ইসরায়েল স্বীকার করেছে যে, তারা হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যা করেছে। সে সঙ্গে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নেতৃত্বের প্রতি একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটি। গতকাল সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এসব মন্তব্য করেন। খবর আনাদোলু।
দুই দিন আগে হুতিদের করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষিতে করা কাটজের এসব মন্তব্য ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে ব্যর্থ হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি তেল আবিবে আঘাত করে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইসরায়েলের দৈনিক হারেটজ জানিয়েছে।
সেই সন্ধ্যায়, হুতিরা মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণের দায় স্বীকার করেছিল।
চলমান হামলার প্রসঙ্গে কাটজ বলেন, এই সময়ে যখন হুতি সন্ত্রাসী সংগঠন ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে, আমি একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে চাই— আমরা ইয়েমেনের হুতি সন্ত্রাসী সংগঠনকে গুরুতরভাবে দুর্বল করব।
কাটজ হুতিদের সতর্ক করে বলেন, আমরা তাদের কৌশলগত অবকাঠামো ধ্বংস করব এবং তাদের নেতাদের নির্মূল করব, যেমনটি আমরা ইসমাইল হানিয়া, ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং হাসান নাসরাল্লাহর সঙ্গে করেছি। আমরা আল হুদাইদাহ এবং সানায়ও সেইভাবে কাজ করব যেমন আমরা তেহরান, গাজা এবং লেবাননে করেছি।
গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে হুতিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলের কার্গো জাহাজ বা তেল আবিবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে এবং এ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যতক্ষণ না গাজায় আক্রমণ শেষ হয়।
সম্প্রতি একাধিক হাই প্রোফাইল হত্যার মধ্যে ইসরায়েল গত ২৭ সেপ্টেম্বর বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে একটি বিমান হামলা চালিয়ে হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যা করে। সিনওয়ারকে ১৭ অক্টোবর দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আর হানিয়াকে জুলাই মাসে ইরানের রাজধানী তেহরান সফরের সময় হত্যা করা হয়।
ইসরায়েলের মিডিয়া সংস্থা যেমন, ইয়েদিওথ আহরোনথ এবং চ্যানেল ১২ উল্লেখ করেছে যে, হানিয়াকে হত্যার ব্যাপারে কাটজের আগে কোনো জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা প্রকাশ্য স্বীকৃতি দেয়নি।










