গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে এক দশক আগে করা একটি মামলা ৯ কোটি ডলারে নিষ্পত্তি করতে সম্মত হয়েছে ফেসবুক। সম্প্রতি প্রস্তাবিত প্রাথমিক নিষ্পত্তিপত্র ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে অবস্থিত মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দাখিল করা হয়েছে। খবর সিএনএন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নেট দুনিয়ায় যা যা ব্রাউজ করছেন, তা গোপনে ট্র্যাক করেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমটি। শুধু তাই নয়, লগ আউট অবস্থায়ও ব্যবহারকারীদের ট্র্যাক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দাখিল করা নিষ্পত্তিপত্রটি এখনো বিচারকদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনৈতিকভাবে ফেসবুক যেসব ব্যবহারকারীর তথ্য সংরক্ষণ করেছে, সেগুলো মুছে ফেলার কথাও বলা হয়েছে এতে।

ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, যখন তারা ফেসবুকের লাইক বাটন-সংবলিত বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিট করেছেন, তখন প্লাটফর্মটি কুকিজ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহূত প্লাগ-ইনের মাধ্যমে তাদের অবৈধভাবে ট্র্যাক করেছে। এরপর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল থেকে ব্রাউজিং হিস্ট্রি একাট্টা করেছে। এসব তথ্য বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

তথ্য বলছে, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলাটি করা হয়। ২০১৭ সালের জুনে মামলাটি খারিজ করে দেয়া হয়। তবে ২০২০ সালের এপ্রিলে ফেডারেল আপিল কোর্টে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এতে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক কোম্পাটির বিরুদ্ধে গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও এর মাধ্যমে অন্যায়ভাবে মুনাফা লাভের যে অভিযোগ উঠেছে, ব্যবহারকারীরা চাইলে তা প্রমাণের চেষ্টা করতে পারেন।

অন্যদিকে ফেসবুক তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে মামলার ব্যয় ও ট্রায়াল ঝুঁকি এড়াতেই তারা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিষ্পত্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়।

মেটা প্লাটফর্ম ইনকরপোরেশনের মুখপাত্র ড্রু পাস্তেরি এক ই-মেইল বার্তায় বলেন, আমাদের কমিউনিটি ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নিষ্পত্তিই সবচেয়ে বেশি লাভজনক। মামলা মীমাংসার দিকে এগোনোয় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তিনি। গোপনীয়তা লঙ্ঘনে নতুন আরেকটি মামলার মুখোমুখি হয়েছে মেটা। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে এ মামলা করা হয়। মুখচ্ছবি শনাক্তকরণ (ফেস রিকগনিশন) ফিচারের মাধ্যমে সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্টটি এক দশক ধরে অনৈতিকভাবে অঙ্গরাজ্যটির কয়েক কোটি মানুষের তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।