স্থানীয় সময় গতকাল উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প জানান, তেহরানের এ প্রস্তাবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য অগ্রহণযোগ্য। খবর রয়টার্স।
অ্যাক্সিওস ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি উত্তেজনা কমাতে তিন ধাপের একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। নতুন প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসংক্রান্ত বিষয়টি যুদ্ধের অবসান ও পারস্য উপসাগরে নৌ-পরিবহনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পর বিবেচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তেহরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসতে চায়, সেক্ষেত্রে নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা হতে পারে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রস্তাবটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। আর হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত শর্তগুলোর বিষয়ে অনড়। আর চূড়ান্ত শর্তের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।
নতুন প্রস্তাবের প্রথম ধাপে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ এবং ভবিষ্যতে ইরান ও লেবাননে কোনো আগ্রাসী হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে। দ্বিতীয় ধাপে, প্রথম শর্তগুলো মানা হলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে, আগের দুই ধাপের অগ্রগতি হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব রয়েছে।
গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছা যায়নি। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। এরপর দ্বিতীয় দফা সংলাপের আহ্বান জানায় পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনায় রাজি হলে পরবর্তী সংলাপ এগিয়ে নেয়া সম্ভব।










