গত ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ উন্নয়ন মডেল এবং এর প্রচার’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রকল্পপ্রধান হিসেবে আমি যেসব কথা বলেছি, তারই অংশবিশেষ এ প্রবন্ধে আলোকপাত করা হলো।
সক্ষমতা ও স্বনির্ভরতা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা লাভ করি এবং আমাদের জন্য জাতীয় সক্ষমতা ও স্বনির্ভরতা অর্জনের সুযোগ আসে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়ন বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়। এ খাতে পেশাদারীদের সক্ষমতা উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পেশাদারিদের সক্ষমতা উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নই মূলত এ খাতের উন্নয়ন। আমাদের উন্নয়ন নীতি ও কৌশলে তা এখন অনুপস্থিত।
১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। তখন প্রতিটি দেশই নিজস্ব জ্বালানি উৎসের অনুসন্ধানে নামে। আমরাও বিদেশী বিনিয়োগে প্রডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্টের (পিএসসি) আওতায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে উদ্যোগ নিই। কিন্তু দেখা গেল, যে পরিমাণ তেল-গ্যাস উত্তোলন হবে, তার বেশির ভাগই বিদেশী কোম্পানি পাবে। তাই তখন ভাবা হলো, নিজস্ব সক্ষমতায় উত্তোলন করা হলে শতভাগ তেল-গ্যাস আমরাই পাব। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এ ভাবনা কাজে আসেনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আমলাকরণের শিকার হওয়ায় এ খাতে জাতীয় সক্ষমতা ও স্বনির্ভরতা অর্জনে আমরা সফল হইনি। আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গ্যাস, কয়লা, জ্বালানি তেল ও এলএনজির আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আর্থিক সক্ষমতার অভাবে জ্বালানির ওপর সরকারের স্বত্বাধিকার এখন চরম সংকটে।
জনগণের বিরোধিতার কারণে কয়লা ও গ্যাস রফতানি হয়নি। তবে নিজস্ব সক্ষমতায় তা উত্তোলন করার পরিবর্তে বিদ্যুৎ, কয়লা, গ্যাস ও জ্বালানি তেল আমদানির ওপর দেশ এখন অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। একদিকে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট। তাছাড়া ভর্তুকি প্রদানে সরকারের অপারগতার কারণে আর্থিক ঘাটতি বৃদ্ধি সমন্বয়ে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানির অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত। এ অবস্থায় ভোক্তারা একদিকে জ্বালানি সুবিচার (এনার্জি জাস্টিস) বঞ্চিত, অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতায় জ্বালানি অধিকার সংরক্ষণ অনিশ্চিত।
আমাদের দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ এখন বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০০৮ মতে, ২০২১ সালে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ হওয়ার কথা ছিল নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ। কিন্তু বাস্তবে তা ১ শতাংশও নয়। প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ অনধিক ৭ দশমিক ৫০ টাকায় ওপেক্স মডেলে উৎপাদন করা সম্ভব। তা যদি হতো, তাহলে পর্যাপ্ত বৈদেশিক ঋণ ও মুদ্রা সাশ্রয় হতো। স্বল্প মূল্যের নিজস্ব গ্যাস গ্রিড বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৬০ শতাংশ। তা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় হার গড়ে প্রায় ১২ টাকা। ভোক্তা পর্যায়ে সে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয় হার গড়ে প্রায় ১৪ টাকা। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও ডলার সংকটের কারণে এখন কয়লা, এলএনজি, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল আমদানি ব্যাহত এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা অনেক অংশে অব্যবহৃত। এ অবস্থায় ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণহীন।
এনার্জি জাস্টিস তথা জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিত হতে হলে জ্বালানির অভাবে যে পরিমাণ উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ/পরিবহন ক্ষমতা ব্যবহার হয় না, সেই অনুপাতে ক্যাপাসিটি/অবচয় চার্জ ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ কিংবা প্রাথমিক জ্বালানির মূল্যহারে সমন্বয় করা যায় না। আবার যে পরিমাণ উৎপাদনক্ষমতা ব্যবহার ধরে মূল্যহার নির্ধারিত হয়, তা অপেক্ষা উৎপাদনক্ষমতা যতটা কম ব্যবহার হয়, সেই অনুপাতে ক্যাপাসিটি/অবচয় চার্জ সমন্বয় করে বিদ্যুৎ বিল কমাতে হয়। তা যদি হতো, তাহলে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণহীন হতো না এবং বিদ্যুৎ ও ডলার সংকট সমাধানে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ হতো অন্যতম নিয়ামক। তাই জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উন্নয়নে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে অবদান রাখতে পারে তারই একটি রূপরেখা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চারটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ উন্নয়ন মডেল এবং সৌরবিদ্যুতের উন্নতির জন্য মডেলটির প্রচার শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম উপস্থাপনায় ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ওপেক্স মডেলে রুফটপ ও গ্রাউন্ডে অব্যহৃত পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উন্নয়ন’ পরিকল্পনা উপস্থাপিত হয়। এ পরিকল্পনা মতে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে কমবেশি ৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। ফলে পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মোটের ওপর তাদের চাহিদার ২০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রাক্কলন করা হবে। তথ্যাদি প্রাপ্তিসাপেক্ষে ও প্রস্তাবনা মতে, সৌরবিদ্যুৎ উন্নয়নে আগ্রহী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্য থেকে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে বাছাইকৃত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডিসহ ‘সৌর সিস্টেম’ ডিজাইন করা হবে। এসব কার্যক্রম চলাকালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ থাকবে।
দ্বিতীয়টি ছিল ‘অফ-গ্রিড/অন-গ্রিড ডিসি/এসি সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট (সিস্টেম) পারফরম্যান্স স্টাডি’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশন। তাতে বলা হয়, প্রস্তাবিত উল্লিখিত মডেলটি ভ্যালিডেশনের জন্য ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট এরই মধ্যে বসানো হয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ প্লান্টের প্ল্যান, ডিজাইন, নির্মাণ এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এ প্রকল্পে স্বল্প ক্ষমতাসম্পন্ন ডিসি সৌরবিদ্যুৎ ক্যাপটিভ, সেচ, আইপিএস, চার্জিং স্টেশন এবং গ্রামীণ ও বস্তি এলাকার স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য গ্রিড বিদ্যুতের বিকল্প হতে পারে কিনা এ প্রশ্নে তা গবেষণাধীন রয়েছে। এ গবেষণা সফল হলে ডিসি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধিতে গ্রিড বিদ্যুৎ চাহিদা হ্রাস পাবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি অনেকাংশে কমে আসবে। ফলে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানির ওপর সরকারের স্বত্বাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
তৃতীয়টি ছিল ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এনার্জি অডিট প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশন। তাতে দেখানো হয়েছে এনার্জি ব্যবহারে দক্ষতা ও সংরক্ষণ উন্নয়ন কৌশল যথাযথভাবে গৃহীত হলে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে। যথাযথভাবে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পেলে শিক্ষার্থীরাও দেশ-বিদেশের উপযোগী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এনার্জি অডিটর হয়। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ব্যাচে কমবেশি ২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে দুই ব্যাচ শিক্ষার্থীকে এরই মধ্যে এনার্জি অডিট প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাদের দিয়ে করানো এক এনার্জি অডিট প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো এক শিক্ষা ভবনে বাতি ও এসিতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ যথাক্রমে ৩৮ দশমিক ৬১ ও ৬৮ দশমিক ৬১ শতাংশ সাশ্রয় করা সম্ভব। তাদের মধ্যে দুজন এরই মধ্যে আন্তার্জাতিক এনার্জি অডিটর হিসেবে সনদ লাভ করেছে এবং অনেকেই ব্যক্তি খাত ব্যবসা-বাণিজ্যে এনার্জি অডিটর হিসেবে কর্মরত আছে। তাছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, বিসিক ও এসএমই ফাউন্ডেশনভুক্ত দেশব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোয় এনার্জি অডিট শিক্ষার্থীদের ক্যাপস্টন প্রজেক্টের মাধ্যমে করানোর সুযোগ রয়েছে। তাতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওইসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ সাশ্রয় হবে। এ প্রকল্পে আগামী পাঁচ বছরে এনার্জি অডিটের মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ উন্নয়নের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করে কমপক্ষে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
চতুর্থটি ছিল ‘পরিবেশ সুরক্ষা ও সৌরবিদ্যুৎ উন্নয়নে সামাজিক আন্দোলন: প্রেক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশন। তাতে জনগণের জ্বালানি অধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণে জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং তাদের ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার এক কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপিত হয়। আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা ও সংরক্ষণ আরো বেশি উন্নত করার মাধ্যমে নিজ নিজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের গ্রিড বিদ্যুৎ চাহিদা যদি ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনে, তাহলে অব্যবহৃত ও স্বল্প ব্যবহৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে। ফলে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার অব্যাহত বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। এ প্রকল্প কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রিড বিদ্যুৎ অপেক্ষা অধিকতর কম মূল্যহারে সৌরবিদ্যুৎ প্রাপ্তি দেশব্যাপী সর্বস্তরের ভোক্তাদের জন্য নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে এ পরিস্থিতি অব্যাহত জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধির বিপরীতে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ বিনিয়োগকারী আয় বৃদ্ধিতে বাধা হবে বিধায় এসব বিনিয়োগকারী নবায়নযোগ্য জ্বালানি তথা সৌরবিদ্যুৎ বাজার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের নেপথ্যে অতীতে বড় বাধা হয়েছিল, এখনো বাধা হয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অধিকতর উন্নতির জন্য ওই প্রেজেন্টেশনে উপস্থাপিত প্রস্তাব মতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
প্রতি বছর জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন করে। ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত মতে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত হবে। সে লক্ষ্যে, দেশে দেশে জ্বালানি রূপান্তরে জ্বালানি সংরক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিবহন, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ও আবাসিকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রিড বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে দ্রুত প্রতিস্থাপন হচ্ছে। জ্বালানি রূপান্তরের গতি ও প্রকৃতি অনুধানে বোঝা যায়, প্রথাগত জ্বালানিতন্ত্র (Energy Sys tem) দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে। দেশে দেশে জন্ম নিচ্ছে কার্বনমুক্ত অর্থনীতি ও নতুন জ্বালানিতন্ত্র। এ জ্বালানিতন্ত্রের ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি খাতে সুশাসন এবং সমতাভিত্তিক জ্বালানি বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। তাতে বৈষম্যহীন সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সে সুযোগে জ্বালানি নিরাপত্তা সংরক্ষণে জাতীয় সক্ষমতা অর্জনই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।
সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ মতে, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ এবং জনগণের অভিপ্রায়ের চরম অভিব্যক্তিরূপে দেশের সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। সেই জনগণের অভিপ্রায় ‘জ্বালানি নিরাপত্তা সংরক্ষণে জাতীয় সক্ষমতা অর্জন’। এ বিবেচনায় সেই অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিরূপে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চারটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন হয়। তাতে অনুধাবন করা যায়, রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জাতীয় চাহিদামতো ব্যবহার করা হলে বিদেশী পেশাদার বা বিশেষজ্ঞদের অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হতো না। আমলা নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি প্রশাসন বিলুপ্ত হতো। ওই প্রকল্প পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্তে পরিণত হতে সহায়ক হবে এবং সেই দৃষ্টান্ত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা সংরক্ষণে জাতীয় সক্ষমতা অর্জন’-এ নির্দেশনা দেবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবেন।
এম শামসুল আলম: জ্বালানি উপদেষ্টা, ক্যাব ও ডিন, প্রকৌশল অনুষদ, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়










