ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে সেনাসদস্য আহত ও মাইন বহনের একটি ভিডিও প্রকাশের পর কম্বোডিয়ার সঙ্গে থাইল্যান্ডের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। থাই কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী চং বক এলাকায় সম্প্রতি তিন সেনাসদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় সরাসরি কম্বোডিয়ার সেনাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় মাইন অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে অটোয়া চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। খবর ব্যাংকক পোস্ট ও দ্য নেশন।
গত ১৬ জুলাই থাইল্যান্ডের উবোন রাতচাথানি প্রদেশের চং বক সীমান্ত এলাকায় টহলের সময় একটি মাইন বিস্ফোরণে তিন সেনাসদস্য আহত হন। তাদের একজন পা হারান। পরে তদন্তে জানা যায়, সেখানে নতুন করে প্রায় ১০০টি মাইন পুঁতে রাখা হয়েছিল। সেগুলোর একটি বিস্ফোরণ ঘটে।
পরদিনই থাই সেনাবাহিনীর সুরানারি টাস্ক ফোর্স ওই এলাকায় মাইন সরানোর কাজ শুরু করে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাইনগুলো ‘পিএমএন-২’ ধরনের, যা রাশিয়ায় তৈরি এবং থাই সেনারা ব্যবহার করে না। তাদের ধারণা, মাইনগুলো কম্বোডিয়া থেকে এনে সীমান্তে পোঁতা হয়েছে। অভিযানে ক্লাস্টার বোমাও পাওয়া গেছে, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য ব্যবহার হয়।
এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে কম্বোডিয়ান সেনা বলে ধারণা করা এক ব্যক্তিকে ‘টিএম-৫৭’ ধরনের একটি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন হাতে সীমান্ত এলাকায় টহল দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি ১৯ জুলাই পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মুছে ফেলা হয়। তবে থাই সেনাবাহিনী ও বেসামরিক নাগরিকরা এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
কম্বোডিয়া অবশ্য দাবি করেছে, তারা অটোয়া চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশটি অতীতে মাইনমুক্তকরণে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তারা এ অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর বলেও মন্তব্য করেছে।
ঘটনার পর ব্যাংককে অবস্থিত কম্বোডিয়ান দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করে পিপল অ্যান্ড স্টুডেন্ট নেটওয়ার্ক ফর রিফর্ম অব থাইল্যান্ডসহ একাধিক সংগঠন। তারা কম্বোডিয়ার কর্মকাণ্ডকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানোর জন্য থাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে। থাই সরকার বলেছে, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।










