ট্রফি, মেডেল আর আন্তর্জাতিক পুরস্কারের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে বিশেষ দূর্বলতা রয়েছে—তা এখন আর কারো অজানা নয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে পেয়ে ট্রাম্পের মন বেশ বিষণ্ন। সেই দুঃখ ঘোচাতে এবার তাকে ‘সোনালী’ ট্রফি দিয়েছেন দেশটির এক বেনামী শিল্পগোষ্ঠী।
ট্রফি অবশ্য তার হাতে কেউ তুলে দেয়নি। বরং ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র মেমোরিয়াল বুকস্টোরের পাশে ১০ ফুট উঁচু সোনালী ট্রফির ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে শিল্পীরা। তবে এটি কোনো বিজয়ের ট্রফি নয়, ছোটবেলার স্পোর্টসে একদম শেষে থাকা প্রতিযোগীকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য যে ‘অংশগ্রহণমূলক ট্রফি’ বা ‘পার্টিসিপেশন ট্রফি’ দেয়া হয়—ঠিক তেমনই। ইরান যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ট্রাম্পকে দেয়া এ ট্রফির গায়ে বড় করে লেখা ‘#ওয়ান’, ‘পারটিসিপ্যান্ট’।
‘সিক্রেট হ্যান্ডশেক’ নামের একটি বেনামী শিল্পী গোষ্ঠীর তৈরি এ ট্রফিটি মূলত ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের বারবার ‘বিজয়’ দাবির বিষয়টিকে উপহাস করে নির্মিত। রণক্ষেত্রে কী হলো, কূটনীতিতে কত বড় বিপর্যয় ঘটল, কিংবা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কতটা নাগালের বাইরে চলে গেলো—তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে নিজেদের বিজয়ী দাবী করে চলেছেন। শিল্পীরা তাই এ ট্রফির নিচের ফলকটিতে উপহাস করে লিখেছেন: ‘যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশল কিংবা কূটনীতির ধার না ধেরে, চূড়ান্ত ফলাফলের তোয়াক্কা না করেই ট্রাম্প যে এ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার উৎসাহ দেখিয়েছেন, এই ট্রফি তার সেই অসীম সাহসের স্বীকৃতি।’
সোমবার সকাল থেকেই মূল ট্রফিটির পাদদেশে ছোট ছোট ট্রফি জমতে শুরু করেছে। শিল্পী গোষ্ঠীটি সাধারণ মানুষকেও এ আন্দোলনে শরিক হতে এবং তাদের নিজেদের ট্রফি বা মেডেল সেখানে রেখে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ট্রফিটি দেখতে ন্যাশনাল মলে এখন মানুষের ঢল। দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়াও দেখার মতো।
তবে হোয়াইট হাউজ এ প্রতীকী প্রতিবাদকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি নিউজউইক-কে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই প্রতিভাহীন ‘শিল্পীদের’ উচিত তাদের কুৎসিত ‘শিল্পের’ মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে মাথা না ঘামানো। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে সমস্ত লক্ষ্য অর্জন করেছে বেলও দাবী করেন তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডকে ব্যঙ্গ করে বিতর্কিত শিল্পকর্ম তৈরির জন্য ‘সিক্রেট হ্যান্ডশেক’ বেশ পরিচিত। এর আগে তারা একটি সোনালী কমোড, মার্কিন যুদ্ধকালীন প্রচারণাকে ব্যঙ্গ করে একটি বিশেষ আর্কেড ক্যাবিনেট এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে থাকার একটি মূর্তি তৈরি করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
নিউজউইক অবলম্বনে










