ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নতুন করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো প্রতিশোধমূলক সাইবার হামলার শিকার হতে পারে। একইভাবে ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে যে শক্তিশালী সাইবার হামলা চালানো হচ্ছে, তা বিশ্বব্যাপীও ছড়িয়ে পড়তে পারে। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট।
সিনেট ইন্টেলিজেন্টস কমিটির প্রধান ও সিনেটর মার্ক আর ওয়ার্নার এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, এ ধরনের হামলা যদি আরো বিস্তৃত ও আগ্রাসী হয় তাহলে তা ন্যাটোকে পরীক্ষায় ফেলবে।
ওয়ার্নার সতর্ক করেন, সামরিক আগ্রাসনের পাশাপাশি রাশিয়ার সাইবার অপরাধীরা পশ্চিমা দেশগুলোয় ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর ওপর চালানো সাইবার হামলায় সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করতে পারে ক্রেমলিন।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জিম লুইস বলেছেন, রাশিয়ানদের জন্য কৌশলগত সমস্যা তৈরি না করে পশ্চিমাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো মিত্রদের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী এ আক্রমণ প্রশ্ন উত্থাপন করে যে আমরা অচিহ্নিত সীমানায় বাস করছি। রাশিয়া ওইসব দেশের মধ্যে অন্যতম, যারা প্রতিপক্ষ দেশগুলো লক্ষ্য করে হ্যাকিং টুলস উদ্ভাবন ও ব্যবহারে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়; যা সামরিক হামলার মতোই হুমকির।
গত বুধবার সরকারের তথ্য অনুসারে, ইউক্রেনের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা সাইবার হামলার কারণে সমস্যাগ্রস্ত হয়। আর গত সপ্তাহে ব্যাংক ও সরকারি সাইটগুলোয় হামলার জন্য রাশিয়ান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউকে দায়ী করেছে হোয়াইট হাউজ। যদিও এসব হামলা এখনো ইউক্রেন সীমান্তের বাইরে বিস্তৃত হয়নি। রাশিয়ার ইউক্রেন হামলার সময় যে ধ্বংসাত্মক সফটওয়্যার মোতায়েন করা হয়েছে, তা লিথুয়ানিয়া ও লাটভিয়াতেও পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার ব্রডক্যামের সিম্যানটিক সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, ম্যালওয়্যার, যা কম্পিউটারে গভীরভাবে প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল আর্থিক নিরাপত্তা, বিমান ও প্রযুক্তি শিল্প। অন্তত কিছু ক্ষেত্রে এটা এসেছিল সাধারণ র্যানসমওয়্যারের ছদ্মবেশে।
ক্রাউডস্ট্রাইকের সাবেক প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা দিমিত্রি আলপারোভিটচ ও সিম্যানটেকের গবেষণাপ্রধান বিক্রম ঠাকুর বলেছেন, ইউক্রেনের বাইরের ডিজিটাল অনুপ্রবেশগুলো ন্যাটো ও তার মিত্রদের আক্রমণ করার জন্য একটি সমন্বিত চেষ্টার পরিবর্তে স্পিলওভার বলে মনে হয়েছে। রাশিয়ার সাইবার অস্ত্রের ব্যবহার ন্যাটোতে নতুন করে দ্বিধা তৈরি করতে পারে। ২০২১ সালে ন্যাটো বলেছিল, তারা কেস বাই কেস ভিত্তিতে সাইবার হামলা মোকাবেলা করবে। কখন পঞ্চম অনুচ্ছেদ ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে। ন্যাটো সদস্যভুক্ত কোনো দেশে হামলায় অন্য সদস্যরা অংশগ্রহণ করবে কিনা, তা ওই অনুচ্ছেদের আলোচ্য বিষয়। ধারাটি প্রথমবারের মতো আনা হয়েছিল যখন নাইন ইলেভেনে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়। এটি ন্যাটো মিত্রদের মার্কিন সামরিক সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্র তৈরি করে। আলপারোভিটচ বলেন, তিনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর সাইবার প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে ধারণা করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এখনো বড় কোনো সাইবার হামলার তথ্য পাওয়া না গেলেও ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠানকে বলছি, তারা যেন নিজস্ব সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। গত কয়েক বছরে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিরোধে ইউক্রেনকে পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছে মস্কো।










