাস উন্নয়ন তহবিল’ পরিচালনার প্রস্তাব করা হলো। ওই তহবিলের অর্থ বিইআরসির কর্তৃত্বে এসওসির গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন প্রকল্পগুলোর বিইআরসি অনুমোদিত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী সরাসরি ভোক্তা পক্ষের ইকুইটি বিনিয়োগ হিসেবে বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হলো। (ঞ) বিইআরসি অনুমোদিত কৌশলগত পরিকল্পনা ব্যতীত অর্থাৎ বিইআরসির আদেশ ও আইন লঙ্ঘন করে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে ‘গ্যাস উন্নযন তহবিল’-এর অর্থ ব্যয়ের দায়ে পেট্রোবাংলার বিরুদ্ধে বিইআরসি আইনের ৪২, ৪৩ ও ৪৬ ধারামতে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হলো। (ট) গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ উভয়েরই বিরুদ্ধে আনীত অদক্ষতা ও ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হলো। (ঠ) রি-গ্যাসিফিকেশন চার্জ, পেট্রোবাংলার চার্জ ও বিইআরসির চার্জ (লাইসেন্সিদের কাছ থেকে গৃহীত ফি) শুনানির ভিত্তিতে নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান স্ব-স্ব চার্জ বহাল রাখার প্রস্তাব করা হলো। (ড) এলএনজি ক্রয়ে বিনিয়োগ ও ভর্তুকি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে সুশাসন উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজস্ব চাহিদাবহির্ভূত উদ্বৃত্ত রাজস্ব ও ভোক্তা অনুদানে ‘জ্বালানি মূল্যস্থিতি তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব করা হলো। অতীতের পুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত রাজস্ব লাইসেন্সিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ওই তহবিলে প্রদানের প্রস্তাব করা হলো। সেই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল বিলুপ্ত করে ওই তহবিলের সঙ্গে একীভূত করারও প্রস্তাব করা হলো। সরকার ও লাইসেন্সিদের প্রাপ্য লভ্যাংশ থেকে ৫০ শতাংশ ওই তহবিলে নেয়ার প্রস্তাব করা হলো। এ তহবিলের অর্থ বিনিয়োগকৃত মূলধন হিসেবে এলএনজি ক্রয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন এবং সঞ্চালন ও বিতরণ ক্ষমতা উন্নয়নে গৃহীত বিইআরসি অনুমোদিত প্রকল্পগুলোয় বিনিয়োগকারীর ‘ইকুইটি বিনিয়োগ’ হিসেবে বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হলো। (ঢ) গ্যাসের বিদ্যমান মূল্যহার বহাল রেখে সব পর্যায়ের ট্যাক্স-ভ্যাট, লাইসেন্সিদের মুনাফা এবং অযৌক্তিক (লুণ্ঠনমূলক) ব্যয় কমিয়ে গ্যাস সরবরাহে আর্থিক ঘাটতি কমানোর প্রস্তাব করা হলো। সেজন্য পক্ষগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হলো। (ণ) গ্যাস চুরি ও পরিমাপে কারচুপি এবং অস্বাভাবিক ব্যয়ে চাহিদার অতিরিক্ত সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছ থেকে অর্থ লুণ্ঠন হচ্ছে। তার জন্য পেট্রোবাংলাসহ গ্যাস সরবরাহে নিয়োজিত সব কোম্পানির স্ব-স্ব পরিচালনা বোর্ডকে অভিযুক্ত করা হলো। এ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণের প্রস্তাব করা হলো। (প) গ্যাস খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য পক্ষগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হলো। (ফ) এর আগে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির আদেশগুলোয় প্রদত্ত বিইআরসির আদেশাবলি পালন না করার দায়ে এবং গ্যাস খাত বিপর্যস্ত করার জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সিদের বিরুদ্ধে বিইআরসি আইনের ৪৩ ও ৪৬ ধারা মতে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হলো। এ অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লাইসেন্সিদের মুনাফা মার্জিন স্থগিত করার আদেশের জন্য প্রস্তাব করা হলো। (ব) তাছাড়া গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে ভোক্তা অনুদান কমিয়ে সে অর্থে রাজস্ব চাহিদাবহির্ভূত গবেষণা তহবিল গঠনে আপত্তি রইল। (ভ) তিতাসে অবৈধ গ্যাস সংযোগকারীদের শনাক্ত করার জন্য সিইডি, ডিজিএফআই ও এনএসআইকে দায়িত্ব প্রদানের জন্য তিতাসকে আদেশ  দেয়ার প্রস্তাব করা হলো। (ম) শুরু থেকে হালনাগাদ জিটিসিএল ও তিতাসের শেয়ারহোল্ডারদের নামের তালিকা বছরভিত্তিক তাদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত লভ্যাংশসহ ওয়েবসাইটে প্রকাশের আদেশ দেয়ার জন্য প্রস্তাব করা হলো। (য) গ্যাস সেবাকে স্বার্থ সংঘাতমুক্ত করার লক্ষ্যে লাইসেন্সিদের পরিচালনা বোর্ডকে আমলামুক্ত করার প্রস্তাব করা হলো। এ প্রস্তাব গণশুনানির প্রস্তাব হিসেবে সরকারের কাছে পাঠানোর জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব  দেয়া হলো।

প্রিয় পাঠক, পরিশেষে আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, শুরুতেই যে প্রশ্নটি আপনার কাছে রাখা হয়েছিল, সে প্রশ্নের জবাব সম্ভব হলে অন্যদের জানিয়ে আমাদের বাধিত করবেন। [বাকি অংশসহ পুরো নিবন্ধটি পড়ুন বণিক বার্তার অনলাইনে]

 

ড. এম শামসুল আলম: জ্বালানি বিশেষজ্ঞ