আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিনিধি দল অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগের সঙ্গে ভর্তুকি নিয়ে বৈঠক করেছেন। ঋণ কর্মসূচির আওতায় পর্যবেক্ষণে আসা গত ২৫ এপ্রিলের বৈঠকে তারা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারে ভর্তুকি উঠিয়ে দাম বাড়ানোর মাধ্যমে সরবরাহ ব্যয় সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে। ভর্তুকির অর্থ সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কার্যক্রমে খরচ করার পরামর্শ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে অর্থ বিভাগ বলেছে, খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে আপাতত কৃষিতে পর্যাপ্ত ভর্তুকি দেবে সরকার। তবে ভর্তুকি কমাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। বোঝা যায়, জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের মাথায় নেই। তারা কি বোঝে না, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না!
২.
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারে ভর্তুকি উঠিয়ে দেয়া এবং দাম বাড়ানোর মাধ্যমে আর্থিক ঘাটতি সমন্বয় করার পরামর্শ ১৯৯০ সাল থেকে আসছে। অর্থাৎ এ খাত সংস্কারের শুরু থেকে আইএমএফের মতো এমন পরামর্শ বিদেশী দাতা সংস্থাগুলো সরকারকে দিয়ে আসছে। তাদেরই পরামর্শে সরকার এ খাত সংস্কার করছে। ব্যক্তি খাত বিনিয়োগে উন্নয়নের জন্য এ খাত এখন বাণিজ্যিক খাত। ফলে জনগণকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবা দিয়ে সরকার মুনাফা করে। এ মুনাফা ব্যবসায় যেভাবে হয়, সেভাবে হয় না। দাম বাড়ানোর মাধ্যমে সে মুনাফা দেয়া বা বৃদ্ধি করা হয়। পাবলিক কোম্পানির মালিক হিসেবে সরকার একদিকে সেসব কোম্পানির মুনাফার ভাগ পায়, অন্যদিকে আলাদাভাবে সরকার করপোরেট ট্যাক্সও নেয়। মুনাফা ও করপোরেট ট্যাক্স জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয়ে পৃথকভাবে সমন্বয় হয় এবং ব্যয় বাড়ে। এ মুনাফার কোনো মান-মাপ নেই। তার ওপর সরকার ভ্যাট নেয়ায় সে ব্যয় আরো বাড়ে। সরকার যদি শুধু খরচ উসুল করত, মুনাফা না নিত, তাহলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবার দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকত এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হতো। ফলে জনগণের কল্যাণ হতো। সরকারকেও আর অসাধু ব্যবসায় জড়িয়ে পড়তে হতো না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়নও বিনিয়োগকারীদের অসাধু ব্যবসার শিকার হতো না। জনগণ জ্বালানি সুবিচার পেত।
৩.
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০-এর আওতায় প্রতিযোগিতাবিহীন ব্যক্তি খাত বিনিয়োগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়ন অব্যাহত আছে। তাতে বিনিয়োগকারীরা খেয়াল-খুশিমতো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধি করে লুণ্ঠনমূলক মুনাফা বৃদ্ধির সুযোগ নিচ্ছে। ফলে আর্থিক ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে। তা সমন্বয়ে মূল্য ও ভর্তুকি উভয় বাড়ছে। ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
৪.
এ অবস্থায় আইএমএফের পরামর্শে সরকার ভর্তুকি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে এবং কেবল পর্যায়ক্রমে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে তিন বছরের মধ্যে ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টায় আছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের যে মূল্যবৃদ্ধি হলো, পাশাপাশি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় পিডিবির আয় বেড়েছে বছরে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি নয়। বিদ্যুৎ খাতে এখনো কমবেশি ৪০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি বিদ্যমান। অপচয়, তছরুপ, আত্মসাৎ তথা লুণ্ঠন না হলে এ ঘাটতি হতো না। পরবর্তী বছরগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে। লুণ্ঠনমূলক মুনাফাও বাড়বে। ঘাটতিও বাড়বে। মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে তা সমন্বয় অসম্ভব হলেও সে চেষ্টাই চলছে। এ ঘাটতির দায় যে জনগণের নয়, তা আইএমএফ বা সরকার বোঝে না, এমন নয়।
৫.
কেনার ক্ষেত্রে পণ্য বা সেবার দাম, মান ও মাপ সঠিক কিনা তা যাচাই-বাছাই করা ভোক্তার অধিকার। রাষ্ট্র আইন দ্বারা সে অধিকার নিশ্চিত করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইন ২০০৩-এ তা নিশ্চিত। কিন্তু ২০২৩ সালে ওই আইনের ৩৪ ধারা পরিবর্তন করে ভোক্তার সে অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ৩৪ ধারার বিধানমতে, ভোক্তা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারত। মূল্যবৃদ্ধি ন্যায্য ও যৌক্তিক কিনা সে ব্যাপারে মতামত দিতে পারত। মূল্যবৃদ্ধি ন্যায্য ও যৌক্তিক না হলে প্রতিকারের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে পারত। কিন্তু ওই ধারা পরিবর্তনের ফলে ভোক্তার সে অধিকার খর্ব হয় এবং বিদ্যুৎ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ক্ষমতা সরকার পায়। সেই ক্ষমতা বলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উভয় বিভাগ ভর্তুকি উঠিয়ে নেয়ার অজুহাতে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় সমন্বয় করে খেয়াল-খুশিমতো যখন-তখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। ফলে ভোক্তা জ্বালানি সুবিচার বঞ্চিত হচ্ছে।
৬.
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও মুনাফা প্রতিরোধ করা গেলে এবং ন্যূনতম ব্যয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ করার নীতি ও কৌশল গ্রহণ করা হলে বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান ঘাটতি প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা মূল্যবৃদ্ধি ছাড়াই অনায়াসে সমন্বয় হতো। কিন্তু এমন কোনো পরামর্শ তো আইএমএফের কাছ থেকে আসেনি। অবশ্য কখনো আসবেও না। কারণ আইএমএফ ও আইএমএফের মতো দাতা সংস্থারা বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানি বাজারে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সরকারকে ঋণ ও ঋণের শর্তে আটকে ফেলেছে। তাদের সে লক্ষ্য অর্জন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। গত বছরের হিসাবে বিদ্যুৎ আমদানি ব্যয় ছিল গড়ে ইউনিটপ্রতি ৭টাকা ৮৩ পয়সা। অথচ উৎপাদন ব্যয়হার কমবেশি ১২ টাকা। বিক্রি করে পিডিবি পায় ৭ টাকা ৪ পয়সা। অচিরেই বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যুৎ আমদানি বৃদ্ধি করে ভর্তুকি কমানো হবে। লুণ্ঠনমূলক ব্যয়বৃদ্ধিতে লাগাম টানা হবে না। ফলে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও মুনাফা বৃদ্ধি সুরক্ষা পাবে। জনগণ লুণ্ঠিত হবে। ভোক্তারা জ্বালানি সুবিচার পাবে না।
৭.
পর্যাপ্ত উৎপাদনক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর গরমে বিদ্যুৎ সংকট চরমে ওঠে। ভোক্তারা ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের শিকার হয়। লোডশেডিং সমতাভিত্তিক না হওয়ায় গ্রামের মানুষ দিনে গড়ে ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকে। এভাবে ভোক্তাকে বিদ্যুৎ বঞ্চিত রেখে তার কাছ থেকে একদিকে শতভাগ ডিমান্ড মাশুল আদায় করা, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও বিদ্যমান বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার বিপরীতে শতভাগ ভাড়া/অবচয় ব্যয় ভোক্তার কাছ থেকে আদায় করা এক ধরনের লুণ্ঠন। আবার উৎপাদন কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় করেও ভর্তুকি কমানো হয়। অন্যদিকে ভর্তুকি কমানোর অজুহাতে মূল্যবৃদ্ধিও করা হয়। ফলে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বলির পাঁঠা। এমন অবস্থার অভিঘাতে অর্থনীতি এখন ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার। তাতে আইএমএফের কিছু যায়-আসে না। তারা চায়, জ্বালানি নিরাপত্তায় ভর্তুকি না দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধি। এ বরাদ্দ বৃদ্ধি অন্যভাবেও হতে পারে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি করে। তাতে ভোক্তাসাধারণের ক্রয়ক্ষমতা কমে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য না বাড়িয়ে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কার্যক্রমে বরাদ্দ অন্যভাবে বাড়ানো হলে আমরা প্রকৃত সুফল পাব। আমরা অনুধাবন করি, এমন ভাবনা আইএমএফ না ভাবলে সরকার ভাবতে পারে না।
৮.
সরকার এখন ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের জন্য দিশাহারা হয়ে আইএমএফের পেছনে দৌড়াচ্ছে। সেখানে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ তথা জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন আর সরকারের জন্য ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই ভোক্তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে আছে। এ অবস্থায় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা হারানোর ভয়ে ভীত হয়ে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, ‘অসাধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবসায় লাগাম দিন—মূল্যবৃদ্ধি থেকে সরে আসুন—মানুষকে অভয় দিন।’
৯.
ভোক্তা যেন সঠিক দাম, মাপ ও মানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সেবা পায়, সেজন্য মূল্যহার নির্ধারণসহ বিদ্যুৎ, জ্বালানি, ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা, সমতা, যৌক্তিকতা ও জবাবদিহি তথা জ্বালানি সুবিচার (এনার্জি জাস্টিস) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ২৯ এপ্রিল ক্যাব ভোক্তাদের পক্ষ থেকে এক সংস্কার প্রস্তাব প্রকাশ করে। সে প্রস্তাব বাস্তবায়নে নিম্নের ১৩ দফা দাবি:
(১) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত উন্নয়নে প্রতিযোগিতাবিহীন যেকোনো বিনিয়োগ আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হতে হবে;
(২) জ্বালানি অধিকার সংরক্ষণ ও জ্বালানি সুবিচারের পরিপন্থী হওয়ায় (ক) দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০ রদ হতে হবে এবং (খ) বাংলাদেশ রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইন ২০০৩ সংশোধনক্রমে সংযোজিত ধারা ৩৪ক রহিত হতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যহার নির্ধারণের একক এখতিয়ার বিইআরসিকে ফিরিয়ে দিতে হবে;
(৩) গ্যাস উন্নয়ন তহবিল, বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিল ও জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলের অর্থ যথাক্রমে বাপেক্সের গ্যাস অনুসন্ধান, পিডিবির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি আমদানিতে ঋণ নয়, ভোক্তার ইকুইটি বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হতে হবে;
(৪) মুনাফা ব্যতীত কস্ট বেসিসে ৫০ শতাংশের অধিক বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন সরকারের একক মালিকানায় হতে হবে। কস্ট প্লাস নয়, সরকার শুধু কস্ট বেসিসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবা দেবে;
(৫) প্রাথমিক জ্বালানি মিশ্রে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় এলএনজি, কয়লা ও তেলের অনুপাত কমাতে হবে। নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও মজুদ বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্বারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানি নিয়ন্ত্রণে রেখে আমদানি ব্যয় কমাতে হবে;
(৬) সরকার ব্যক্তি খাতের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত হবে না এবং সরকারি মালিকানাধীন কোনো কোম্পানির শেয়ার ব্যক্তি খাতে হস্তান্তর করবে না—আইন দ্বারা তা নিশ্চিত হতে হবে। দ্বিতীয়ত, তেল শোধনাগার এস আলম গ্রুপের সঙ্গে নয়, সরকারের একক মালিকানায় হতে হবে;
(৭) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতভুক্ত সরকারি ও যৌথ মালিকানাধীন সব কোম্পানির পরিচালনা বোর্ড থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উভয় বিভাগের সব আমলাকে প্রত্যাহার করতে হবে;
(৮) নিজস্ব কারিগরি জনবলের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে উভয় খাতের কোম্পানি বা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে। সেজন্য মন্ত্রণালয়কে শুধু বিধি ও নীতি প্রণয়ন এবং আইন, বিধি-প্রবিধান অনুসরণ ও রেগুলেটরি আদেশগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসনিক নজরদারি ও লাইসেন্সিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। পাশাপাশি রেগুলেটর হিসেবে বিইআরসিকে সক্রিয়, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে;
(৯) জলবায়ু তহবিলসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উৎস থেকে ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ঋণ নয়, ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি/আদায় নিশ্চিত হতে হবে এবং সে ক্ষতিপূরণ ক্ষতিগ্রস্তদের সক্ষমতা উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাজার সম্প্রসারণে বিনিয়োগ আইন দ্বারা নিশ্চিত হতে হবে;
(১০) বিদ্যুৎ, জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন নীতি, আইন, বিধিবিধান ও পরিকল্পনা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সম্পাদিত প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে;
(১১) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উন্নয়নে সম্পাদিত সব চুক্তি বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত মডেল চুক্তি মতে হতে হবে, তাহলে আদানির বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির মতো জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি প্রতিরোধ করা যাবে;
(১২) এরই মধ্যে (ক) বাপেক্স ও সান্তোসের মধ্যে মগনামা-২ অনুসন্ধান কূপ খননে সম্পাদিত সম্পূরক চুক্তি, (খ) আরইবি ও সামিট পাওয়ার লিমিটেডের মধ্যে সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় সম্পূরক চুক্তি, (গ) পিডিবি ও সামিট পাওয়ার লিমিটেডের মধ্যে সম্পাদিত মেঘনাঘাট পাওয়ার প্লান্টের বিদ্যুৎ ক্রয় সম্পূরক চুক্তি এবং (ঘ) পিডিবি ও আদানির মধ্যে সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি বেআইনি ও জনস্বার্থবিরোধী এবং জ্বালানি সুবিচারের পরিপন্থী প্রতীয়মান হওয়ায় এসব চুক্তি বাতিল হতে হবে। অনুরূপ অভিযোগে অভিযুক্ত অন্য চুক্তিগুলোও যাচাই-বাছাইক্রমে বাতিল হতে হবে। সেই সঙ্গে জ্বালানি সনদ চুক্তি ১৯৯৪ স্বাক্ষরে সরকারকে বিরত থাকতে হবে; এবং
(১৩) জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যহার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘Energy Price Stabilized Fund’ গঠিত হতে হবে।
মূল্যবৃদ্ধি না করে তিন বছরের মধ্যে ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে জনগণ তথা ভোক্তা সাধারণের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ক্যাবের সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংস্কার নিশ্চিত করার জন্য ১৩ দফা দাবি উপস্থাপিত হলো।
এম শামসুল আলম: ডিন, প্রকৌশল অনুষদ, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়। জ্বালানি উপদেষ্টা, কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)










