গত বছর অ্যাপ ডেভেলপারদের ৬ হাজার কোটি ডলার অর্থ দিয়েছে অ্যাপল। ২০০৮ সালে অ্যাপ স্টোর চালুর পর এ নিয়ে ২৬ হাজার কোটি ডলার অর্থ দিল তারা। সম্প্রতি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার কুপার্টিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি। খবর সিএনবিসি ও টেক ক্রাঞ্চ।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র, ইইউসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকটি অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় বড় অংকের জরিমানা গুনেছে অ্যাপল। তা সত্ত্বেও যে অ্যাপ স্টোর থেকে বড় অংকের আয় করেছে অ্যাপল তা ডেভেলপারদের প্রদেয় অর্থে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০২১ সালে অ্যাপ ডেভেলপারদের যেখানে ৬ হাজার কোটি ডলার দিয়েছে সেখানে ২০২০ সালে তার পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, ২০১৯ সালে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।
অ্যাপলের সর্বোচ্চ আয়ের খাত আইফোনের বাইরে সেবা খাতে যে মুনাফা বাড়ছে তা উঠে এসেছে প্রযুক্তি জায়ান্টটির এ পরিসংখ্যানে। হার্ডওয়্যার বিক্রির পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন অ্যাপের পরিষেবা বিক্রি করে আয় বাড়াচ্ছে তারা। অ্যাপল বলছে, অ্যাপ স্টোর থেকে আয়ে ৭০-৮৫ শতাংশই ব্যয় করছে ডেভেলপারদের জন্য। অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা কেনাকাটায় ১৫-৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ করছে অ্যাপ স্টোর। আগের বছরগুলোতে ডেভেলপারদের প্রদেয় কমিশনের উপাত্ত থেকে অ্যাপ স্টোরের আয় প্রাক্কলন করা যেত। কিন্তু গত বছর বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রকদের কড়া তদারকির আওতায় আসায় ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ায় কয়েক দফা কমিশন কাঠামো পরিবর্তন করতে হয়েছে অ্যাপলকে। যেমন গত বছর চালু হওয়া স্মল বিজনেস প্রোগ্রামের আওতায় ১৫ শতাংশ কমিশন চালু করে। যেসব অ্যাপ ডেভেলপারের বার্ষিক আয় ১০ মিলিয়ন ডলারের কম তাদের থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন গ্রহণ করে অ্যাপ স্টোর। বিভিন্ন প্রাক্কলনে উঠে এসেছে অ্যাপ স্টোরের প্রায় ৯৮ শতাংশ অ্যাপ ডেভেলপারেরই বার্ষিক আয় ১০ লাখ ডলারের নিচে।
নিউজ অ্যাপের জন্যও গত আগস্টে নতুন একটি কর্মসূচি চালু করেছে অ্যাপল। যদি অ্যাপল নিউজ প্লাটফর্মেও ওই কনটেন্ট শেয়ার করা হয় তাহলে তাদের থেকে ১৫ শতাংশ ফি রাখা হবে।
সিএনবিসির প্রাক্কলনে বলা হয়, যদি সব অ্যাপ ডেভেলপার থেকে ৩০ শতাংশ করে কমিশন রাখা হয় তাহলে অ্যাপ স্টোর থেকে ৮ হাজার ৫৭১ কোটি ডলার আয় হতে পারে। কিন্তু ১৫ শতাংশ কমিশনে অ্যাপ স্টোরের আয় দাঁড়ায় ৭ হাজার ৫৮ কোটি ডলার। উল্লেখ্য, গত বছরের প্রাক্কলনে সিএনবিসি জানিয়েছিল, ৩০ শতাংশ কমিশন রেটে ২০২০ সালে অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপলের আয় ৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
গত সোমবার অ্যাপল জানায়, অ্যাপল মিউজিক ও আইক্লাউডের মতো সেবাসহ নিজস্ব বিভিন্ন পরিষেবায় ৭৪ কোটি ৫০ লাখ পেইড সাবস্ক্রাইবার পেয়েছে। গত গ্রীষ্মে এ সংখ্যাটি ছিল ৭০ কোটি। ক্রিসমাস ও নতুন বছরের ছুটির সময়ে অ্যাপ স্টোরে গ্রাহকরা সময় বেশি দিয়েছে। এর আগের বছরের তুলনায় দুই অংকের প্রবৃদ্ধি করেছে তারা।










