দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসির তথাকথিত ‘ সেইফ জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চলে বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে সেখানে কমপক্ষে ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ১৪ মাস ধরে চলা এ হত্যাযজ্ঞের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকট আরো গাঢ় হয়ে উঠেছে প্রচণ্ড বৃষ্টি, ঠাণ্ডা এবং খাদ্যের অভাবে। খবর আল জাজিরা।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হামাসকে সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি তারা ইসরায়েলে হামলা বন্ধ না করে এবং গাজার বন্দিদের মুক্তি না দেয়, তবে ইসরায়েল ‘দীর্ঘ সময়ে দেখা যায়নি’ এমন শক্তি দিয়ে গাজায় আঘাত করবে।

আল-মাওয়াসির সেই নিরাপদ বা মানবিক অঞ্চলটিতে আশ্রয় নিয়েছিল বাস্ত্যচ্যুতরা। এ বোমা হামলায় ১০ জনের প্রাণহানি ছাড়াও প্রায় ১৫ জনের মতো আহত হয়েছেন। আল কুদস টুডে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও তিনটি শিশু রয়েছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এই এলাকাটিকে মানবিক অঞ্চল হিসেব স্বীকৃতি দিলেও বারবার আক্রমণ করে আসছে। এ অঞ্চলে হামলায় হতাহতের সংখ্যা শত শত। আগেরদিন বর্ষবরণেও গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। উত্তরের জাবালিয়া এবং মধ্যাঞ্চলে আল বুরেজ শরণার্থী শিবিরে হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর গাজার জনসংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরুর পর গাজায় হত্যাযজ্ঞে প্রাণ গেছে সাড়ে ৪৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির। হামলায় এখন পর্যন্ত আহত হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে এখনো নিখোঁজ অন্তত ১৩ হাজার মানুষ।

গাজার অবকাঠামোসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। একাধিকবার জারি করা হয়েছে দুর্ভিক্ষ সতর্কতা। কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনো আশার আলো দেখেনি গাজায় যুদ্ধবিরতি।