মুঠোফোনের ব্যাটারির সক্ষমতা তিন গুণ বাড়ানোর একটি উপায় বের করেছেন গবেষকরা। উন্নত এ প্রযুক্তিতে ব্যাটারির চার্জ ধারণের সক্ষমতা ও এর স্থায়িত্ব তিন গুণ বাড়বে বলে দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার রয়াল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (আরএমআইটি) গবেষকরা। খবর টেকটাইমস।

বর্তমানে মুঠোফোনে যেসব ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় এগুলোর স্থায়িত্ব সাধারণত দুই-তিন বছর। নতুন এ গবেষণার ফলে আরো দীর্ঘ সক্ষমতা ও স্থায়িত্বের ব্যাটারি সেবা পাবেন গ্রাহকরা, যা এ খাতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলে দাবি করা হচ্ছে।

আরএমআইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন উপায়ে একটি ব্যাটারি তৈরির তারিখ থেকে পরবর্তী নয় বছর গ্রাহকদের সেবা দেবে। গবেষক দলের প্রধান লেইসলি ইয়ো বলেন, ‘‌বর্তমানে প্রচলিত মুঠোফোনের ব্যাটারির কার্বনে প্রচুর রাস্ট (মরিচা) জমে, যা ব্যাটারির স্থায়িত্বকাল কমিয়ে দেয়। নতুন এ পদ্ধতিতে এসব রাস্ট সরিয়ে ফেলা যাবে। ফলে ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়বে। আমাদের গবেষণায় উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে একটি উচ্চশব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে এসব রাস্ট পরিষ্কার করা হবে। যা ব্যাটারির কার্যক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখবে।’

গবেষক দলের অন্যতম সদস্য সহযোগী অধ্যাপক আমগাদ রেজক বলেন, ‘‌সাধারণত মরিচা পড়ে যাওয়ায় দুই-তিন বছর পরই ব্যাটারির অবস্থার অবনতি হয়। নতুন পদ্ধতিতে এসব মরিচা সরানো যাবে, যা ব্যাটারির স্থায়িত্ব দুই-তিন গুণ বাড়িয়ে দেবে। আমাদের আবিষ্কার নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসব। এ খাতে এটা একটা যুগান্তকারী আবিষ্কার হতে পারে।’

গবেষকদের দাবি, বর্তমানে মুঠোফোনের গ্রাহক সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন তাদের ব্যাটারি নিয়ে। বিশেষত যেসব মুঠোফোনে নন রিমুভাল ব্যাটারি ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন এ আবিষ্কার কাজে লাগানো গেলে গ্রাহকের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশের জন্যও সহায়ক হবে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে বিশ্বে ব্যাটারির চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষয়প্রাপ্ত ব্যাটারি যখন বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেয়া হয় তখন সেগুলো ভূগর্ভস্থ জল এবং মাটিকে দূষিত করে। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করা হলে এসব লিথিয়াম ব্যাটারি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন গবেষক ও বিশ্লেষকরা।