মহামারী-উত্তর সময়ে আবারো শক্তিশালী হয়ে উঠছে সিলিকন ভ্যালি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোগের মূলধন, রিয়েল এস্টেট ও বাজার মূলধনীকরণ সূচক প্রযুক্তি শিল্পকে শক্তিশালী অবস্থায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২২ সালের সিলিকন ভ্যালি ইনডেক্স বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, এ অঞ্চলে প্রযুক্তি শিল্পে কর্মসংস্থান ২৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। যা কয়েক বছর ধরে ২৫ শতাংশে আটকে ছিল। এ উন্নতি হয়েছে মূলত বিভিন্ন কারিগরি নিয়োগের ফলে। খবর সি-নেট।

সিলিকন ভ্যালিতে উল্লেখযোগ্য হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছে দুটি বৃহৎ আকারের প্রতিষ্ঠান—অ্যাপল এবং গুগলের প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্মিলিতভাবে ওই দুই কোম্পানিতে সিলিকন ভ্যালির ১৩ শতাংশ কর্মী কাজ করছেন।

জয়েন্ট ভেঞ্চার সিলিকন ভ্যালির সিইও রাসেল হ্যানকক বলেন, একসময় ছোট ও মাঝারি কোম্পানিতে প্রচুর প্রযুক্তিবিদ কাজ করতেন। বর্তমানে সিলিকন ভ্যালির কর্মসংস্থান কিছু বড় কোম্পানির মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। প্রতিবেদনটি এক বছর পর প্রকাশিত হয়, যে সময়ে করোনা মহামারীর কারণে স্কুলগুলো অনলাইন ও মানুষের জীবনযাপনের অনেক কিছুই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তি খাতে যারা উপকৃত হন, প্রতিবেদনটি তাদের ব্যবসায়িক সাফল্যের একটি চিত্র তুলে ধরে। ফলাফল সিলিকন ভ্যালি ও বৃহত্তর সানফ্রান্সিসকো বে অঞ্চলে একটি গভীর পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। যেখানে প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন না, এমন ব্যক্তিরা বাসায় থেকে কাজ ও স্কুলের সুবিধা পাননি।

প্রতিবেদনে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈষম্যের বিষয়টিও উঠে আসে। এতে দেখা যায়, ২৫ শতাংশ ধনী প্রযুক্তি কোম্পানির হাতে রয়েছে মোট সম্পদের ৯২ শতাংশ। এর মধ্যে আবার শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের হাতে রয়েছে ৭৫ শতাংশ সম্পদ। হ্যানকক বলেন, যদি সিলিকন ভ্যালি একটি দেশ হতো, তাহলে সম্পদের অসমতা রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করত।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, সম্পদের অসমতা একটি দেশের জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ ঘটায়। মহামারী এ প্রবণতা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। এ খাতে সংখ্যালঘুদের জন্য পরিস্থিতি আরো খারাপ। লাতিনদের জন্য ৬১ শতাংশ বাড়লেও কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৪৬ শতাংশ। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অবিশ্বাস্য সম্পদের অধিকারী হয়েছে। সিলিকন ভ্যালি ও সানফ্রান্সিসকোর হিসাবে মহামারীকালে তাদের মোট সম্পদ ৬ ট্রিলিয়ন, পরে যা দ্রুতই ১৪ ট্রিলিয়নে পৌঁছে। এ সম্পদের প্রায় অর্ধেকই মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানের—অ্যাপল, অ্যালফাবেট, টেসলা ও ফেসবুক; যার বর্তমান নাম মেটা। আনুপাতিক হিসাবে এ প্রতিষ্ঠানগুলো মোট সম্পদের ৪৮ শতাংশের অধিকারী।