গাজা থেকে আরো চার ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ হস্তান্তর করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। মঙ্গলবার গভীর রাতে কফিনে মোড়ানো মরদেহগুলো সংগ্রহ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে রেডক্রস। খবর বিবিসি।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরত পাওয়া চার মরদেহের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তারা হলেন — তামির নিমরোদি (২০), এইতান লেভি (৫৩) ও উরিয়েল বারুখ (৩৫)। চতুর্থ মরদেহের পরিচয় শনাক্তের কাজ এখনো চলছে বলে জানিয়েছে হোস্টেজেস ফ্যামিলিস ফোরাম।

এ পর্যন্ত গাজা থেকে মোট আটজন মৃত বন্দির মরদেহ ইসরায়েলে ফেরত এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আরো ২০টি মরদেহ ফেরত দেবে হামাস। মরদেহ ফেরত দেয়ার ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সব মরদেহ ফেরত না আসা পর্যন্ত গাজায় মানবিক সহায়তা সীমিত করা হবে।

অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মরদেহ শনাক্ত করা ও খুঁজে পাওয়ায় তাদের সমস্যা হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবারের মধ্যেই আরো চার মরদেহ ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী, সোমবার জীবিত ২০ জন ইসরায়েলি বন্দিকে ফেরত দিয়েছিল হামাস। এর একদিন পর মঙ্গলবার ইসরায়েলও ৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহতের মরদেহ গাজায় ফেরত দেয়, যা আন্তর্জাতিক রেড ক্রস নিশ্চিত করেছে। তবে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী সোমবার দুপুরের মধ্যেই বন্দি থাকা ৪৮ জনকেই ফেরত দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তা সম্পূর্ণ না হওয়ায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘হামাসকে তার চুক্তির দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং সমস্ত বন্দির মরদেহ যথাযথভাবে ফেরত দিতে হবে।’ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো সতর্ক করে বলেন, ‘যেকোনো বিলম্ব বা ইচ্ছাকৃত ফাঁকি যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর কঠোর জবাব দেয়া হবে।’

এরইমধ্যে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। মানবিক সহায়তার প্রবাহ আরো সীমিত করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় এক্সে দেয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘একটা বড় বোঝা হালকা হয়েছে, কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। মৃতদের এখনো ফেরত দেয়া হয়নি—যেমন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল! দ্বিতীয় ধাপ এখনই শুরু হচ্ছে!!!’