ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রধান নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত নতুন নেতা গাজার বাইরে থেকে কাজ করতে পারেন। একই সময়ে সিনওয়ারের ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার গাজার মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য একটি বড় ভূমিকা নেবেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।

আন্তর্জাতিক কূটনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাসকে তার প্রধান মিত্র ইরানের পছন্দের পাশাপাশি কাতারের স্বার্থও বিবেচনা করতে হবে, যেখানে নতুন পলিট ব্যুরোপ্রধান পদের দাবিদার মূল প্রার্থীরা বর্তমানে বসবাস করছেন।

বুধবার গাজার রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারান ইয়াহিয়া সিনওয়ার। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, হামাসপ্রধান ইসরায়েলিদের হামলায় নিহত হয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনওয়ার গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সাবেক নেতা ইসমাইল হানিয়েহকে জুলাইয়ে ইরানে হত্যা করা হয় এবং এ মৃত্যুতে ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সিনওয়ার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি গাজার সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব উভয়কে একত্র করেছিলেন। কিন্তু এবার তা নাও হতে পারে। এক বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি হামলাগুলো হামাসকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং বহু যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তাই এ নতুন আঘাতের পর গোষ্ঠীটি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, তা স্পষ্ট নয়।

সিনওয়ারের মৃত্যুর পর হামাস আবারো নতুন নেতৃত্বের সন্ধান করছে। এবিসি নিউজ বলছে, হামাসের নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তন গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ এবং হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় আলোচনা পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনার ওপর প্রভাব ফেলবে।

কাতারভিত্তিক হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইসরায়েল আগে হামাসের অন্য নেতাদেরও হত্যা করেছে, যাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠাতা নেতা শেখ আহমেদ ইয়াসিন ও তার উত্তরাধিকারী আবদেল আজিজ রান্তিসি অন্তর্ভুক্ত। ২০০৪ সালে এক বিমান হামলায় তাদের হত্যা করা হয়।’

গাজায় সামরিক অভিযানে সিনওয়ারের মৃত্যুর প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তুরস্কভিত্তিক ফিলিস্তিনি ডায়ালগ গ্রুপের প্রধান সাদিক আবু আমের বলেছেন, ‘এটি হামাসের রাজনৈতিক কাঠামোকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে না। কারণ যখন সিনওয়ারকে নিযুক্ত করা হয়েছিল তখন হামাস একটি ব্যবস্থা তৈরি করে, যাতে তারা তার সাহায্য ছাড়াই রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।’

সিনওয়ারের মেয়াদ ছিল অস্থায়ী, যা ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে শেষ হওয়ার কথা ছিল।৷ গাজার রাজনৈতিক বিশ্লেষক থাবেত আল-আমোর বলেন, ‘হামাস বর্তমানে রাজনৈতিক ব্যুরোর নতুন প্রধান নির্বাচন করতে তাড়াহুড়ো করবে না।’ তিনি উল্লেখ করেছেন যে কাতারে সিনওয়ারের সহকারী খালিল আল-হাইয়া এরই মধ্যে নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং তিনি এটি চালিয়ে যেতে পারেন।