আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) যৌথ উদ্যোগে ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল ধানমন্ডির বিসিএস ইনোভেশন সেন্টারে সকাল ১০টায় কর্মশালাটি শুরু হয়। বিসিএসের সদস্যরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর।
সভাপতি বলেন, বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রনিক বর্জ্য বাড়ছে। ই-বর্জ্যের ব্যবস্থাপনার জন্য দেশে নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। এ খাতে নিত্যনতুন কর্মক্ষেত্রের সৃষ্টি হবে। তবে নীতিমালার ক্ষেত্রে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেয়া জরুরি। প্রযুক্তি খাতসহ ইলেকট্রনিকস সংগঠনগুলোরও এ ব্যাপারে মন্তব্য রয়েছে। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এখন থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারকে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে।
অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে মো. শাহিদ-উল-মুনীর বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যতে তরুণ উদ্যোক্তারাও এ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে পারবেন। আজকের কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশ নারী। তাই আমি আশা করব ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নারীরা কৃতিত্বের ছাপ রাখবেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ই-বর্জ্য বলতে আমরা বিদ্যুৎ ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত ডিভাইসগুলোকে বুঝি। ই-বর্জ্যের কারণে বর্জ্যপ্রবাহ বেড়ে চলেছে। গবেষণা মতে, ২০২৫ সালে ই-বর্জ্যের পরিমাণ ৬ কোটি ৫৩ লাখ টন এবং ২০৩৫ সালে ৭ কোটি ৪৭ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। এ বাড়তি বর্জ্যের কারণে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যহানিসহ নানা রোগের প্রকোপ বাড়ছে। দেশেও ই-বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর ২০ শতাংশ হারে ই-বর্জ্য বেড়ে চলেছে। তৈরি হচ্ছে ই-ওয়েস্ট রিসাইক্লিং মার্কেট। যেসব বৈদ্যুতিক পণ্য পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, তা নতুন করে আবার ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গবেষণা মতে, প্রতি বছর দেশে ২০ শতাংশ হারে ই-বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে। বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট এবং কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ু হাই-টেক সিটিতে ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এরই মধ্যে ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পূর্ণগতিতে কাজ শুরু করেছে, যা ২০২২-২৭-এর মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।
কর্মশালায় বিসিএসের সাবেক সভাপতি এসএম ইকবাল, সরকারি কর্মকর্তা, সমিতির সদস্য ও সদস্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।










