পেইড সাবস্ক্রিপশনের পরীক্ষা চালাচ্ছে টিকটক। সম্প্রতি টেক ক্রাঞ্চকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাইটডান্স মালিকানাধীন কোম্পানিটি। এ ফিচারের মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের কনটেন্টের জন্য সাবস্ক্রিপশন ফি দাবি করতে পারবেন। শুরুতে অল্প কিছু গ্রাহকের জন্য এ ফিচার চালু করেছে চীনভিত্তিক ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মটি। এখনই সবার জন্য এ সেবা উন্মোচন করছে না তারা।

সম্প্রতি ‘পেইড সাবস্ক্রিপশন’ সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালুর কথা জানিয়েছে ইনস্টাগ্রাম। সেই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই একই পথে হাঁটার খবর নিশ্চিত করেছে হালের জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম টিকটক।

ইনস্টাগ্রাম একটি ব্লগপোস্টে জানায়, শুরুতে ১০ জন নির্মাতাকে নিয়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি শুরু করছে ইনস্টাগ্রাম। তবে ক্রমান্বয়ে আরো কনটেন্ট নির্মাতা এর সঙ্গে যুক্ত হবেন। শুরুতে বাস্কেটবল তারকা সেডোনা প্রিন্স, অলিম্পিয়ান জর্ডান চিলেস ও জ্যোতিষী আলিজিয়া কেলি এর অংশ হবেন বলে জানিয়েছে সাইটটি।

‘সাবস্ক্রাইবার অনলি’ কনটেন্টের জন্য ভক্তদের মাসিক হিসেবে গাঁটের পয়সা খরচ করতে হবে। ওই ‘এক্সক্লুসিভ’ কনটেন্টের মধ্যে পড়বে নির্মাতাদের ‘লাইভ’ ভিডিও ও ‘স্টোরিজ’। এছাড়া সাবস্ক্রাইবারদের নামের পাশে বসবে একটি বেগুনি রঙের ব্যাজ, যা দেখে তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারবেন কনটেন্ট নির্মাতারা। এ সাবস্ক্রিপশনের খরচও নির্দিষ্ট নয়।

টিকটক মুখপাত্র জ্যাকারি কাইজার এক ই-মেইল বার্তায় জানান, টিকটক সবসময়ই নিজস্ব কমিউনিটিতে আরো মূল্যবোধ যোগ এবং টিকটকের অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নত করার নতুন উপায় নিয়ে ভাবছে।

টিকটক নিজস্ব ব্যবসা কাঠামোয় ঠিক কীভাবে সরাসরি নির্মাতাদের সঙ্গে লেনদেনের ফিচার যোগ করবে, সে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। বাজারের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপরীতে টিকটককে সাফল্য এনে দিয়েছে এর অ্যালগরিদম। ব্যবহারকারীর ‘ফর ইউ’ পেজে নতুন নতুন কনটেন্ট নিয়ে আসে অ্যালগরিদমটি। নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছানো ও তাদের গ্রাহকে পরিণত করার জন্য এ প্রচার কৌশলটি কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। তবে নির্মাতারা যদি ‘পেইড সাবস্ক্রাইবার’দের জন্য তাদের সেরা কনটেন্টগুলো আলাদা করে রাখেন তাহলে অ্যালগরিদমের অংশ হবে না ওই কনটেন্ট। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, সাবস্ক্রাইবার নন এমন ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছবে না নির্মাতার সেরা কাজগুলো, ফলে সাবস্ক্রিপশনে আগ্রহী না-ও হতে পারেন ব্যবহারকারীরা।

এ জটিলতার ভুক্তভোগী টিকটক একা নয়। কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সারদের আয়ের সুযোগ করে দিতে নানা কৌশল নিয়ে ভাবছে বাজারের প্রায় সব সামাজিক মাধ্যম এবং একই জটিলতার মুখে পড়ছে সব প্রতিষ্ঠান।