বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এসব অঞ্চলে ১৬ হাজার ৫০০ জনের ডেঙ্গু হয়েছে এবং অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সামোয়া, ফিজি ও টোঙ্গা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সাধারণত ঋতুভিত্তিক হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন বছরের বেশির ভাগ সময়জুড়েই ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা, বৃষ্টি এবং আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, এমনকি যেসব এলাকায় আগে ডেঙ্গু হতো না, সেখানেও এখন এর বিস্তার ঘটছে।
ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের বিশেষজ্ঞ ড. জোয়েল কফম্যান বলেন, ‘ডেঙ্গু হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রথম বড় রোগগুলোর মধ্যে একটি। পৃথিবীর তাপমাত্রা যদি আরো বাড়তে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ডেঙ্গুর মতো বিপজ্জনক অনেক রোগই অহরহ হয়ে যাবে।’
চলতি বছর বছর সামোয়াতে ৫ হাজার ৬০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফিজিতে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের, যেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। টোঙ্গাতেও ৮০০ জনের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে মারা গেছেন ৩ জন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশা নিধনের জন্য স্প্রে করা এবং স্বাস্থ্য বার্তা প্রচারের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এসব দেশ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামোয়াকে আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ব্যবস্থাগুলো যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, সাধারণত নজরদারির দুর্বলতার কারণেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে। আর ছড়িয়ে পড়ার পর যে ব্যবস্থা নেয়া হয় তা ততটা কার্যকর হয় না।










