কভিড-১৯ মহামারী ও পরবর্তী সময়ে বিশ্বে একাধিক সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সামনের দিনগুলোয় এসব হামলা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছে সাইবার সিকিউরিটির গ্লোবাল লিডার সফোস। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত কয়েক বছরে সাইবার হামলার পাশাপাশি হুমকিও বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক নিরাপত্তার পাশাপাশি হামলাকারীরাও তাদের প্রযুক্তি উন্নত করছে। ফলে নতুন মাত্রায় সতর্ক হতে হবে।
সফোস ২০২২ থ্রেট রিপোর্ট থেকে এসব বিষয় সামনে এসেছে। চলতি বছর বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা হুমকি ও এর মুখোমুখি হওয়ার প্রবণতা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সফোস ল্যাবের নিরাপত্তা গবেষকরা এটি তৈরি করেছেন।
প্রতিবেদনে সফোস ল্যাব হুমকির প্রতিক্রিয়া, হুমকি খুঁজে বের করা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর বিষয়গুলো তুলে ধরেছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টিম তাদের গবেষকদের পাওয়া গত বছরের বিভিন্ন উদাহরণ থেকে সাইবার হুমকির ট্রেন্ড কি-ওয়ার্ড উন্মোচন করেছে।
গবেষকদের মতে, একক র্যানসমওয়্যার গ্রুপ গত বছর আরো বেশি র্যানসমওয়্যার-অ্যাজ-এ-সার্ভিস (আরএএএস) অফারগুলোকে পথ দেখিয়েছে। সেই সঙ্গে র্যানসমওয়্যারের ডেভেলপাররা ক্ষতিকারক কোড বিনাশ ও তৃতীয় পক্ষের কাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামনের বছরগুলোয় র্যানসমওয়্যার ল্যান্ডস্কেপ আরো প্রাসঙ্গিক ও অভিন্ন হয়ে উঠবে। ফলে হামলার পরিমাণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ভুক্তভোগীদের ওপর হামলাকারীরা চাপ কয়েক গুণ বাড়াবে। সার্বিক কার্যক্রমে ক্রিপ্টোকারেন্সি সহায়তা করবে। কেননা ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের জন্য র্যানসমওয়্যারের ব্যবহার আরো বাড়বে। সফোস মনে করে, বিশ্বে ক্রিপ্টোকারেন্সির সঠিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা না হওয়া পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
সাইবার নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে এবং ত্বরান্বিত হবে। শক্তিশালী মেশিন লার্নিং মডেল হুমকি শনাক্ত করতে এবং সতর্ক করে দিতে তার গুরুত্ব প্রমাণ করবে। একই সময়ে প্রতিপক্ষ এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে দেবে, এটাও নিশ্চিত করেই বলা যায়। এর মাধ্যমে তারা আগামী বছরগুলোয় বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ও ওয়েব কনটেন্টে স্পুফ, সোস্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে ওয়াটারিং-হোল অ্যাটাক, ফিশিং ই-মেইল এবং আরো অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে। এ সময়ে ডিপ-ফেইক ভিডিও তৈরি ও কণ্ঠ সংশ্লেষণ প্রযুক্তি অনেকটা সহজলভ্য হয়ে উঠবে।
সফোসের প্রধান গবেষণা বিজ্ঞানী চেস্টার উইসনিউস্কি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে এ সময়ে এসে সাধারণভাবে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও ম্যালিকিউলাস কোড শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়। ডিফেন্ডারদের অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা উচিত, অতীতেও এমন ঘটনা তুচ্ছ হিসেবে দেখা হয়েছে। কারণ এমন অনুপ্রবেশ পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য যথেষ্ট।










