আমাদের দেশের খ্যাতিমান এক অভিনেতার জীবনে ঘটে যাওয়া খুব হূদয়বিদারক এক ঘটনার কথা মনে পড়ছে। তার এক ছেলে ছিল মাদকাসক্ত; আরেকজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ২০১২ সালের কোনো এক দুপুরে মাদকাসক্ত ছেলেটা টাকার জন্য বড় ভাইয়ের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে ডাইনিং টেবিলে থাকা ফল কাটার ছুরিটা বড় ভাইয়ের বুকে বসিয়ে দেয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পত্রিকায় সংবাদটি পড়ার সময় নিজেকে সেই হতভাগ্য বাবার জায়গায় কল্পনা করছিলাম। সন্তানের খুনের বিচার হচ্ছে; কিন্তু তিনি মনে শান্তি পাচ্ছেন না। কারণ যত অপরাধীই হোক—সেও তো আরেক সন্তান! অনেকটা তেমনিভাবে আজ যে বিষয়ে লিখছি তার ভিকটিম ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষই আমাদের প্রিয়জন। ফলে নির্যাতিত ছাত্র-ছাত্রীদের (বা তাদের অভিভাবকদের) কাছে ঘটনার বর্ণনা শুনে যেমন কষ্ট পাই। ঠিক তেমনিভাবে যখন অভিযুক্তদের শাস্তি দেয়া হয়; সেটাও মর্মপীড়ার কারণ হয়।
শিক্ষকতা পেশায় থাকা মানুষের বড় এক সমস্যা হলো, স্নেহভাজন সবাইকে নিজের ছাত্র-ছাত্রী ভেবে জ্ঞান দিতে শুরু করেন। নিজের সন্তান বা সরাসরি ক্লাসে পড়ানো শিক্ষার্থীদের যেমন উপদেশ ও পরামর্শ দেন, দূরবর্তী একজনকেও প্রসঙ্গক্রমে তেমনটা বলতে শুরু করেন। এতে অনেকেই বিরক্ত হয়, অনধিকার চর্চা বলে গণ্য করে। অস্থির এ সময়ে যখন নিজের বাবা-মা কিংবা বড় ভাই-বোনের কথাই মনোযোগ দিয়ে শোনার ধৈর্য হয় না; তখন অচেনা-অজানা একজনের কথা শুনতে তাদের বয়েই গেছে! এ ব্যাপারটা পুরোপুরি বোঝার পরও নিবন্ধটি লিখতে বাধ্য হচ্ছি। কারণ বছর বিশেক আগে এক বন্ধুকে বাবা-মায়ের অমতে পালিয়ে বিয়ের সাহায্য করতে পারায় নিজেকে যতটা ‘হিরো’ মনে হয়েছিল, আজ ততটাই অপরাধী মনে হয়! কারণ তখন সবকিছু দেখতাম সন্তানের চোখ দিয়ে। আর এখন নিজের অজান্তেই দেখি মা-বাবার দৃষ্টিকোণ থেকে। একেই বুঝি বলে ‘প্যারাডাইম শিফট’!
ফেসবুকে আমার সঙ্গে যুক্ত তিন হাজারের মধ্যে অন্তত দুই হাজার জন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে বা কিছুদিন আগে পড়ালেখা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে। ফলে প্রতিনিয়ত তাদের ভাবনা ও কাজকর্মের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ঘটে। বড়রা স্বার্থের নানা হিসাব-নিকাশ করে পা বাড়ালেও এখনো তরুণরা অসংখ্য ভালো কাজে যুক্ত রয়েছে। নেপালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার জন্য শাবির সাংস্কৃতিক কর্মীদের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে সারা দিন অর্থ সংগ্রহের যে আন্তরিক চেষ্টা দেখেছি, তা অতুলনীয়। সিডর, আইলাসহ বড় সব দুর্যোগে তারা এগিয়ে যাওয়ার জন্য কারো ডাকের অপেক্ষা করেনি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেও ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান কিংবা স্বাধীনতা সংগ্রামে সিংহভাগই ছিল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণ বা তাদের সমবয়সীরা। এখনো দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদানের সিংহভাগ তারাই করে থাকে। রাস্তায় কেউ বিপদে পড়লে আমরা পাশ কাটিয়ে গেলেও একজন শিক্ষার্থী তা পারে না। শীতার্তদের জন্য বস্ত্র সংগ্রহে তাদের নিরলস চেষ্টা আমাদের মুগ্ধ করে।
প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন হওয়ার পেছনেও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ভূমিকা থাকে বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের। অচেনা-অজানা এক শিক্ষার্থীকে অকাতরে নিজের বিছানাটি










