প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে পুরো কিউবা। গত শুক্রবার সকালে দেশটির মাতানজাস শহরের এন্তোনিও গুতেরেস বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে পুরো বৈদ্যুতিক গ্রিড অচল হয়ে পড়ে। এতে সৃষ্ট ‘ব্ল্যাকআউট’ পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দেশটির এক কোটি নাগরিক। খবর বিবিসি।

ব্ল্যাকআউটের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাইট ক্লাবসহ অপ্রয়োজনীয় স্থাপনা আগামীকাল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ চালু হতে পারে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কিউবার বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল করতে কতদিন লাগতে পারে সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। কয়েক মাস ধরে কিউবায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার ‘জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল মারেরো। দেশটির প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল বার্মুদেজ জানান, তার সরকার এ সংকট মোকাবেলার বিষয়কে অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরায় সচল হওয়ার আগে কোনো বিশ্রাম নেই।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের প্রধান লাজারা গুয়েরা বলেন, ‘সরবরাহ সচল করার প্রক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সামান্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা দিয়ে বেশকিছু এলাকার বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল করা সম্ভব হবে।’

বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হওয়ায় অতি জরুরি নয় এমন পেশাজীবীদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। এছাড়া অতি প্রয়োজনীয় ব্যতীত সরকারি পরিষেবাগুলোও সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, কিউবার নাগরিকদের পিক আওয়ারে ফ্রিজ ও চুলার মতো উচ্চ মাত্রায় বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় এমন যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল মারেরো এক টেলিভিশন বার্তায় ব্ল্যাকআউটের জন্য অবকাঠামোগত বিপর্যয়, জ্বালানির অভাব ও ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে দায়ী করেন। ন্যাশনাল ইলেকট্রিক ইউনিয়নের (ইউএনই) প্রধান আলফ্রেডো লোপেজ ভ্যালডেসও সাম্প্রতিক ব্ল্যাকআউটের জন্য জ্বালানির অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে মনে করেন।

প্রসঙ্গত, কিউবায় ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতি বর্তমানে রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২১ সালের জুলাইয়ে দেশের অধিকাংশ স্থানে ব্ল্যাকআউটের প্রতিক্রিয়ায় হাজার হাজার জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছিল। সে সময় বিদ্যুতের অভাবে ফ্রিজে থাকা খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হওয়া এবং এয়ারকন্ডিশনিং বা সিলিং ফ্যানের অভাবে দিনের পর দিন অসহনীয় গরমে নাগরিকরা হাঁপিয়ে উঠেছিল। বিদ্যুতের অভাবে অনেক আবাসিক ভবনে বৈদ্যুতিক পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলনও সম্ভব হচ্ছিল না। তাছাড়া জ্বালানির অভাবে পরিবহন ব্যবস্থাও স্থবির হয়ে পড়েছিল।

চলতি বছরের মার্চেও কিউবার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সান্তিয়াগোতে শত শত লোক ব্ল্যাকআউট এবং খাদ্যের অভাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ নিয়ে বাড়তি সচেতন হয়েছে কিউবা সরকার।