সিরিয়ার সুয়েইদা প্রদেশে কয়েক দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বেদুইন ও দ্রুজ গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে অনেক এলাকায়ই এখনো পুরোপুরি শান্তি ফিরে আসেনি। সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, সুয়েইদা শহর থেকে বেদুইন যোদ্ধারা সরে গেছে এবং শহরের নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে রয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক জায়গায় পানি ও বিদ্যুৎ নেই, হাসপাতাল অচল, রাস্তায় পড়ে আছে মরদেহ। মানবিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। খবর আল জাজিরা ও রয়টার্স।

গত সপ্তাহে এক দ্রুজ ট্রাকচালককে অপহরণের ঘটনা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর জেরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেদুইন যোদ্ধারা সুয়েইদায় জমায়েত হয় এবং পাল্টা হামলা চালায়। কয়েক দিনের সহিংসতায় সরকারি বাহিনীও জড়িয়ে পড়ে। সরকারি হিসাবে, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৬০ হলেও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মতে মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন, বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৮৭ হাজারের বেশি।

এ অবস্থায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা শনিবার নতুন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তিনি সব পক্ষকে অস্ত্র পরিহার করে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই দিন বেদুইন পক্ষ জানায়, তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং সুয়েইদা শহর থেকে নিজেদের যোদ্ধা প্রত্যাহার করছে।

নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, শহরের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সংঘর্ষ থামাতে তারা কাজ করছে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গভীর প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং শহরের ভেতরের লড়াই থেমেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল সকাল পর্যন্ত সুয়েইদা শহরে কোনো গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, শহরে পানি ও বিদ্যুৎ নেই, হাসপাতালগুলো অচল এবং রাস্তায় মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, হাসপাতাল থেকে মৃতদেহের গন্ধ ছড়াচ্ছে, খাবার ও ওষুধের সংকট তো চলছেই।

দ্রুজদের ধর্মীয় নেতা হিকমত আল হাজরি যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং বেদুইন যোদ্ধাদের শান্তিপূর্ণভাবে শহর ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কিছু দ্রুজ নেতা এখনো অস্ত্র পরিহার করতে রাজি নন।

যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশ যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ শান্তি ও জাতীয় ঐক্য রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। জর্ডানের মধ্যস্থতায় সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংহত করতে আলোচনা হয়েছে। এ আলোচনায় বন্দি মুক্তি, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ও সামাজিক পুনর্মিলনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ও কিছু অগ্রগতি সত্ত্বেও এলাকাবাসী ও পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। অনেকে মনে করছেন, অবিশ্বাস আর প্রতিশোধের রাজনীতি পুরোপুরি না থামলে সংঘর্ষ আবারো শুরু হতে পারে।