সাবেক ইউএস ট্রেজারি সেক্রেটারি লওরেন্স সামার্স ও আন্না স্টান্সবারি সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ শঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের পরামর্শ হলো, বিদ্যমান মুদ্রানীতি কাঠামো গভীরভাবে পুনর্বিবেচনা করা দরকার। আমি তাদের সঙ্গে একমত। এক দশকেরও আগে থেকে আমি ‘পুরনো কেইনসীয় অর্থনীতির’ একটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে আসছি। বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের দুই বছর আগে ২০০৬ সালে প্রকাশিত আমার এক নিবন্ধে সামষ্টিক অর্থনৈতিক তত্ত্ব সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত চিন্তার অভ্যস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। আমি খুশি যে বয়ান ও গবেষণার উন্নয়ন ঘটিয়েছিলাম, তা অব্যাহতভাবে জনসমর্থন পাচ্ছে।
নিম্ন এবং কিছু ক্ষেত্রে ঋণাত্মক সুদহারের বিদ্যমান যুগে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ বিস্ফোরণের মুখোমুখি হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন হওয়া শুরু করেছেন। যখন কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিহার এরই মধ্যে নিম্ন, তখন কোনো সংকটের সময় তা আর খুব বেশি নামিয়ে আনা যায় না। এখানে কেউ কেউ বলতে পারেন যে ফেডের আসলে এখন সুদহার বাড়ানো উচিত, যদিও নিম্ন বেকারত্ব বিদ্যমান। কিন্তু ভবিষ্যতে সুদহার হ্রাসের পর্যাপ্ত পরিসর সৃষ্টি করা হলে বেকারত্ব বাড়তে পারে। তবে সুদহার বাড়ানোর কোনো অর্থ নেই, যদি তা করে একটি মন্দা সৃষ্টির শঙ্কা থাকে। প্রশ্ন হলো, বিস্ফোরণ ছাড়া গানপাউডার পুনরায় মজুদের উপায় আছে কিনা?
যখন ফেড কিংবা ইসিবি সুদহার বাড়ায়, তখন নতুন কেইনসীয় তত্ত্ব অনুমান করে যে এই বৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতিতে হ্রাস ঘটায় এবং পয়েন্ট এ থেকে পয়েন্ট বি-র পথ আবশ্যিকভাবে উচ্চ বেকারত্ব সহযোগে চালিত হবে। কিন্তু আমার গবেষণা বলে, নতুন কেইনসীয় অর্থনৈতিক তত্ত্ব ভুল। সর্বোপরি ফেড যদি ধীরে ধীরে স্বল্পমেয়াদি হার বাড়ায় এবং একটি স্থির দামের ভিত্তিতে ব্যাপকভিত্তিক একচেঞ্জ-ট্রেডেড তহবিলসহ ইকুইটি মার্কেটে সমর্থন জোগায়, তাহলে কেন সুদহার বৃদ্ধি উচ্চতর বেকারত্ব সৃষ্টি করবে, তার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
তত্ত্ব অনুযায়ী, নিম্ন সুদহার সামষ্টিক চাহিদাকে চালিত করে এবং বেকারত্ব কমিয়ে অধিক বিনিয়োগ ব্যয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। আর নিম্ন বেকারত্ব মজুরিতে ঊর্ধ্বমুখী চাপ ফেলে, যা একটি মার্ক আপ মেকানিজমের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে উচ্চতর দামে রূপান্তরিত হয়। এটিই মূল বিবেচ্য বিষয়, যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নীতি বদলায় এবং সুদহার বৃদ্ধি শুরু করে। অথচ পুরো গল্পটি এ অনুমানের ওপর নির্ভরশীল যে সেখানে বেকারত্বের একটি স্বাভাবিক হারের অস্তিত্ব বিদ্যমান। আর তা হলো, নন-এক্সিলারেটিং ইনফ্লেশন রেট অব আনএমপ্লয়মেন্ট (এনএআইআরইউ); যেটিতে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়বে না কিংবা কমবেও না। অর্থাত্ স্থিতিশীল থাকবে।
যদিও কেইনসের নতুন অনুসারীরা স্বীকার করেন, এনএআইআরইউ সময়ান্তরে পরিবর্তন হতে পারে এবং তারা অনুমান করতে পারেন না, এটি কীভাবে আচরণ করবে। এদিকে সেন্ট্রাল ব্যাংকাররা এনএআইআরইউর অভ্যন্তরীণ হিসাব তৈরি করে এবং নীতিহার সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সেগুলো কাজে লাগায়। যখন বেকারত্বের হার বিদ্যমান এনএআইআরইউ হিসাবের নিচে থাকে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তখন তারা সহজেই সিদ্ধান্ত টানেন, এনএআইআরইউ অবশ্যই পড়ে যাবে। তাদের এ সিদ্ধান্ত বিজ্ঞানসম্মত নয়, অনেকটা ধর্মকেন্দ্রিক।
আমার ‘প্রসপারিটি ফর ওল’ বইয়ে আমি ভাগ্য বা ভবিতব্য নির্ণয়ের এই সাম্প্রতিক ভার্সনের একটি বিকল্প অফার করি। আমার তত্ত্ব স্বীকার করে যে একটি নন-এক্সিলারেটিং মূল্যস্ফীতি হার যেকোনো বেকারত্ব হারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এ পয়েন্টটি মৌলিকভাবে জন মেইনার্ড কেইনস নিজেই তার জেনারেল থিওরি অব এমপ্লয়মেন্ট, ইন্টারেস্ট অ্যান্ড মানি গ্রন্থে প্রতিষ্ঠা










