দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করে চারজনকে হত্যার ঘটনায় কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯৬ সালে ফ্লোরিডা ও কিউবার মধ্যবর্তী আকাশসীমায় দুটি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় সাবেক এ কমিউনিস্ট নেতার বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর আল জাজিরা।
স্থানীয় সময় বুধবার (২০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মামলা প্রকাশের ঘোষণা দেন। ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো রাউল কাস্ত্রোকে ধরে আনতে কোনো সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রাউল কাস্ত্রো ও আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে কিউবান-আমেরিকান সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় তিন মার্কিন নাগরিকসহ চারজন নিহত হন। ঘটনার সময় রাউল কাস্ত্রো কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল। তার মতে, এ মামলাকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের অজুহাত তৈরি করছে। কিউবা সে সময় নিজেদের জলসীমায় বৈধ আত্মরক্ষার স্বার্থে পদক্ষেপ নিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এ মামলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, কিউবান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে এবং মানবিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে।বিশ্লেষকদের মতে, একদলীয় কমিউনিস্ট শাসিত কিউবার ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটন এ মামলাকে একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।










