মহারাষ্ট্রের তাডোবা ন্যাশনাল পার্কে একটি বাঘ প্রথমে একটি স্ত্রী স্লথ বিয়ার ও তার শাবককে সহজ শিকার মনে করে আক্রমণ করতে যায়। কিন্তু ভাল্লুকটি পালিয়ে না গিয়ে উল্টো আক্রমণ করে বসে। ফলস্বরূপ, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে দুজনের মধ্যে এক ভয়ংকর লড়াই চলে। এটি দেখে বোঝা যায়, বাঘের মতো শক্তিশালী প্রাণীর বিরুদ্ধেও স্লথ বিয়ার নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম। এ ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, ভাল্লুকটির শরীর রোমশ হওয়ায় বাঘটি তার গলা কামড়ে ধরতে পারেনি। এক সময় ক্লান্ত হয়ে বাঘটি সরে যায় এবং ভাল্লুকটিও অক্ষত অবস্থায় ফিরে যায়।

স্লথ বিয়ার সাধারণত ফল, পিঁপড়ে এবং উইপোকা খেয়ে জীবন ধারণ করে, কিন্তু তারা যখন নিজেকে বা তার শাবককে বিপন্ন মনে করে, তখন আক্রমণ করে। ১৯৫০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বে বড় মাংসাশী প্রাণীর আক্রমণের ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্লথ বিয়ারের আক্রমণের সংখ্যা ১ হাজার ৩৩৭টি, বাঘের ১ হাজার ৪৭টি, নেকড়ের ৪১৪টি এবং পোলার বিয়ারের ২৩টি। অর্থাৎ অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর চেয়ে স্লথ বিয়ারের আক্রমণ করার হার অনেক বেশি। অবশ্য স্লথ বিয়ারের আক্রমণে মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম—৮ শতাংশ। তবে বন্যপ্রাণী গবেষকরা জানান, স্লথ বিয়ারের আক্রমণ মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ তারা সাধারণত মাথায় করে আক্রমণ করে এবং তাদের ধারালো ও লম্বা নখ দিয়ে মানুষের মুখ বা চোখ ক্ষতবিক্ষত করে দিতে পারে।

বন্যপ্রাণী গবেষক নিশ্চিত ধরইয়া জানান, স্লথ বিয়ার মূলত আত্মরক্ষার জন্যই এমন আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিয়েছে, যা তাদের বাঘের মতো শিকারি প্রাণীর হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, ‘এরা অন্য ভাল্লুকের চেয়ে বেশি হিংস্র নয়, তবে তাদের আক্রমণের ধরন বেশি মারাত্মক। বাসস্থান কমে যাওয়ায় মানুষ ও স্লথ বিয়ারের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বেড়েছে। এর ফলে মানুষ পাল্টা আক্রমণ করে ভাল্লুক মারতে শুরু করেছে, যা এই বিপন্নপ্রায় প্রজাতির জন্য একটি বড় হুমকি।’

ভারতের গুজরাটের উপজাতি অধ্যুষিত কিছু এলাকায় দেখা যায়, মানুষ ও স্লথ বিয়ার একই সময়ে মধু ও মহুয়া ফুল সংগ্রহের জন্য জঙ্গলে যায়, ফলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়ে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ধরইয়ার দল একটি বিশেষ লাঠি তৈরি করেছে, যার নাম ‘ঘণ্টি কাঠি’। এই লাঠির এক প্রান্তে কয়েকটি ঘণ্টা এবং অন্য প্রান্তে ভোঁতা স্পাইক লাগানো থাকে

ধরইয়া জানান, এই লাঠি নিয়ে হাঁটার সময় ঘণ্টা বেজে উঠলে ভাল্লুক বা অন্য কোনো বন্যপ্রাণী সতর্ক হয়ে যায় এবং দূরে চলে যায়। এতে মানুষ ও ভাল্লুকের সংঘর্ষ এড়ানো সহজ হয়। যদি কোনো কারণে ভাল্লুক খুব কাছে চলে আসে, তবে ভোঁতা স্পাইকগুলো ব্যবহার করে তাকে আহত না করেই দূরে সরিয়ে দেয়া যায়। এ পর্যন্ত ৫০০টি ঘণ্টি কাঠি স্থানীয় উপজাতি সম্প্রদায় এবং বন দপ্তরের কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, এই লাঠি বেশ কার্যকর। স্থানীয়রা বলছেন, এটি কেবল স্লথ বিয়ার নয়, বন্য শূকর এবং চিতাবাঘের মতো অন্যান্য বন্যপ্রাণী থেকেও তাদের রক্ষা করছে। ধরইয়া আশা করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষ স্লথ বিয়ার সম্পর্কে আরো সচেতন হবে এবং এদের সংরক্ষণে আগ্রহী হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, স্লথ বিয়ার বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এরা গাছের বীজ ছড়িয়ে দিতে এবং প্রকৃতিতে উইপোকার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।