টালমাটাল পরিস্থিতিতে যাচ্ছে শীর্ষস্থানীয়
প্রযুক্তি সংস্থাগুলো। বৈশ্বিক মন্দার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে তারা।
এ অশান্ত অবস্থায় সর্বশেষ মাইক্রোসফট ১০ হাজার ও অ্যামাজন ১৮ হাজার ছাঁটাইয়ের ঘোষণা
দিয়েছে। এক নজরে দেখা যাক শীর্ষ সংস্থাগুলোর অবস্থা—
মাইক্রোসফট: মাইক্রোসফট তার
কর্মশক্তির প্রায় ৫ শতাংশ ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে। তারা বলছে, ক্রমবর্ধমান মন্দা
পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১০ হাজার কর্মী কাজ হারাবে।
গত ৩০ জুন পর্যন্ত মাইক্রাসফটে পূর্ণকালীন
কর্মী ছিলেন ২ লাখ ২১ হাজার। যার মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার যুক্তরাষ্ট্রে এবং ৯৯ হাজার
বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে কর্মরত। গত জুলাইয়ে বলা হয়, তারা অল্প সংখ্যক কর্মী বাদ দিয়েছে,
তবে পরে আরও বাড়বে।
অ্যামাজন: অনলাইনে বিক্রয়
বৃদ্ধির ধীরগতি ও সম্ভাব্য মন্দার কারণে জানুয়ারিতে বড় ধরনের কাটছাঁট যাচ্ছে অ্যামাজন।
এই সংখ্যা ১৮ হাজার, যা খুচরা পণ্য বিক্রেতা জায়ান্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় লেঅফ। তবে
এটি অ্যামাজানের মোট কর্মশক্তির মাত্র এক শতাংশ।
মেটা: ফেসবুকের প্যারেন্ট
মেটা নভেম্বরে ১১ হাজার ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়। যা ছিল ২০২২ সালে সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি
ছাঁটাই ও মেটার মোট কর্মীর ১৩ শতাংশ। ফেসবুক ছাড়াও মেটার অন্য পণ্য হলো ইনস্টাগ্রাম
ও হোয়াটসঅ্যাপ। টিকটক ও স্ন্যাপের সঙ্গে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও
দ্রুত ক্রমবর্ধমান সুদের হার তাদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
টেসলা: গত জুনে টেসলার
নির্বাহীদের কাছে এক ইমেলে ইলোন মাস্ক মার্কিন অর্থনীতি সম্পর্কে আশঙ্কা প্রকাশ করে
বলেন, প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী কমাতে হবে। এই সংখ্যা ৬ হাজার। গত বছর আলোচিত হাতবদল ছিল
টুইটার। সোশ্যাল মিডিয়াটির দায়িত্ব নিয়ে ৩ হাজার ৭০০ কর্মী ছাঁটাই করেন তিনি। প্রধান
নির্বাহী হিসেবে তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল খরচ কমানো। যার প্রভাব পড়ে কর্মীদের ওপর।
নেটফ্লিক্স:
দুই
দফায় ৪৫০ কর্মী ছাঁটাই করে স্ট্রিমিং জায়ান্টটি। গত মে মাসে ১৫০ জন বাদ পড়েন, যখন কোম্পানিটি
এক দশকের মধ্যে প্রথম গ্রাহক হারানোর কথা জানিয়েছে। জুনের শেষের দিকে ৩০০ ছাঁটাইয়ের
ঘোষণা আসে।
সেলসফোর্স: অন্য টেক জায়ান্টদের
অনুসরণ করে সেলসফোর্স। পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করবে,
এ সংখ্যা সাত হাজার।
স্ন্যাপ: গত আগস্টের শেষের
দিকে ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় স্ন্যাপ, যা সংখ্যায় এক হাজার।
কয়েনবেস: ক্রিপ্টো বাজারের
মন্দায় কর্মশক্তির প্রায় এক পঞ্চমাংশ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কয়েনবেস। এ হিসেবে
দুই হাজার কর্মী কাজ হারাবে।










