ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ নির্মিত পেগাসাস স্পাইওয়্যারের সক্ষমতা পরীক্ষা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের কাছে গোয়েন্দা সংস্থাটি স্বীকার করে, স্পাইওয়্যারটি ব্যবহারের অনুমতি বা লাইসেন্স রয়েছে তাদের। খবর দ্য ভার্জ।

সফটওয়্যারটির মাধ্যমে নীরবে ব্যবহারকারীর মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, মাইক্রোফোনের ব্যবহার, কন্টাক্ট, ছবি ও মেসেজে নজরদারি করা গেলেও জাতীয় পর্যায়ের কোনো তদন্তে এটি ব্যবহার করা হয়নি বলে দাবি এফবিআইয়ের। কিন্তু ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পাইওয়্যারটি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় নীতিমালা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সঙ্গে এফবিআইয়ের আলোচনা হয়েছে।

গত সপ্তাহে এনএসও ও এফবিআইয়ের সম্পর্ক নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসে কয়েক দফা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর পর পরই সফটওয়্যারটির সক্ষমতা পরীক্ষার বিষয়টি স্বীকার করল গোয়েন্দা সংস্থাটি। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, এফবিআই শুধু বিদেশী সিম কার্ড যুক্ত স্মার্টফোনেই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করেনি, বরং পেগাসাসের মার্কিন সংস্করণ ফ্যান্টমের বৈধতা নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা চালিয়েছে।

এনএসও এর আগে অনেকবার দাবি জানিয়েছে +১ কান্ট্রি কোডযুক্ত ফোন নাম্বার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের দেশগুলোর জন্য পেগাসাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা যাবে। ভাইসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এনএসওর সাবেক এক কর্মী জানান, নাম পরিবর্তন করা ফ্যান্টম যদি প্রতিষ্ঠানটির পেগাসাস স্পাইওয়্যারের মূল ভার্সনের মতোই হয় তাহলে প্রতিষ্ঠানটি সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ভিন্ন কথা বলছে।

টাইমসের তথ্যানুযায়ী, ফরবিডেন স্টোরিজ ও স্থানীয় নিউজ আউটলেটগুলোর একটি জোট স্পাইওয়্যারকে কেন্দ্র করে বেশকিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। ফলে এফবিআই বর্তমানে আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া কোনো ক্ষেত্রেই পেগাসাস ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এফবিআই এনএসওর সঙ্গে যে ৫০ লাখ ডলার আয় করেছে এবং পেগাসাসের জন্য একটি চুক্তি নবায়ন করেছে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

গত গ্রীষ্মে পেগাসাস স্পাইওয়্যার-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন আসতে শুরু করায় এনএসও বহু বাধার সম্মুখীন হয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এতে এনএসও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজের সুবিধা হারায়। সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফোন হ্যাক ও পোল্যান্ডে রাজনৈতিক নজরদারির সঙ্গে পেগাসাস স্পাইওয়্যারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।