চিপ উৎপাদন খাতসংশ্লিষ্টদের সরবরাহ চেইনে দ্রুত পরিবর্তন আনতে সতর্কবার্তা দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। রফতানি নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ হিসেবে রাশিয়া চিপ উৎপাদনে ব্যবহূত উপাদান সংগ্রহে বাধা দিতে পারে—এমন শঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতেই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অবগত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর রয়টার্স।

বিশ্বের অধিকাংশ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়া ও ইউক্রেনে উৎপাদিত নিয়ন, প্যালাডিয়ামসহ অন্যান্য উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। এ বিষয়ে ১ ফেব্রুয়ারি বাজার গবেষণা গ্রুপ টেকচেট প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর পর পরই রাশিয়ার প্রতিশোধ গ্রহণের বিষয়টি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।

টেকচেটের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ শতাংশ নিওনের সরবরাহ ইউক্রেন থেকে এবং ৩৫ শতাংশ প্যালাডিয়াম রাশিয়া থেকে আসে। হোয়াইট হাউজের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান পিটার হ্যারেল ও তার সহকর্মীরা সম্প্রতি চিপ উৎপাদন খাতের সঙ্গে সম্পর্কিতদের সঙ্গে আলাপ করেন। সে সময় তারা রাশিয়া ও ইউক্রেনে প্রাপ্ত উপাদানগুলোর ওপর তাদের নির্ভরতা সম্পর্কে জানেন এবং বিকল্প উৎস খোঁজার আহ্বান জানান।

কথোপকথনের সুনির্দিষ্ট বিষয়ে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের বিষয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া যদি উপাদান সরবরাহ চেইনে বাধা তৈরি করে তাহলে চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা এ কার্যক্রমের অংশ।

চিপ ও ইলেকট্রনিকস ম্যানুফ্যাকচারিং সাপ্লায়ার গ্রুপ এসইএমআইয়ের গ্লোবাল পাবলিক পলিসি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো প্যাসেটি সম্প্রতি সদস্যদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় ইউক্রেন, রাশিয়া থেকে সরবরাহকৃত সি৪এফ৬, প্যালাডিয়াম, হিলিয়াম, নিয়ন, স্ক্যানডিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা, সে বিষয়ে জানতে চান।

টেকচেটের তথ্যানুযায়ী, চিপ উৎপাদনে যে লেজার ব্যবহার করা হয়, তার জন্য নিয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাশিয়ার ইস্পাত উৎপাদন শিল্পের একটি উপজাত। উৎপাদনের পর ইউক্রেনে এটি শোধন করা হয়। অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে সেন্সর ও মেমোরি উৎপাদনে প্যালাডিয়াম ব্যবহার করা হয়। রাশিয়া যদি ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন চালায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র রফতানি খাতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। ইউক্রেন সীমান্তে এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করেও রাশিয়া হামলার পরিকল্পনা অস্বীকার করেছে।

রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ চালালে কী ধরনের উপাদান সংকট তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে কিছুু চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের সরবরাহ চেইন পরীক্ষা করছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ নিয়ন ও অন্যান্য গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে কাজ করছে, যার অধিকাংশই ইউক্রেন থেকে সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, ইউক্রেনে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হলেও দেশটি সরবরাহ বন্ধ না করে উপাদানের দাম বাড়িয়ে দেবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাজার সংকুচিত হবে এবং গ্যাসগুলোর সরবরাহও অনেকাংশে কমে যাবে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন অব্যাহত রাখবে।

এক পাওয়ার চিপ ডিজাইন স্টার্টআপ নির্বাহীর মতে, ইউক্রেনে অস্থিরতার কারণে বিরল গ্যাসের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহে সংকট তৈরি হতে পারে। অঞ্চলটি থেকে চিপ উৎপাদনের অন্যতম আরেকটি উপাদান ফ্লোরিন গ্যাস সরবরাহ করা হয়। অস্থিরতা তৈরি হলে গ্যাসটির সরবরাহ বিঘ্নিত হবে।