গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া শহরে ইসরায়েলের হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮৭ জন নিহত হয়েছে। এ হামলায় ৪০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর বিবিসি।

শনিবার গভীর রাতে বোমাবর্ষণের পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অনেকে এখনো আটকা পড়ে আছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতির কারণে সেখানে অ্যাম্বুলেন্স যেতে পারছে না। ইসরায়েল বলছে, তারা হতাহতের খবর খতিয়ে দেখছে। তবে তারা হামাসের দেয়া তথ্যকে ‘অতিরঞ্জিত’ উল্লেখ করে বলেছে যে এর সঙ্গে তাদের সামরিক বাহিনীর তথ্যের মিল নেই।

গতকাল সকালে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি বৈরুতের দক্ষিণেও লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী গত একদিনে গাজা ও লেবাননে প্রায় ১৭৫টি ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে।

ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, পুরো আবাসিক কমপ্লেক্সটি ওই হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ওই অঞ্চলে যোগাযোগ ও ইন্টারনেটসেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বেইত লাহিয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।

শহরের ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে ইসরায়েলি সেনাদের ব্যাপক গোলাগুলির খবর প্রকাশের পরই সর্বশেষ এ বিমান হামলা চালানো হলো।

ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) বিবিসিকে বলেছে, তারা ‘হামাসের সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা করেছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে। ইসরায়েল অক্টোবরের শুরু থেকে নতুন করে গাজার উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তারা বলছে, ওই এলাকায় পুনরায় সংগঠিত হওয়া থেকে হামাসকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে, ইসরায়েলি বাহিনী ঘনবসতিপূর্ণ জাবালিয়া এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে। এর মধ্যে একটি শরণার্থী শিবিরও আছে। শুক্রবার সেখানে হামলায় ৩৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সাহায্য সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ওই এলাকায় কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি। ইসরায়েলের নিজেদের তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিকভাবে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে।

জাতিসংঘের শীর্ষ মানবিকসহায়তা কর্মকর্তা জয়েস মসুয়া শনিবার বলেন, ‘উত্তর গাজায় ফিলিস্তিনিরা ‘‘অবর্ণনীয় ভয়াবহতার’’ মধ্যে রয়েছে।’ তিনি এসব নৃশংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।