রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেলেনস্কির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘‌ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হতে সহায়তা করেছেন জেলেনস্কি।’

গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এ মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রায়ই জেলেনস্কির সমালোচনা করে এসেছেন ট্রাম্প। তিনি জেলেনস্কিকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিক্রেতা বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, রাশিয়ার ২০২২ সালের আক্রমণের পর থেকে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা নিয়েছেন।

ট্রাম্প জেলেনস্কির বিরুদ্ধে মস্কোর সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন। তিনি পরামর্শ দেন, শান্তি চুক্তির জন্য ইউক্রেনকে হয়তো কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার জন্য ছেড়েও দিতে হতে পারে, যা কিয়েভের জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত। পিবিডি পডকাস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘শুধু যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ শুরুর জন্যও জেলেনস্কি দায়ী।’

যদিও রাশিয়াই ইউক্রেনের সার্বভৌম ভূখণ্ডে আক্রমণ করেছিল। ওই যুদ্ধ কখনো শুরুই হতে দেয়া উচিত ছিল না। যুদ্ধ মানেই একটি পরাজয়।’

জেলেনস্কি গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকে জয়ের পরিকল্পনা”তুলে ধরেছিলেন। যদিও বৈঠকটি উভয় নেতার মতে সৌহার্দপূর্ণ ছিল। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি নির্বাচনে জয়ী হলে ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা কমিয়ে দিতে পারেন।

এদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের শক্ত অবস্থান না নেয়ার বিষয়টিও নিয়মিত সমালোচনা করেছেন।

ট্রাম্পের সমালোচনা করে কমলা বলেন, ‘রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সক্ষমতা ট্রাম্পের নেই।’

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প ২০১৯ সালে জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনকে চাপ দেয়ার অভিযোগে অভিশংসিত হয়েছিলেন। পরে সিনেটে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।