রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে রফতানি খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দক্ষিণ কোরিয়ার অধিকাংশ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান। খবর কোরিয়াহেরাল্ড।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে প্রবেশ করে তাহলে পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে দেশটি চিপ লবিং গ্রুপ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনকে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা দিয়েছে হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। এ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিশ্বে যেসব কনজিউমার ইলেকট্রনিকস পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চিপ ব্যবহার করা হয় রাশিয়াকে সেগুলো ব্যবহারে বাধা দেয়া হবে। আংশিকভাবে রাশিয়ায় পণ্য রফতানি বন্ধে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হবে।
যেসব সেলফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিনে যুক্তরাষ্ট্রের চিপ, সফটওয়্যার বা কোরিয়ার কোনো প্রযুক্তি রয়েছে সেগুলোর আমদানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই রফতানি বন্ধের নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
রাশিয়ায় পণ্য রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে স্যামসাং ও এলজির ওপর। কেননা প্রতিষ্ঠান দুটি ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রির পাশাপাশি উৎপাদনও করে থাকে। রাশিয়ার টেলিভিশন বাজারে যৌথভাবে ৬০ শতাংশ হিস্যা নিয়ে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে স্যামসাং ও এলজি। অ্যাপল ও শাওমির পাশাপাশি দেশটির স্মার্টফোন বাজারেও স্যামসাংয়ের আধিপত্য রয়েছে।
বিক্রির পাশাপাশি রাশিয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। মস্কো থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কালুগায় স্যামসাং টেলিভিশন উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনা করে থাকে। এ কেন্দ্রে স্থানীয় চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বার্ষিক ৩০ লাখ ইউনিট টেলিভিশন উৎপাদন হয়ে থাকে। অন্যদিকে বৃহত্তর মস্কোর রুজাতে এলজি তাদের কনজিউমার ইলেকট্রনিকস কেন্দ্র পরিচালনা করে থাকে।
বাজার বিশ্লেষক ও গবেষকরা জানান, ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার এক লাখ সৈন্য মোতায়েন এবং ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের পূর্ব দিকে প্রসারিত হওয়ার বিষয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সিউলের সুংকিয়ুঙ্কওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিকন্ডাক্টর সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক হান তাই হি বলেন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত যতই তীব্র হোক না কেন, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র যে বিকল্প ব্যবস্থাগুলো নিয়ে ভাবছে রফতানি নিষিদ্ধের বিষয়টি তার মধ্যে একটি।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর ইউরোপ অনেকটাই নির্ভরশীল। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এটি অবান্তব চিন্তা।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে স্যামসাংয়ের একজন মুখপাত্র জানান, রাশিয়ায় পণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে তা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে এলজির মুখপাত্র জানান, রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ভূরাজনৈতিক যে দ্বন্দ্ব চলছে প্রতিষ্ঠানটি তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
হুন্দাই মোটর সিকিউরিটিজের সিনিয়র অ্যানালিস্ট নহ গিউন চ্যাং বলেন, বেশকিছু কোরিয়ান ভোক্তা ইলেকট্রনিকস পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চিপ ব্যবহার হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কৃত্রিম উপগ্রহ বা মহাকাশ প্রযুক্তিতে ব্যবহূত চিপের রফতানি বন্ধ হতে পারে। অন্যদিকে কয়েকদিন আগে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার ক্লাউড ইউনিটে নজরদারি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দেশটির সরকার চীনের বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।










