ভারতের প্রথাগত ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি) বাজার গত বছর ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে। ২০২১ সালে দেশটিতে মোট ১ কোটি ৪৮ লাখ ইউনিট কম্পিউটার বিক্রি হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১ কোটি ১৬ লাখ ইউনিট নোটবুক বিক্রি হয়েছে। ২০২০ সালে ডেস্কটপ বিক্রি কমলেও গত বছর তা ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

২০২১ সালের শেষ প্রান্তিকে ভারতের কম্পিউটার বাজার বেশ চাঙ্গা ছিল। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে সব প্রতিষ্ঠান মিলে ৪০ লাখেরও বেশি কম্পিউটার বিক্রি করেছে। ঘরে বসে কাজ ও বিনোদনের চাহিদা বৃদ্ধি বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বিক্রি বাড়াতে সাহায্য করেছে। শিক্ষা খাত ও ভিএলই সেগমেন্টের কারণে ডেস্কটপ কম্পিউটারের বিক্রি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আট প্রান্তিকের হিসাবে প্রথমবারের মতো আট লাখ ইউনিট কম্পিউটার বিক্রি হয়েছে। টানা দ্বিতীয় প্রান্তিকের মতো ৩০ লাখ ইউনিট নোটবুক বিক্রি হয়েছে। ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে এ খাতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮১ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আইডিসি ইন্ডিয়ার কম্পিউটার ডিভাইস বিভাগের সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট ভরত শেনয় বলেন, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো স্কুল ও কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম রিমোটলি পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটিং ডিভাইস ক্রয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য স্মার্টফোন বা ট্যাব ব্যবহার করেছে, তারা বড় স্ক্রিন ও অন্যান্য সুবিধার জন্য কম্পিউটার ক্রয়ে আগ্রহী হয়েছে।

২০২১ পঞ্জিকাবর্ষে কম্পিউটার বাজারের শীর্ষে ছিল এইচপি। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির বাজার হিস্যা ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং বিক্রি ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি ১৩ লাখ ইউনিট কম্পিউটার বিক্রির মাধ্যমে শীর্ষে ছিল। শক্তিশালী চাহিদা ও সরবরাহের কারণে দুটি খাতেই ব্র্যান্ডটি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এইচপির পর ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাজার হিস্যা ও ৪৭ শতাংশ বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ডেল টেকনোলজিস। টানা দুই প্রান্তিক ১০ লাখের বেশি কম্পিউটার বিক্রির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।

২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ১৭ দশমিক ৪ ও ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল লেনোভো। পাশাপাশি ব্যক্তিগত কম্পিউটার খাতে ২২ দশমিক ৮ শতাংশ বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে সরবরাহ খাতে সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক বিক্রি বাধাগ্রস্ত হয়। এদিক থেকে এসএমই খাতে ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ শেয়ার নিয়ে এইচপির পর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল লেনোভো।

আইডিসি ইন্ডিয়ার ক্লায়েন্ট ডিভাইস বিভাগের গবেষণা পরিচালক নাভকেন্দার সিং বলেন, গত দুই বছর ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণে কম্পিউটারের বাজার অত্যধিক চাহিদা দেখতে পেয়েছে। তবে চলতি বছর এ চাহিদা ধীরে ধীরে কমবে। এসএমই ও এন্টারপ্রাইজ সেগমেন্টের জন্য ডিজিটালাইজেশন ও রিমোট ওয়ার্কিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও যন্ত্রাংশের সংকট, সরবরাহ চেইনের সমস্যা এবং অত্যধিক দাম সরকারি প্রকল্প ও শিক্ষা কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ফলে অনেক প্রকল্প ও কার্যক্রম সম্পন্নে সময়সীমা পেছাবে। এসবের পাশাপাশি চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আশার মুখ দেখতে পারে।