প্রেসিডেন্ট আল-আসাদের ২৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে বলে ঘোষণা করেছে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা। রোববার (৮ ডিসেম্বর) রাজ্য টেলিভিশনে এই ঘোষণা দেয় বিদ্রোহীরা। খবর রয়টার্স।
সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসাদ-শাসনের পতনের পরে দামেস্ক থেকে অজানা গন্তব্যে পালিয়ে গেছেন আল-আসাদ। বিনা বাধায় রাজধানীতে প্রবেশ করেছে বিদ্রোহীরা।
বিদ্রোহীরা আরো জানান, সিরিয়ার জনগণ এই ঘটনাকে স্বাধীনতার উদযাপন হিসেবে দেখছে। তারা দামেস্কের সেন্ট্রাল স্কয়ারে একত্রিত হয়ে ‘স্বাধীনতা’ ও ‘আসাদ পালিয়ে গেছে’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। বিদ্রোহীরা সেডনায়া কারাগারের কয়েদিদের মুক্তির কথাও জানিয়েছে।
আসাদ শাসনের পতন মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইরানের জন্যও আসাদের পতনকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন তারা।
সিরিয়ার দীর্ঘ ১৩ বছরের যুদ্ধ দেশটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে, লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে এবং লক্ষাধিক মানুষকে শরণার্থী হতে বাধ্য করেছে।
পশ্চিম সিরিয়ায় বিদ্রোহী বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে রয়েছে প্রাক্তন আল-কায়েদা সহযোগী হায়াত তাহরির আল-শাম । যদিও এই গোষ্ঠী শাসনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবু অনেকে শঙ্কিত যে তারা কঠোর ইসলামি আইন চালু করতে পারে।
এরই মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো বিদ্রোহী নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে চিন্তিত।
এদিকে বিদ্রোহীরা হোমস শহর দখল করার পরে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায় এবং তাদের নথি পুড়িয়ে ফেলে। হাজার হাজার বাসিন্দা শহরের রাস্তায় নেমে আসাদ সরকারের পতন উদযাপন করে।
তবে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন শঙ্কার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।










