ওয়াশিংটন ডিসির গৃহহীন বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যথায় তাদের নগরটি থেকে বের করে দেয়া হবে বলে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাজে লাগিয়ে অপরাধীদের জেলে পোরা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যদিও জানুয়ারিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের কর্তৃত্ব গ্রহণের সময়কার হিসাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে অপরাধের হার ৩০ বছরে সর্বনিম্নে। খবর গার্ডিয়ান।

হোয়াইট হাউজ থেকে ভার্জিনিয়ায় নিজের গলফ কোর্সে যাওয়ার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘গৃহহীনদের বেরিয়ে যেতে হবে। এখনই। আমরা তোমাদের থাকার জায়গা দেবো। কিন্তু সেটি রাজধানী থেকে দূরে।’

ওই পোস্টে চারটি ছবি সংযুক্ত করে দেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ থেকে গলফ কোর্সে যাওয়ার পথে ছবিগুলো তোলা হয়। এর মধ্যে দুটি ছবিতে দেখা যায়, হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী একটি উড়ালসড়কের পাশে ঘাসের ওপর মোট ১০টি তাঁবুর একটি বসতি গড়ে উঠেছে। আরেকটি ছবিতে দেখা যায় ওয়াশিংটনের কনস্টিটিউশন অ্যাভেনিউতে অবস্থিতি আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব ফার্মাসি ভবনের সিঁড়িতে এক ব্যক্তি ঘুমিয়ে আছেন। চতুর্থ ছবিতে উঠে আসা দৃশ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের গাড়িবহর তার গল্ফ কোর্সের দিকে যাওয়ার সময় কেনেডি সেন্টারের কাছাকাছি ই স্ট্রিট এক্সপ্রেসওয়েতে কিছু আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ট্রাম্পের ওই পোস্টে আজ সোমবার অনুষ্ঠেয় একটি সংবাদ সম্মেলনের প্রচার চালানো হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটির মধ্য দিয়ে ‘ক্যাপিটাল ডিস্ট্রিক্টে সহিংস অপরাধ বন্ধ হবে।’ তবে তা কিভাবে করা হবে তা উল্লেখ করা হয়নি এতে।’

পরে ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী সোমবার সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) অনুষ্ঠেয় এ সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় ”শুধু রাজধানী নগরীতে অপরাধ, খুন ও মৃত্যুর ঘটনা থামানো নয়, বরং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও।”

ট্রাম্পের এ সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ফ্রি ডিসি মুভমেন্ট নামে একটি সংগঠন আজ সোমবার একই সময়ে একটি বিক্ষোভ র‍্যালির আয়োজন করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে গৃহহীনের সংখ্যা বা সহিংস অপরাধ বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব দাবি করছেন; প্রকৃতি পরিস্থিতি তার বিপরীত।

ওয়াশিংটন ডিসির গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করছে কমিউনিটি পার্টনারশিপ নামের একটি সংগঠন। এ সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, ৭ লাখ বাসিন্দার নগরীটিতে আশ্রয়হীন অবস্থায় রাত পার করেন প্রায় ৮০০ জনের মতো মানুষ। এছাড়া ওয়াশিংটনের জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় অবস্থান করেন আরো ৩ হাজার ২৭৫ জন। আর ট্রানজিশনাল হাউজিং ফ্যাসিলিটিতে থাকে আরো ১ হাজার ৬৫ জন।

ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে এসেছেন, ওয়াশিংটন ডিসিকে নিরাপদ করতে ফেডারেল আইন প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। যদিও নগরীর পুলিশ বিভাগের তথ্য পুরোপুরি ভিন্ন। এমনকি ফেডারেল সরকারের তথ্যও বলছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে সহিংস অপরাধ ২০২৩ সালের তুলনায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউসার এ বিষয়ে রোববার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এমএসএনবিসিকে বলেন, ‘আমাদের এখানে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে না। গত দুই বছরে আমরা সহিংস অপরাধ কমিয়ে ৩০ বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছি। চলতি বছরেও এখন পর্যন্ত সহিংস অপরাধ কমেছে আরো ২৬ শতাংশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ফেডারেল সংস্থাগুলোর সদস্যরা সবসময়ই ডিসির রাস্তায় থাকে। আমরা তাদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে থাকি।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণাধীন ডিসি ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের হুমকি দিয়ে চলেছেন। গত সপ্তাহেই বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার কর্মকর্তাদের ডিসিতে টহল বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা স্থানীয় ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে জানিয়েছেন, শনিবার রাতে বেশকিছু ফেডারেল কর্মকর্তাকে নগরীতে মোতায়েন করা হয়, যাদের সংখ্যা ৪৫০ জন পর্যন্ত হতে পারে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ আছে কেবল ফেডারেল ভূসম্পত্তি ও ভবনের ওপর। এ অবস্থায় তিনি কোন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজধানী থেকে মানুষজনকে উচ্ছেদ করবেন, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। যদিও হোয়াইট হাউজ এ বিষয়ে কোনো উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।