ন্যাদিন গর্দিমার নোবেল সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী কথাসাহিত্যিক। তিনি বললেন, ‘খাঁচার ঈগল হচ্ছে সব ধরনের নিঃসঙ্গতার উপমা—এটাই চূড়ান্ত বন্দিদশা; চিড়িয়াখানা হচ্ছে জেলখানা।’

আরো একটি স্মরণীয় উদ্ধৃতি হচ্ছে, কোনো ধরনের অপরাধ না করা সত্ত্বেও প্রাণীকে যে কারাগারে পাঠানো হয়, তার নামই চিড়িয়াখানা।

এ রচনাটি চিড়িয়াখানা স্থাপনের বৈধতা বা অবৈধতা নিয়ে নয় বরং চিড়িয়াখানার অভিজ্ঞতা নিয়ে। চিড়িয়াখানায় নেয়ার নাম করে হাতি ধরে হত্যা করে, যেমন আইভরি বা হাতির দাঁত চোরাচালান চলেছে, তেমনি চিড়িয়াখানার ভেতরেই কিপার তার অনেক ভালোবাসার হাতিকে গুলি করে হত্যা করেছে। কারণ মহাযুদ্ধকালে আকাশ থেকে পড়া বোমা বিস্ফোরণে মারাত্মক আহত হলে কষ্ট পাবে বেশি, ধুঁকে ধুঁকে মরবে। আবার চিড়িয়ার ওরাঙ্গওটাং তার কিপার নারীকে এতই ভালোবেসেছে, যেসব নারী ওরাঙ্গওটাংকে একের পর এক প্রত্যাখ্যান করেছে, তার চাই ভালোবাসার স্বর্ণকেশী।

বেশ কয়েকটি চিড়িয়াখানা এপিসোড তুলে ধরছি—

১. দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে লন্ডন জু কর্তৃপক্ষ চিড়িয়াখানার ভেতরের বিষাক্ত প্রাণীগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। বোমা পড়তে শুরু করলে চিড়িয়াখানার নিরাপত্তা দেখার মতো কাউকে পাওয়া যাবে না, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়বে। এর মধ্যে যদি কোনোভাবে বিষাক্ত প্রাণীগুলো চিড়িয়াখানা থেকে ছাড়া পেয়ে জনপদে চলে যায়, মানুষ আরো বিপদাপন্ন হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় লন্ডন জুর অধিকতর বিষাক্ত সব প্রাণী হত্যা করা হয়।

২. ফু মানচু নামের একটি ওরাংওটাং চিড়িয়াখানা থেকে পালানোর পর আবার ধরে আনা হলো। দেখা গেল ফু মানচু খাঁচা ভেঙে বেরোয়নি, তালা খুলে বেরিয়েছে। কিন্তু চাবি পেল কোথায়? আবারো ঠিক একইভাবে পালানোর পর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হলো ফু মানচু অবশ্যই চাবি তৈরি করে তালা খুলেছে। ষষ্ঠবার পলায়ন এবং ধরা পড়ার পর আবিষ্কৃত হলো প্রতিবারই ইন্সপেকশনের সময় সে তার নিজস্ব চাবিটা মুখে পুরে ফেলত। এবার মুখ থেকে চাবি বের করে নিশ্চিত হলো খাঁচার ভেতর থেকে ধরাছোঁয়ার মধ্যে পাওয়া তার ও ধাতব বস্তু দিয়ে সে নিজেই চাবিটা তৈরি করেছে।

৩. ২০০৪ সালে প্যারিস জু থেকে ১৯টি গিনি বেবুন আনা হলো লন্ডনের ন্যাশনাল পার্কে। কিন্তু এগুলোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কিপারের কোনো নির্দেশই এরা মানছিল না। পরে বোঝা গেল কিপারের ইংলিশ নির্দেশ এসবের কাছে দুর্বোধ্য। এ নিয়ে গবেষণার পর বেরিয়ে এল সমস্যাটি অন্যত্র, ভাষায়। কিপার দ্রুত ফ্রেঞ্চ ভাষা শিখে যখন আদেশ দিতে শুরু করল, গিনি বেবুন অত্যন্ত অনুগত প্রাণীর মতো সব নির্দেশই পালন করতে শুরু করল।

৪. জাপানের মারুইয়ামা জু বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী প্রজননের চেষ্টাও করে থাকে। ২০১০ সালে এক জোড়া হায়েনাকে একই খাঁচায় রেখে কর্তৃপক্ষ হায়েনা শাবক জন্মের অপেক্ষায় থাকে। ২০১৪ পর্যন্ত চার বছরের একটি হায়েনার গর্ভবর্তী হওয়ার কোনো লক্ষণ না দেখে আবার যখন খাঁচায় দৃষ্টি দিল, সমস্যাটি সহজেই খোলাসা হয়ে গেল। দুটি হায়েনার একটিও নারী নয়।

৫. ১৮ শতকে ইংল্যান্ডের চিড়িয়াখানায় ঢোকার জন্য সাড়ে ৩ পেন্স এন্ট্রান্স ফি গুনতে হতো। পয়সার বদলে একটি করে সিংহের খাবার দিলেও প্রবেশাধিকার দেয়া হতো—সিংহের খাবার বিড়াল ও কুকুর।

৬. সুইডেনের ফুরুভিক জুলজিক্যাল গার্ডেনে চারদিকে পানি এমন একটি ছোট কৃত্রিম দ্বীপে এক শিম্পাঞ্জিকে রাখা হয়েছে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে পাথরের চাকতি সংগ্রহ করে জমিয়ে রাখে। তারপর কোনো একদিন এর দ্বীপের চারপাশের আগ্রহী দর্শকদের দিকে চাকতিগুলো ছুড়তে থাকে। একে বলা হয়েছে মিসাইল থ্রোয়িং শিম্পাঞ্জি। এর আচরণ থেকে এটা স্পষ্ট তাত্ক্ষণিক কোনো ক্রোধ থেকে প্রতিক্রিয়া জানাতে ঢিল ছুড়ছে, এমন নয়। গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন মানুষের মতোই শিম্পাঞ্জিরা কৌশল অবলম্বন ও পরিকল্পনা করতে জানে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই কয়েকদিন ধরে পাথর জমিয়েছে। এটি যথেষ্ট বুদ্ধিমান, ৩০ বছর বয়সী প্রাণী। সাধারণত সকালের দিকে আসা দর্শনার্থীরা শিম্পাঞ্জির ঢিলের শিকার হয়।

৭. বিতর্কিত মুষ্টিযোদ্ধা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মাইক টাইসন একবার নিউইয়র্ক চিড়িয়াখানায় স্ত্রী রবিনকে নিয়ে বেড়াতে গেছেন, এক খাঁচার সামনে গিয়ে দেখলেন একটি বড় সিলভারব্যাক গরিলা অন্যান্য গরিলার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে, নির্যাতন করছে। মাইক চিড়িয়াখানার অ্যাটেনডেন্টকে ১০ হাজার ডলার সেধে বললেন, ‘খাঁচার তালাটা খুলে দাও, আমি ওই হারামজাদাকে ঘুষি মেরে থেঁতলে দেব।’ খাঁচা খোলা হয়নি। মাস্তান গরিলাকে শিক্ষা দেয়া হয়নি।&dquote;&dquote;

৮. ২০০৯ সালে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধে গাজার চিড়িয়াখানার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। ইসরায়েলি বোমার আতঙ্কে কেয়ারটেকারদের অনেকেই পালিয়ে যান। অন্যদিকে প্রাণীগুলোর খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় দুটি জেব্রা অনাহারে মারা যায়। অর্থের অভাবে এই মৃত জেব্রার বদলে নতুন দুটি আনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় দর্শক আকৃষ্ট করার জন্য সাদা ও কালো স্ট্রাইপ এঁকে দুটো গাধাকে জেব্রার মতো করে সাজানো হয়।

৯. দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বার্লিনে মিত্রশক্তির প্রথম বোমাটি পড়ে বার্লিন চিড়িয়াখানার একটি হাতির ওপর। হাতিটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। অন্যান্য প্রাণী আহত হয়।

১০. ১৯৪৯ সালে জাপানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে ভারত হাতি-কূটনীতির আশ্রয় নিল। সরকারিভাবে ভারত মিত্রশক্তির অংশ হলেও নেতাজি সুভাষ বসু জাপান-জার্মান অক্ষকে সমর্থন করেছিলেন। ভারত টোকিও জুর জন্য দুটি হাতি পাঠিয়ে বন্ধুত্বের নবায়ন করে।

১১. ১৯১৫ সালে কানাডা থেকে লন্ডন জুতে একটি ভালুক শাবক আনা হয়; শাবকটির নাম উইনিপেগ। ক্রিস্টোফার রবিন মিলান নামের এক ইংরেজ বালক এ ভালুকের বাচ্চাটিকে খুব পছন্দ করে ফেলে এবং কদিন পরপরই চিড়িয়াখানায় আসতে থাকে। ভালুকের জন্য ছেলের এ ভালোবাসা দেখে বাবা অনুপ্রাণিত হন এবং ‘উইনি দ্য পু’ লিখে ফেলেন এবং বিখ্যাত লেখক হয়ে ওঠেন। লেখকের নাম এ এ মিলান।

১২. ২০০৪ সালের হিসাবে পৃথিবীতে জীবিত পান্ডার সংখ্যা ১ হাজার ৬০০, আর পৃথিবীতে মোট চিড়িয়াখানার সংখ্যা ১০ হাজার। প্রতি সাত বা আটটি চিড়িয়াখানার ভাগে একটি করে পান্ডা পড়ার কথা। অবশ্য ১ হাজার ৬০০-র মধ্যে মাত্র ৩৫০টি রয়েছে চিড়িয়াখানায় কিংবা কারো ব্যক্তিগত আশ্রয়ে। চীনের চিড়িয়াখানাতেই এ সংখ্যাটা বেশি। চীন প্রতিজোড়া বার্ষিক ১ মিলিয়ন ডলারে অন্য চিড়িয়াখানায় ভাড়া দিয়ে থাকে এবং এ থেকে প্রাপ্ত অর্থ পান্ডার বংশবৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করে থাকে।&dquote;&dquote;

১৩. আমেরিকার অরিগন জুতে এশীয় বংশোদ্ভূত হাতি ‘চন্দ্রা’ তার কিপারের সঙ্গে খোলা জায়গায় মর্নিং ওয়াক করতে বের হয়, অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে। বিশেষ করে তার বন্ধু একটি সি লায়নের সঙ্গে তার দেখা করা চাই। চন্দ্রা একটি নারী হাতি। চন্দ্রা ও সি লায়নের চুমোর দৃশ্য ভাইরাল হয়ে আছে।

১৪. টোকিওর ইউয়েনো জুলজিক্যাল গার্ডেন চিড়িয়াখানাটি ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত, মালিকানা ছিল রাজপরিবারের। ১৯২৪ সালে এটি টোকিও শহর প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় অত্যন্ত সমৃদ্ধ এ চিড়িয়াখানার অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। প্রথম দিকে একটি চিতা পালিয়ে যায়, এক সময় লোকজনও পালাতে শুরু করে। চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলোর খাবার সরবরাহ কমে যায়। এ সময় দুটি ক্ষুধার্ত হাতি দর্শকদের বিভিন্ন ধরনের কসরত দেখিয়ে তাদের দয়ায় খাবার জোগাড়ের চেষ্টা করে। কিন্তু হাতির খাবার তো আর মুঠোভর্তি খাবার নয়, শেষ পর্যন্ত হাতি দুটি অনাহারে মারা যায়।

১৫. অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে রোকহাম্পটন জুতে দুজন নারী চোর রাতের একটি কোয়ালা চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকল। কিন্তু তারা কোয়ালার সঙ্গে পেরে না উঠে একটি কুমির চুরির সিদ্ধান্ত নিল এবং ২ দশমিক ৪ মিটার লোহার বেড়া ডিঙ্গিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হলো। এই কুমিরের নাম দেয়া হয়েছিল ‘গার্ল ফ্রেশি’। কিপার যখন পুলিশ ডেকে মামলা করল, ব্যাপক অনুসন্ধান চালানোর পর কুমিরসহ দুই নারী ধরা পড়ে। তারা স্বীকারোক্তিতে জানায় কুমির চুরির কোনো ইচ্ছাই তাদের ছিল না। কিন্তু বেয়ারা কোয়ালা তাদের এতই হেনস্থা করেছে যে, তাদের কাপড় নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। অগত্যা কুমির নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড জু ক্রিসমাস উদযাপনকারীদের কাছে আবেদন করে, তারা যেন তাদের ক্রিসমাস অনুষ্ঠানের পর ক্রিসমাস ট্রি ময়লা-আবর্জনার গাড়িতে তুলে না দিয়ে চিড়িয়াখানাকে দান করেন। ধুম পড়ে গেল দানের।&dquote;&dquote;

নিরামিষভোজী সব প্রাণীই কমবেশি এ গাছের পাতা ও নরম ডাল খেয়ে থাকে। জিরাফ, জেব্রা, উট, ছাগল, বানর, বেবুন, অটার প্রভৃতি জন্তুর নাশতা হিসেবে এই গাছের অংশ দেয়া হয়।

১৬. ১৯৮৭ সালে সল্ট লেক সিটি জু থেকে পালিয়ে যায় একটি পিংক ফ্রয়ড ফ্ল্যামিঙ্গো, পাখিটি এখানে আনা হয় ১৯৮৫ সালে। এর জন্ম চিলিতে, কেউ কেউ বলিভিয়া কিংবা পেরুও হতে পারে বলে মনে করেন। নিঃসঙ্গ এ পাখিটি নোনা পানির চিংড়ি খেয়ে জীবন ধারণ করে। পাখি প্রেমিকরা সবাই এই ফ্ল্যামিঙ্গোর কথা জানে, সর্বশেষ এটিকে ২০০৫ সালে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়।

১৭. ১৯৬৫ সালে লন্ডন জু থেকে পালিয়ে আসা গোন্ডি নামের একটি সোনালি ইগলের খোঁজে রিজেন্ট পার্ক এলাকার ট্রাফিক থামিয়ে দেয়া হয়েছিল। ঈগলের বেষ্টনী পরিষ্কার করার সময় কিপারের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে গোল্ডি আকাশে উড়ে যায়। তবে দীর্ঘদিন আবদ্ধ থাকার কারণে বেশিদূর যেতে পারবে না বলে মনে করা হয়। এই ঈগলের পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে হাউজ অব কমন্সে বিতর্ক হয়। ১২ দিন পর ব্রিটেনে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের বাড়ির বাগানে সোনালি ঈগলকে দেখা যায়, সেখানে একটি হাঁস খেয়ে ফেলে। পরে চিড়িয়াখানার উপপ্রধান মরা খরগোশ ছুড়ে দিয়ে একে প্রলুব্ধ করে। অতঃপর সেখান থেকে ধরে চিড়িয়াখানায় ফিরিয়ে আনা হয়।

১৮. সর্বনাশটা করেছেন কল্পপ্রবণ লেখকরা। তারা যেমন করে কাডলি বেয়ার আলিঙ্গনের ভালুকের গল্প লিখেছেন, শিশুদের মনে গেঁথে গেছে ভালুককে আঁকড়ে ধরে আলিঙ্গন করলে ভালুক ভীষণ খুশি হয়। এ ভ্রান্ত ধারণাটি বয়স্ক জীবনেও থেকে যায়। আলিঙ্গন করতে গিয়ে ভালুকের কামড়ে জীবন যাওয়ার ঘটনাও আছে। এখন চিড়িয়াখানার কর্মচারীদের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে ভালুককে যত ভালোই মনে হোক, আলিঙ্গন করতে যেয়ো না।

১৯. ২০০৭ সালের ক্রিসমাসের দিন দর্শনার্থীদের ওপর ভীষণ বিরক্ত হয়ে সাইবেরিয়ান মাদি বাঘ ‘তাতিয়ানা’ ভীষণ ক্ষেপে ওঠে। মাত্র চার বছর বয়সী এই বাঘ তার ঘের দেয়াল (দেয়ালের উচ্চতা ৩ দশমিক ৮ মিটার) ডিঙ্গিয়ে পার হয়ে কার্লোস সুজা জুনিয়র নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে হত্যা করে, কুলবীর ধালিওয়াল ও তার ভাইকে পাকড়াও করে, কুলবীর মারাত্মক জখম হয়। যখন পুলিশ আসে দেখতে পায় কুলবীর ভাইদের পাশে বসে আছে। যখন অন্য ভাই পুলিশ দেখে সাহায্যের জন্য চিত্কার করে, তাতিয়ানা তাকেও আক্রমণ করে।

২০. ওকলাহামার প্যারল্ড ওয়াইন ইন্টারেকটিভ জুলজিক্যাল পার্কে একটি শিশু শিম্পাঞ্জি, একটি শিশু ভালুক ও দুটি বাঘের ছানাকে একসঙ্গে লালনপালন করা হয়। এরা তখন শিশু ধরে নেয়া হয় আর একটু বড় হলে তাদের আসল চেহারা প্রকাশিত হবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে জাঙ্গল বুকের বালু শের খান লিওর মতো এরাও হয়ে উঠেছে বেস্ট ফ্রেন্ডস। একসঙ্গে খাচ্ছে-দাচ্ছে, আলিঙ্গনও করছে।

২১. কেশরযুক্ত নেকড়ের মূত্রের গন্ধ গাঁজার গন্ধের মতোই, এর কারণ সম্ভবত পাইরাজিন উপাদান, যা গাঁজা গাছেও থাকে। এ গন্ধ একবার নেদারল্যান্ডসের রটারডাম চিড়িয়াখানায় পুলিশকে টেনে আনে। পুলিশ গাঁজাখোরের সন্ধানে পুরো জুলজিক্যাল পার্কে অনুসন্ধান চালিয়ে নেকড়ের মূত্রের কাছে এসে অভিযান শেষ করে।

২২. চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বোনোবো বা পিগমি শিম্পাঞ্জি নিয়ে বরাবরই বিব্রতকর অবস্থায় থাকে। মানুষ এবং বোনোবোর যৌনক্রিয়া একই ধরনের সামনাসামনি। বোনোবো নারী-পুরুষের সুনির্দিষ্ট জোড় নিয়ে গবেষকদের মনে প্রশ্ন আছে। যেকোনো সময়, যেকোনো বয়সী নারী-পুরুষের মধ্যে যৌনকর্ম শুরু হয়ে যায় এবং এমনকি সাধারণ শুভেচ্ছাতেও চুম্বন থেকে জেনিটান সেক্স শুরু হয়ে যায়।

এজন্য চিড়িয়াখানার পিগমি শিম্পাঞ্জি দর্শনার্থীদের আড়ালেই থাকতে চায়। কাজটা যে গোপনীয় সম্ভবত এ ধারণা এগুলোর আছে।

২৩. জার্মানির ব্রেমেন চিড়িয়াখানার ১০ জোড়া পেঙ্গুইনের মধ্যে তিনটি জোড়ের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। অন্যগুলোর সন্তান হলেও এগুলো নিঃসন্তান থেকে যায়। ২০০৫ সালে আবিষ্কৃত হয় এগুলো সমকামী। এগুলোর সমকাম প্রবণতা রোধ করার জন্য বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং সুইডেন থেকে আমদানি করা চারটি নারী পেঙ্গুইন এক এক করে তাদের সঙ্গে থাকতে দেয়া হয়। কিন্তু তিন জোড়ার দুটি পেঙ্গুইনের কোনোটি নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়নি। অগত্যা কর্তৃপক্ষ সমকামী জোড়গুলোকে আবার সহবাসের সুযোগ করে দেয়। পেঙ্গুইন জোড়ের বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার প্রতিবাদ করেছে এলজিবিটি (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল অ্যান্ড ট্রান্সজেন্ডার) গ্রুপ।

২৪. আমস্টারডাম অ্যাপেনহেউল প্রাইমেট পার্কে যখন শিবু নামের পুরুষটিকে আনা হলো, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মূল উদ্দেশ্য ছিল এটাকে একটি প্রজননক্ষেত্রে পরিণত করা। এখানে শিবু বিপরীতে লিঙ্গের আকর্ষণীয় প্রাণীর কমতি নেই। কিন্তু ভরযৌবনেও শিবুর তাদের দিকে কোনো টান নেই।

শিবু একটি ওরাংওটাং। হাতে ট্যাটু আঁকা স্বর্ণকেশী নারীর দিকে এর টান, বিশেষ করে তার কিপার নারী তার কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। সঙ্গত কারণেই ওরাংওটাংয়ে সম্ভাব্য ব্রিডিং গ্রাউন্ড হয়ে উঠছে না প্রাইমেট পার্ক।

২৫. কিডন্যাপিংয়ের মতো একটি শব্দ কাবন্যাপিং বা শাবক অপহরণ। চিড়িয়াখানার প্রহরার মধ্যে এ ধরনের দুঃসাহসিক কাজ করা সাধারণ কিডন্যাপারের পক্ষে সম্ভব নয়। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গাজা জুতে মুখোশ পরিহিত, একে ৪৭ রাইফেল সজ্জিত চারজন কাবন্যাপার প্রথমে সিংহের খাঁচা থেকে সিংহশাবককে তুলে নেয়, তারপর ধরে ফেলে আরবি কথোপকথনে অভ্যস্ত দুটি তোতা পাখি। তারপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সটকে পড়ে।

২৬. বিশ শতকের শুরুতে প্যারিসে ছিল ‘হ্যান্টিং হিউম্যান জু’। ১৯০৭ সালে ছয়টি ভিন্ন গ্রাম সৃষ্টি করে ফ্রেঞ্চ উপনিবেশ মাদাগাস্কার, ইন্দোচীন, সুদান, কঙ্গো, তিউনিসিয়া ও মরক্কো থেকে গ্রামীণ অধিবাসী এনে তাদের আদিম জীবনে সেখানে থাকা-খাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। এই মানুষের মধ্যে ক’জন আবার নিজ দেশে ফিরতে পেরেছে তার হিসাব জানা নেই। তবে মনুষ্য চিড়িয়াখানায় নিজেদের দেশের সম্পূর্ণ অপরিচিত রোগ গুটি বসন্ত, হাম ও যক্ষ্মায় অনেকেই মারা যায়। ১০ লাখ দর্শনার্থী মানুষের এই চিড়িয়াখানা দেখতে আসে। পরবর্তীকালের মানবাধিকারবাদীরা এর তীব্র নিন্দা জানান।

১৯০৪ সালে আমেরিকার মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুই-এ লুইজিয়ানা পারচেজ-এক্সপোজিশনে জীবজন্তুর সঙ্গে কাভার পিগমি জনগোষ্ঠীর ওটা বেঙ্গাকে প্রদর্শন করা হয়।

এভান এসার মানুষের আচরণ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছে: মানুষ কেমন, তা জানার জন্য চিড়িয়াখানা হচ্ছে, একটি চমত্কার জায়গা।

 

[সব শেষে তথ্যগুলো বিভিন্ন ওয়েবসাইট, বিভিন্ন সংবাদ ও ইলেকট্রনিক উৎস থেকে গৃহীত।]