অ্যাপলের গোপনীয়তা নীতির পরিবর্তন, টিকটকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় ২০২১ সালের শেষ প্রান্তিকে সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ফেসবুক ব্যবহারকারী কমেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০ শতাংশ বাজার হিস্যা হারিয়েছে মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা। খবর রয়টার্স।
প্রথমবারের মতো চতুর্থ প্রান্তিকে ফেসবুকের দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৯২ কোটি ৯০ লাখে নেমে এসেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে যা ছিল ১৯৩ কোটি। এক বিবৃতিতে মেটা জানায়, অপারেটিং সিস্টেমে অ্যাপলের গোপনীয়তা নীতি পরিবর্তনের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন নির্ধারণ ও যাচাইয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
১৮ বছরের পুরনো প্রযুক্তি জায়ান্টটি টিকটক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাপের মুখে পড়েছে। ব্যবহারকারী ধরে রাখার তুমুল প্রতিযোগিতার মুখে আসন্ন প্রান্তিকে আয়ের গতি মন্থর থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। কেননা প্রতিষ্ঠানটির রিলস প্লাটফর্ম থেকে খুব কম আয় হয়। ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ফেসবুক ২৯১ কোটি দৈনিক ব্যবহারকারীর তথ্য প্রকাশ করলেও সেখানে বিগত প্রান্তিকের তুলনায় কোনো উন্নতি দেখা যায়নি।
মন্থর গতির আয়ের পূর্বাভাস দেয়ার পর মেটার বাজার শেয়ার থেকে ২০ হাজার কোটি ডলার হ্রাস পায়। অন্যদিকে একই সময়ে টুইটার, স্ন্যাপচ্যাট ও পিন্টারেস্ট আরো ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার হারায়। অ্যালফাবেটের শেয়ার যেখানে আগের প্রান্তিকগুলোয় শীর্ষ পর্যায়ে ছিল, পূর্বাভাসের পর তা ২ শতাংশ কমেছে। গুগলের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্লাটফর্মের মালিক মেটা। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে জানিয়েছিল, চতুর্থ প্রান্তিকে তাদের বিজ্ঞাপন ব্যবসা উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল।
এক সম্মেলনে মেটার প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা ডেব ওয়েনার বিশ্লেষকদের বলেন, গোপনীয়তা নীতিতে পরিবর্তনের কারণে ২০২২ সালে ১ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হতে পারে। অপারেটিং সিস্টেমে অ্যাপল যে পরিবর্তন এনেছে, এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুসরণ সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। নতুন পণ্যের বাজারজাত ও বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে তারা ব্যবহারকারীদের যে তথ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল, সেগুলো আর সহজে পাওয়া যাবে না।
রেফিনিটিভ প্রদত্ত আইবিইএসের তথ্যানুযায়ী, গবেষকরা প্রথম প্রান্তিকে ৩ হাজার ১৫ কোটি ডলার আয়ের পূর্বাভাস দিলেও মেটা ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। ইনসাইডার ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক ডেব্রা আহো উইলিয়ামসন বলেন, এটি স্পষ্ট যে সামনে মেটার জন্য বড় বাধা রয়েছে। কেননা আয়ের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি টিকটকসহ অন্যদের প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে।
আয়সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সময় মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ বলেন, রিলস, বাণিজ্য ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আমরা যে অগ্রগতি করেছি, এতে আমি উৎসাহিত। মেটাভার্স তৈরির লক্ষ্য হিসেবে ২০২২ সালে আমরা এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখব।
২০২১ সালে মেটার অগমেন্টেড ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রিয়েলিটি ল্যাবসের মোট ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২০ কোটি ডলারের কাছাকাছি, গত বছর যার পরিমাণ ছিল ৬৬০ কোটি ডলার। লোকসানের দিক থেকে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটি তাদের রেকর্ড ভেঙেছে। অন্যদিকে ২০২১ সালে রিয়েলিটি ল্যাবস ২৩০ কোটি ডলার আয় করেছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি কোয়েস্ট রিয়েলিটি হেডসেট বিক্রির সংখ্যা প্রকাশ করেনি।










