প্রযুক্তি খাত থেকে চীনকে অপসারণে তথা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে উঠেপড়ে লেগেছে যুক্তরাষ্ট্র। চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে প্রযুক্তি সরবরাহে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং অন্য দেশগুলোর ওপরও চাপ প্রয়োগ করছে। ভূ-রাজনৈতিক এ দ্বন্দ্বে ক্ষতির মুখে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। নতুন বছরের প্রথম মাসে দেশটির চিপ বিক্রি ৫০ শতাংশ কমেছে। খবর গিজমোচায়না।

বিশ্বের অন্যতম সেমিকন্ডাক্টর বাজার হচ্ছে চীন আর দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী। চিপ সরবরাহ বন্ধে যে যুদ্ধ সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত চাপের কারণে চীনে চিপ বিক্রি থেকে যে আয় হয় তার ৫০ শতাংশ হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। চীন দ. কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারীদের সবচেয়ে বড় গ্রাহক। ২০২১ সালে চীন থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলার রাজস্ব আদায় করেছে দক্ষিণ কোরিয়া, যা মোট সেমিকন্ডাক্টর রফতানির ৩৯ শতাংশেরও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত চাপ ও বিধিনিষেধের কারণে বছরওয়ারি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ লোকসানের কথা জানিয়েছে। রফতানি খাতের শীর্ষে থাকা সেমিকন্ডাক্টর শিল্প থেকে রাজস্ব আয়ের হার ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে বলেও সূত্রে জানা গেছে। ২০২২ সালে কোরিয়ার মোট রফতানি ৬ দশমিক ১ শতাংশ বাড়লেও দেশটির প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীনে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ চালান কমেছে। গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ডির‍্যাম, এনএএনডি বা ন্যান্ড, মেমোরি চিপসহ সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহৃত অন্য যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়া এবং মজুদের কারণে এ খাত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মতো প্রতিষ্ঠান রাজস্ব হারানো ছাড়াও লোকসানের মুখে পড়বে। চীনে এসব প্রতিষ্ঠানের কারখানায় উৎপাদনও অনেক কমে যাবে। চিপ উৎপাদনে এসব প্রতিষ্ঠান অনেক যন্ত্রাংশ, উপাদান ও প্রযুক্তি আমদানি করে থাকে। সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ বন্ধে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে সে কারণে দ. কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো চিপ উৎপাদনে চীনে কোনো কিছু আমদানি করতে পারবে না। ফলে উৎপাদন কমবে এবং ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মার্কিন-চীন প্রযুক্তি যুদ্ধে সিউল এখনো পর্যন্ত শক্তভাবে কোনো অবস্থান নেয়নি। মার্কিন চিপস এবং সায়েন্স অ্যাক্টের সঙ্গে শুরু হওয়া সেমিকন্ডাক্টর যুদ্ধের ফলে চীনে চিপ রফতানির ওপর বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। জাপান, নেদারল্যান্ডস, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে এবং নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়াচ্ছে। এখন চাপ পড়ছে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর। 

দক্ষিণ কোরিয়ার মন্ত্রণালয় জানায়, এ নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য একটি বোঝা। কিন্তু চাইলেও এটি এড়ানো সম্ভব না। বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার হারালেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই দ. কোরিয়াকে সম্মতি দিতে হবে। কেননা দেশটিতে ব্যবহৃত বেশকিছু প্রযুক্তির প্রধান পেটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে এখন কঠিন পথ। মার্কিন প্রযুক্তি না চীনা বাজার— কোন দিকে আগানো হবে সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের মতে, সিউল প্রধান সামরিক মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে চাইবে না।