দামেস্কের শহরতলীতে হাফেজ আল-আসাদের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলেছে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানেও ছড়িয়ে পড়েছে অস্থিরতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রোববার (৮ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, হাজার হাজার মানুষ গাড়িতে এবং পায়ে হেঁটে দামেস্কের প্রাণকেন্দ্রে জড়ো হচ্ছেন। “স্বাধীনতা” স্লোগান দিচ্ছেন তারা।
দামেস্কের কেন্দ্র থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে দ্রুজ সম্প্রদায়ের অধ্যুষিত জেরমানা শহরতলির একটি প্রধান চত্বরে হাফেজ আল-আসাদের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলেছে বিক্ষোভকারীরা।
হাফেজ আল-আসাদ প্রায় তিন দশক যাবত সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি ছিলেন। হাফেজ এমন এক সময় সিরিয়ার হাল ধরেন যখন দেশটির প্রশাসন অভ্যুত্থান, পাল্টা-অভ্যুত্থানে জর্জরিত ছিল। হাফেজ রাষ্ট্রপতিত্ব গ্রহণের পর সিরিয়ায় সামরিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদস্বরুপ প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রয়াত পিতা হাফেজ আল-আসাদের ভাস্কর্যও ভেঙে ফেলেছে।
বিক্ষোভকারীদের এ সময় এলাকাটির সরকারি ভবনগুলোর দিকেও অগ্রসর হতে দেখা গেছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এ ধরণের প্রতিরোধকে বিরল বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
একই সময়ে দেরা শহররেও বিদ্রোহীরা প্রেসিডেন্ট আসাদেরও একটি ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে এবং বিজয় উদযাপনে গুলি ছোড়ে।
এছাড়া অনলাইনে পোস্ট করা বেশ কিছু ভিডিওতে দামেস্কের উমাইয়াদ স্কোয়ারে বেশ কিছু লোককে পরিত্যক্ত সামরিক ট্যাংকের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে এবং আনন্দ উদযাপনে গান গাইতে দেখা গেছে। দামেস্কে শোনা গেছে গোলাগুলির শব্দ। বেশ কিছু ভিডিওতে সিরিয়ার রাজধানী থেকে সরকারি সৈন্যদের শহর ছেড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
এদিকে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা প্রায় বিনা বাধায় রাজধানী দামেস্কে ঢুকে পড়ার পর বিমানে করে শহরটি ছেড়ে পালিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আর আসাদ।তবে প্রেসিডেন্ট পালালেও নিজ বাড়িতেই আছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। সকলকে যুক্তিযুক্তভাবে চিন্তা করার এবং দেশ নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্রোহীদের সহায়তায়ও প্রস্তুত আছেন তিনি।










