একটি বাদামি রঙ দিয়ে ধীরে ধীরে
যে ছবিটি আঁকি, তাকে আমি ঠিক চিনি না
মনে রাখার আকুতি নিয়ে আঁকিও না
ঠিক যেমন মৃত্যুর পর কেউ কাউকে
আর মনে রাখে না,
খসে পড়া মনের পালক দিয়ে
অনবদ্য রঙ-তুলি বানাই আর নীরবে এঁকে যাই
একটু একটু করে একটা চোখ আঁকি
মোনালিসা এখানেও স্নাইলি দাঁড়িয়ে যায়
আমি হাসি আর ছবিটির চোখে চোখ রাখি,
তারপর অন্য চোখটি আঁকতে শুরু করি
সে কাজটি শুরু করতেই কেউ টগবগিয়ে
খুন হাসি হাসতেই থাকে,
উদাসীন আমি তার ঠোঁটের প্রেমে পড়ে যাই
হঠাৎ আঁকতে শুরু করি সেই ঠোঁট
একটানা একটা নেশা আমাকে গিলে খায়
আমি ধ্যানস্থ সন্ন্যাসীর মতো
ধীরে ধীরে ধৈর্য ধরে দেখতেই থাকি;
তারপর নিষেধ ভেঙে সেই ঠোঁটের
আত্মকাহিনী লিখতে শুরু করি,
লিখতে লিখতে একসময় নিজেই জড়িয়ে পড়ি
সেই ঠোঁটের স্তব্ধতা ভেঙে দেয়
অজানা কোনো এক স্বপ্ন;
একদিন ঠিক তাকেই লিখতে শুরু করি
যে আমাকে এত স্বপ্নের রঙ বানায়
এত তুলির আঁচড়ে আমাকে মাখায়
আমার চোখে বসে যে অনায়াসে
এই চোখকেই হুবহু এঁকে ফেলে,
অবশেষে চোখ খুলতেই সে ভেঙে যায়
কাচের গুঁড়োর মতো আমার চারপাশে
চিৎকার করতে থাকে, চারদিক থেকে
ভেসে আসে কয়েকটি কড়া শব্দ,
বলেছিলাম তো আমিই চিত্রকর স্বপ্নবাজ
সেই চোখের ভেতর আমাকেই খুঁজেছিলে
আমি আসলে ধোঁয়া ধোঁয়া
নিমিষে হারিয়ে যাওয়া..!






