ব্যক্তিগত উপাত্তের বিশাল সংগ্রহশালা থেকে বেশির ভাগ তথ্য-উপাত্ত মুছে দিতে ইউরোপোলকে নির্দেশ দিয়েছে ব্লকটির ডাটা সুরক্ষাবিষয়ক তদারকি সংস্থা। ইউরোপীয় পুলিশ সংস্থাটি বড় অংকের ব্যক্তিগত তথ্য মজুদ রেখেছে বলে অভিযোগ ইউরোপিয়ান ডাটা প্রোটেকশন সুপারভাইজারের (ইডিপিএস)। খবর গার্ডিয়ান।

বিভিন্ন ক্রাইম রিপোর্ট, এনক্রিপটেড ফোন সার্ভিস থেকে হ্যাক করা তথ্য এবং আগে কোনো অপরাধে জড়িত নন এমন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রত্যাশীদের আবেদন ফর্ম থেকে অনেক সংবেদনশীল তথ্য মজুদ করেছে ইউরোপোল। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নথিপত্রের বরাতে গার্ডিয়ান জানায়, ইউরোপোলের হাতে অন্তত চার পেটাবাইট (১ পেটাবাইট=১ হাজার টেরাবাইট) ডাটা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের পুরো কনটেন্টের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমতুল্য ডাটা সংরক্ষিত আছে ইউরোপোলের হাতে। ডাটা সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) সমতুল্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইউরোপোল। এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা তথ্যে উঠে এসেছে, কীভাবে এনএসএর মতো সংস্থা গোপনে আমেরিকানদের তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।

ছয় মাসের বেশি সময় ধরে মজুদ করে রাখা তথ্য মুছে দিতে ইউরোপোলকে নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপের তদারকি সংস্থা। কোনো ডাটা আইনগতভাবে নিজেদের কাছে দীর্ঘমেয়াদে রাখার যুক্তি পেশ করতে তাদের এক বছর সময় দিয়েছে তারা।

ইউরোপোল যখন নিজেদের কাজ ভালোভাবে করার জন্য মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে, তখন ডাটা তদারকি সংস্থার কঠোর পদক্ষেপ তাদের জন্য বেশ অস্বস্তিকর হিসেবেই দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে যে বড় আকারের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে, এতে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইইউর হোম অ্যাফেয়ার্স কমিশনার ইওভা জোহানসন ইউরোপোলের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, আইনগতভাবে আসা বিভিন্ন ডাটা ও রিসোর্স সময় নিয়ে বিশ্লেষণ ও কাজে লাগানোর পর্যাপ্ত টুলস আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সরবরাহ করা উচিত। ইউরোপে বিভিন্ন দেশের পুলিশকে সহায়তাকারী সংস্থা হচ্ছে ইউরোপোল এবং তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।

ইডিপিএসের আইনি চ্যালেঞ্জ ইউরোপোলের দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা সংকুচিত করে দিতে পারে বলে মনে করেন জোহানসন।

ইইউভুক্ত বিভিন্ন দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইউরোপোল। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তঃদেশীয় ডাটা সংগ্রহ ও সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দ্য হেগভিত্তিক এ সংস্থা। তবে সংস্থাটি কী পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে পারবে, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল।

খুব অল্পসংখ্যক ইউরোপীয় এ নিয়ে সচেতন যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য মজুদ হচ্ছে এবং এ নিয়ে তাদের ওয়াকিবহাল করানোর প্রয়োজন বোধ করছে না ইউরোপোলের মতো সংস্থা। দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশের অ্যাকটিভিস্ট ও সমাজকর্মীদের উপাত্ত ইউরোপোলের ডাটাবেজে বছরের পর বছর পড়ে রয়েছে। বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের সময় অল্প সময়ের জন্য হয়তো আইন লঙ্ঘন করেছেন, কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত তথ্য দাগি আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধীর সঙ্গে রাখা হচ্ছে। এটা ওই ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে বনে করেন সংশ্লিষ্টরা।