১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তথ্য-উপাত্তগুলো বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে প্রশংসনীয় অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরেছে, সেজন্য সরকারের নীতিপ্রণেতাদের অবশ্যই অভিনন্দন জানাতে হবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ নির্ণীত হওয়ায় এখন সরকার দাবি করতেই পারে যে চলতি বছর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ। বিবিএস গত পাঁচ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে চূড়ান্ত হারগুলো প্রকাশ করেছে সেগুলো হলো ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মানে, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারও পাঁচ বছর ধরে প্রশংসনীয়ভাবে ত্বরান্বিত হয়ে চলেছে। অবশ্য বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের এহেন সফলতার দাবি স্বীকার করবে না, তা-ও হয়তো আগেভাগেই বলে দেয়া যায়। কারণ জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর বাড়িয়ে বলছে—বিশ্বব্যাংক এ অভিযোগ থেকে সরে আসেনি। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের মনকষাকষি এবং টানাপড়েন এ প্রবৃদ্ধির হার-সম্পর্কীয় বিতর্কের পেছনে কতটুকু অবদান রাখছে, তা উপলব্ধি করা দুরূহ হলেও রাজনৈতিক কারণে প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে দেখানো উন্নয়নশীল দেশের সরকারগুলোর স্বাভাবিক প্রবণতা বলা চলে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর বিবিএস কর্তৃক প্রকাশিত প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে অনেক কম প্রবৃদ্ধি দেখালেও তাদের স্বীকার করতে হচ্ছে যে পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ক্রমবর্ধমান। আরো মজার বিষয় হলো, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি উদারভাবে বাংলাদেশের সাফল্যকে মেনে নিচ্ছে। অতএব, প্রবৃদ্ধির সংখ্যার খেলায় মেতে না উঠেও খুশি হওয়া যায় যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুবাতাস বইছে।

আমি আজকের কলামে এ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পেছনে ক্রিয়াশীল কতগুলো নেতিবাচক বাস্তবতার দিকে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, যেগুলো একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সঠিক পরিমাপক হিসেবে জিডিপির গ্রহণযোগ্যতাকে তাত্ত্বিকভাবে এখন ব্যাপক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। জিডিপির পাঁচটি কমপোনেন্ট রয়েছে, এটা এখন এ পরিমাপটির সঙ্গে পরিচিত সবারই জানা থাকার কথা: অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ভোগ+অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ+সরকারি ব্যয়+(