রোজা চামামি নামের এক গ্রামবাসী প্রতিদিন সকালে তার উঠোনে শক্ত কাগজের বাক্স দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে রান্না করেন। মজার বিষয় হলো, এই বাক্সগুলো এক সময় প্রায় ৮ লাখ সোলার প্যানেল রাখার কাজে ব্যবহার করা হতো। সোলার প্যানেলের বাক্স পৌঁছালেও তার ঘরে পৌছেনি বিদ্যুৎ। রুবি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রোজার বাড়ি থেকে মাত্র ৬০০ মিটার দূরে। রাতে এই কেন্দ্রটির সারি সারি প্যানেল সাদা আলোতে জ্বলজ্বল করে। কিন্তু তার নিজের গ্রাম সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে থাকে, কারণ তাদের বাড়িতে জাতীয় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।
পাম্পা ক্লিমসি গ্রামের ১৫০ জন বাসিন্দার কেউই সরকারি বিদ্যুৎ লাইন পান না। কিছু পরিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোম্পানি ‘ওরিজেন’ থেকে সোলার প্যানেল উপহার পেলেও, তাদের অধিকাংশই ব্যাটারি বা কনভার্টার কেনার সামর্থ্য রাখে না। ফলে রাতে তারা টর্চ বা মোবাইলের আলো ব্যবহার করে, নয়তো বসে থাকে অন্ধকারেই।
এই বিপরীত চিত্রটি খুবই চোখে পড়ার মতো—রুবি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বছরে প্রায় ৪৪০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করে, যা প্রায় ৩ লাখ ৫১ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য যথেষ্ট। আর যে মোকেগুয়া অঞ্চলে এটি অবস্থিত, সেখানে বছরে ৩ হাজার ২০০ ঘণ্টারও বেশি সময় সূর্যের আলো পাওয়া যায়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালক মার্কো ফ্রাগালে জানান, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাম্পা ক্লিমসি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তারা একটি বিশেষ লাইন এবং ৫৩টি টাওয়ার তৈরি করেছেন। এর জন্য প্রায় ৮ লাখ ডলার খরচ হয়েছে, কিন্তু এর পরের ধাপের কাজ, অর্থাৎ নতুন লাইন থেকে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া, এটা সরকারের দায়িত্ব। সরকারের খনি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের এই কাজটি করার কথা ছিল, কিন্তু এখনো সেই কাজ শুরু হয়নি।
রোজার বাড়িতে কোনো সকেট নেই। ফোন চার্জ দেয়ার জন্য তিনি পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়ান, যদি কারও কাছ থেকে একটু বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তার বাড়িতে ফ্রিজ না থাকায় তারা কেবল এমন খাবারই খেতে পারেন যা ঘরের তাপমাত্রায় ভালো থাকে।
গ্যাস শেষ হয়ে গেলে তারা কাঠ ব্যবহার করে রান্না করেন। কিন্তু অন্ধকারের কারণে রাতে রান্না করা কঠিন। এই একুশ শতকেও বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের জীবনযাত্রা অনেক কঠিন, কিন্তু তারপরও তারা এই গ্রামে রয়ে গেছেন। কেন? রোজার সহজ উত্তর, ‘কারণ এখানে সূর্য আছে। এখানে আমরা সবসময় সূর্য পাই।’ এই আশা নিয়েই তারা অপেক্ষা করছেন যে একদিন তাদের গ্রামও আলোকিত হবে।










