গাজা উপত্যকায় তীব্র শীতে হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছে ৮ম শিশু। আশ্রয়হীন অবস্থায় সেখানে তীব্র শীতে মানুষ কঠিন সময় অতিক্রম করছে। ইসরায়েল মানবিক সাহায্যের প্রবেশে বাধা দেয়ায় এ বিপর্যয় আরো তীব্র হয়ে উঠেছে মানুষের জন্য। খবর আল জাজিরা।
হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা শিশু ইউসুফের মা বলেন, আমি ইউসুফের মা। আমি তাকে হারিয়েছি। সে খুব ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে মারা গেছে। আমার পাশেই ঘুমিয়েছিল সে, আর সকালে উঠে দেখি, সে জমে গেছে এবং মৃত। আমি কী বলব জানি না। আমার দুঃখ কেউ অনুভব করতে পারবে না। আমাদের ভয়াবহ অবস্থাকে পৃথিবীর কেউ বুঝতে পারবে না। ইউসুফ ঠিকঠাক ছিল। সে সুস্থ হয়ে জন্মেছিল। তাকে আমি চিরতরে হারালাম।
হাইপোথার্মিয়ায় মানুষের শরীরের কেন্দ্রীয় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে নেমে যায়। এ সময় তাপ উৎপাদন করার চেয়েও বেশি হারে তাপ হারাতে থাকে শরীর। হাইপোথার্মিয়া শুরু হয়ে গেলে অবধারিতভাবেই মানুষটির শরীরে কাঁপুনি শুরু হয়ে যায় আর সেই সঙ্গে স্বাভাবিক চলাফেরার ক্ষমতা হ্রাস পায়। মানুষ দিকভ্রান্ত হয়, হোঁচট খেতে থাকে এবং গতি ধীর হয়ে যায়। তবে এটা হলো প্রথম পর্যায়ের লক্ষণ। পরবর্তী পর্যায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হৃৎস্পন্দন আশঙ্কাজনক মাত্রায় কমে আসে, মানুষ জ্ঞান হারায় এবং মারা যায়।
এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টার বিমান হামলায় রাফাহে অন্তত চারজন এবং বুরেইজে আরো তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত তিন দিনের তীব্র বোমাবর্ষণের পর ঘটল এই হত্যাকাণ্ড, যেখানে গাজা উপত্যকা জুড়ে প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু ঘটেছে।
এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ হাজার ৮০৫ ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত ১ লাখ ৯ হাজার ৬৪ জন আহত হয়েছেন।










