বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের
বিভিন্ন জেলা
যেমন গাইবান্ধা,
বগুড়া, রাজশাহীসহ
এ অঞ্চল
সম্পর্কে প্রাচীনত্বের
কথা জানা
যায়। প্রতিটি
অঞ্চলেরই প্রাচীনত্বের
প্রমাণ পাওয়া
গেছে।
সে রকমভাবেই
দক্ষিণাঞ্চলের যশোরও
একটি অতি
প্রাচীন রাজ্য!
কতটা
প্রাচীন?
এর
উত্তর খুঁজতে
গিয়ে দেখা
যায়, পঞ্চম
শতাব্দীতে যশোর
বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত
ছিল বলে
অনুমান করা
হয়। টলেমির
মানচিত্র থেকে
জানা যায়,
খ্রিস্টীয় প্রথম
ও দ্বিতীয়
শতাব্দীতে যশোর
জেলাসহ বাংলার
সমগ্র বদ্বীপাঞ্চল
গঙ্গারাষ্ট্র নামে
একটি শক্তিশালী
রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত
ছিল। গ্রিক
ও লাতিন
লেখকরা যাকে
গঙ্গারেডিয়া নামে
অভিহিত করেছেন।
একবিংশ শতাব্দীতে
যশোর ভ্রমণে
গেলে সেই
প্রাচীনত্বের কতটুকু
দেখা মেলে!
হয়তো খুব
বেশি নয়।
এর যৌক্তিক
অনেক কারণই
রয়েছে। ভৌগোলিক
পরিবর্তন, যুগের
বিবর্তন, প্রাকৃতিক
বিপর্যয়, যুদ্ধবিগ্রহ,
নগরায়ণসহ আরো
নানা পরিবর্তন।
তবে এ
কথাও সত্যি,
কালের ক্ষয়
পেরিয়ে যশোর
অঞ্চলে অনেক
পুরনো কীর্তি
এখনো সংরক্ষিত
আছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন
জেলায় একাধিক
ভ্রমণে যাওয়ার
সুযোগ মিললেও
যশোরে একবারই
ভ্রমণ করেছি।
সে ঐতিহ্য
পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতা
আর ঐতিহাসিক
গ্রন্থ ঘেঁটে
এখানে যশোরের
কয়েকটি ঐতিহাসিক
নিদর্শনের গল্প
হাজির করছি।
ভরত ভায়না
ভরত
ভায়না একটি
সংঘারাম!
বাংলাদেশের
দক্ষিণাঞ্চলের আজ
পর্যন্ত আবিষ্কৃত
স্থাপনার মধ্যে
সবচেয়ে পুরনো
স্থাপনা এ
সংঘারাম। যার
স্থাপনকাল ধরে
নেয়া হচ্ছে
পঞ্চম শতাব্দীর,
মতান্তরে সপ্তম
থেকে অষ্টম।
বিশ্ব পর্যটক
হিউয়েন সাং
প্রাচীন বাংলা
ভ্রমণের সময়
তার ভ্রমণ
গ্রন্থে মোট
৩০টি সংঘারামের
কথা উল্লেখ
করেন। যশোরের
কেশবপুর উপজেলার
ভরত ভায়না
এমনই একটি
সংঘারাম। খুলনা-যশোর
সীমান্তে কেশবপুর
উপজেলার ভদ্রা
নদীর পশ্চিম
তীরে ভরত
ভায়না গ্রাম।
সে থেকেই
এই স্থাপনার
নাম ভরত
ভায়না হয়েছে।
সংঘারাম আসলে ঠিক বৌদ্ধবিহার নয়, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের আবাসস্থলকে সংঘারাম বলা হয়। যশোর-খুলনার ইতিহাস গ্রন্থে সতীশচন্দ্র মিত্র বলেন, ‘ইহা এখনো ৫০ ফুট উঁচু আছে, লোকে বলে উহা আরো উঁচু ছিল, ভূমিকম্পে বসে গেছে। দূর থেকে দেখলে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের মতো মনে হয়। এ স্থাপনাটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে আছে।’
হাম্মামখানা
হাম্মামখানা
আমাদের কাছে
খুব পরিচিত
একটি শব্দ
নয়। এটি
একটি ফার্সি
শব্দ, যার
অর্থ স্নানাগার।
মোগল আমলের
মাত্র সাতটি
হাম্মামখানা বাংলাদেশের
বিভিন্ন জেলায়
টিকে আছে।
বেশির ভাগের
অবস্থা খুবই
শোচনীয়।
মুসলিম সভ্যতায়
প্রথম স্নানাগার
বা হাম্মাম
নির্মিত হয়
এশিয়া মাইনর
অঞ্চলে। তুরস্ক
ও পারস্যে
এর চূড়ান্ত
বিকাশ ঘটে।
উমাইয়া যুগে
নির্মিত ‘কুসায়ের
আমরা প্রাসাদ’
সংলগ্ন হাম্মামটি
মুসলিম সভ্যতার
প্রথম স্নানাগার।
এর নির্মাণকাল
৭১২-৭১৫
খ্রিস্টাব্দ। তুর্কিদের
সংস্পর্শে এসে
এ ধারণা
মধ্যপ্রাচ্য থেকে
ইউরোপে যায়
এবং সেখানে
তা ‘টার্কিশ
হাম্মাম’ নামে
পরিচিতি পায়।
মোগলদের হাত
ধরে হাম্মামখানার
আগমন ঘটে
ভারতবর্ষে।
কেশবপুর উপজেলার
মির্জানগর ছিল
মোগল আমলের
একটি প্রসিদ্ধ
শাসনকেন্দ্র। তবে
হাম্মামখানাটি ছাড়া
আর কোনো
মোগল স্থাপনা
টিকে নেই।
সুলতান শাহ
সুজা যখন
বাংলার সুবেদার
নিযুক্ত হন,
তখন তার
শ্যালকপুত্র শফসি
খান যশোরের
ফৌজদার নিযুক্ত
হয়ে আসেন।
তিনি এ
স্থানের নাম
রাখেন মির্জানগর।
তিন গম্বুজবিশিষ্ট
এ হাম্মামখানাটিতে
বর্তমানে তিনটি
কামরা আছে।
দুটি কক্ষে
জলাধার আছে।
যেটির বড়
কক্ষ সম্ভবত
পোশাক পরিবর্তনের
জন্য। বলা
হয় হামাম্মখানায়
গরম ও
ঠাণ্ডা পানির
ব্যবস্থা ছিল।
বর্তমানে হাম্মামখানার
চারদিকে অনেক
লোকালয় গড়ে
উঠেছে। বেশ
কিছু দূর
বাহন রেখে
মাটির সরু
একটি রাস্তা
দিয়ে হেঁটে
গেলে দেখা
মিলবে হাম্মামখানার।
আমি যখন দেখেছি, হাম্মামখানাটি বেশ নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। দেখে বোঝা যাচ্ছিল যত্নের অভাব রয়েছে। যদিও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বোর্ড ঝুলছে।
চাঁচড়া রাজবাড়ী ও মন্দিরগুলো
মহারাজা
বিক্রমাদিত্য ও
প্রতাপাদিত্যের ‘যশোহর
রাজ্য’ বা
‘যশোহর
সমাজ’ ভূমিতে
চাঁচড়া রাজবংশের
কথা অনেক
শুনেছি। মহারাজা
বিক্রমাদিত্য ও
প্রতাপাদিত্যের বর্ণনা
পড়েছি সতীশচন্দ্র
মিত্রের ‘যশোহর-খুলনার
ইতিহাসে’।
চাঁচড়া রাজবাড়ীর
গোড়াপত্তন নিয়েও
আছে নানা
কথা-উপকথা।
বিভিন্ন অনলাইন
পোর্টালে এবং
সরকারি তথ্য
বাতায়নে বলা
হচ্ছে—চাঁচড়া
রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত
হয় ১৬০০
শতকে। মহতাব
রায় এ
রাজবংশের প্রথম
রাজা। রাজা
মহতাব রায়ের
মৃত্যু হলে
তার জ্যেষ্ঠ
পুত্র কন্দর্প
রায় রাজ্যাধিকারী
হন। রাজা
কন্দর্প রায়
খেদাপাড়া থেকে
উঠে এসে
ইমাদপুর পরগনার
অন্তর্গত চাঁচড়া
গ্রামে বসতি
স্থাপন করেন।
সুতরাং চাঁচড়ার
রাজধানীর স্থাপতি
তিনিই। সেখানে
প্রায় ৩০
বছর রাজত্ব
করেন রাজা
কন্দর্প রায়।
এরপর বংশানুক্রমে
অনেকেই রাজা
হয়েছেন। রাজবাহাদুর
বরদাকণ্ঠ প্রায়
৪০ বছর
রাজত্ব করে
মৃত্যুবরণ করলে
তার পুত্র
জ্ঞানদাকণ্ঠ এ
বংশের সর্বশেষ
রাজা হন।
যশোর জেলা
শহর থেকে
তিন-চার
কিলোমিটার দূরে
অবস্থিত এ
রাজবাড়ী।
আবুল কালাম
মোহাম্মদ যাকারিয়া
‘বাংলাদেশের
প্রত্নসম্পদ’ গ্রন্থে
লিখেছেন, ‘চাঁচড়ার
জমিদাররা অত্যন্ত
প্রতাপশালী ছিলেন।
রাজবাড়ী নির্মাণের
সময় তারা
অনেক মন্দির
নির্মাণ করেন।
রাজা প্রতাপাদিত্যের
পতনের পর
এ রাজবাড়ী
খ্যাতি অর্জন
করে। রাজবাড়ীতে
বহু অট্টালিকা
ও মন্দির
নির্মিত হয়।
প্রত্নকীর্তি হিসেবে
সেগুলোর মধ্যে
ছিল তোরণ,
মনসা মন্দির,
ভোজনশালা, দশমহাবিদ্যা
মন্দির, কালী
মন্দির ও
সিরকা মন্দির।’
এ বর্ণনা
পড়ে সেখানে
গেলে খুবই
হতাশ হতে
হয়। চারদিক
জঙ্গলাকীর্ণ, রাজবাড়ীর
একটি মাত্র
ভবনের ধ্বংসাবশেষ
রয়েছে। রাজবাড়ীর
ধ্বংসাবশেষের পাশেই
রয়েছে ঘাট
বাঁধানো পুকুর।
স্থানীয়রা একে
দুধসাগর পুকুর
বলছেন, যেখানে
রানী স্নান
করতেন। এছাড়া
হিমসাগর ও
কালীসাগর নামে
আরো দুটি
পুকুর রয়েছে।
রাজবাড়ীর যে
ভবনটি বেঁচে
রয়েছে, সেখানে
সম্ভবত বিদ্যুৎ
অফিসের কোনো
কর্মচারী বসবাস
করছেন বলে
এলাকাবাসী জানান।
আমি তালাবদ্ধ
দেখেছি, কথা
বলার জন্য
কাউকে খুঁজে
পাইনি।
রাজবাড়ী থেকে
অল্প দূরে
একটি শিব
মন্দির টিকে
আছে। আশপাশে
অনেক স্থাপনার
অস্তিত্ব টের
পাওয়া যায়।
কারণ পুরো
জায়গাজুড়ে অসংখ্য
ইটের ভগ্নাংশ
দেখতে পাবেন।
প্রতিটি মন্দিরের
সামনেই জলাধার
ছিল বলে
বইতে পড়েছি।
শিব মন্দিরের
সামনের দীঘির
নাম শিবসাগর
দীঘি।
অভয়নগর রাজবাড়ী ও এগারো
শিব মন্দির
বৃহত্তর
খুলনা-যশোর
জেলার সীমান্তবর্তী
পয়োগ্রাম-কসবা
থেকে অল্প
কিছু দূরেই
অভয়নগর অবস্থিত,
যেখানে ১১টি
শিব মন্দির
একই স্থানে
নির্মিত হয়েছে।
প্রাচীরবিশিষ্ট একটি
স্থানে মন্দিরগুলোর
সঙ্গে একটি
রাজবাড়ীও নির্মিত
হয়েছিল।
মনে করা
হয়, চাঁচড়া
রাজবাড়ীর অভয়া
নামক এক
অকালবিধবা রাজকন্যার
নামে এবং
তার জন্য
এ রাজবাড়ী
ও মন্দিরগুলো
নির্মিত হয়েছিল।
রাজকন্যার নামানুসারে
এ অঞ্চলের
নাম অভয়নগর
রাখা হয়।
জানা যায়,
মোগলদের সঙ্গে
যুদ্ধে প্রতাপশালী
যশোর রাজ্যের
রাজা প্রতাপাদিত্য
পরাজিত ও
বন্দি হন।
ফলে রাজপরিবারের
সদস্যরা এদিক-ওদিক
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে
পড়েন। তাদের
মাঝে একজন
ঠাঁই নিয়েছিলেন
যশোরের চাঁচড়া
অঞ্চলে। এদের
উত্তরপুরুষ রাজা
নীলকণ্ঠ রায়।
রাজা নীলকণ্ঠ
রায়ের কন্যা
ছিলেন অভয়া।
মন্দিরের নির্মাণকাল
১৭৪৫-৬৪
সাল। মন্দির
নির্মাণে ব্রিটিশ
আমলে অনুসৃত
চুন, সুরকি
ও ইট
ব্যবহার করা
হয়েছে। পূর্ব
ও পশ্চিম
সারিতে চারটি
করে মোট
আটটি মন্দির।
দক্ষিণ দিকে
প্রবেশপথের দুদিকে
রয়েছে দুটি
মন্দির। মূল
মন্দিরটি পশ্চিম
দিকে। সব
মিলিয়ে ১১টি
মন্দির।
প্রতিটি মন্দিরে আগে একটি করে শিবলিঙ্গ ছিল, পরে চুরি হয়ে যায়। এখন শুধু মূল মন্দিরেই একটি শিবলিঙ্গ অবশিষ্ট রয়েছে। মন্দিরের বাইরে দক্ষিণ দিকে মন্দির কমপ্লেক্সে ঢোকার প্রধান প্রবেশপথ অবস্থিত। প্রতিটি মন্দিরে প্রবেশের জন্য আছে খিলানাকৃতির প্রবেশপথ ও উপপ্রবেশপথ, বাঁকানো ও কোণাকৃতির কার্নিশ। আর রয়েছে অনিন্দ্যসুন্দর কারুকার্য। তার মধ্যে রয়েছে ফ্লোরাল মোটিফ।
মন্দিরের চারপাশে
একসময় প্রাচীরবেষ্টিত
ছিল। এখনো
তার চিহ্ন
কিছুটা রয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম
কোণে একটি
পুকুর ছিল।
আপাতত দখলদারদের
কবলে।
আর রাজবাড়ী!
পুরোটাই বিলুপ্ত!
সেখানে শস্য
ফলছে!
২০১৪ সালে
বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব
অধিদপ্তর প্রথম
ধাপের সংস্কারকাজ
আরম্ভ করে,
যা শেষ
হয় ২০১৭
সালে। কিছুটা
যত্নহীন দেখেছি।
আরো যত্নের
প্রয়োজন।
মহাকবির বাড়ি
কপোতাক্ষ
নদ! সাগরদাঁড়ি!
মহাকবি মাইকেল
মধুসূদন দত্ত!
এ কথা
কয়টি ছোটবেলা
থেকেই শুনে
এসেছি। মনটা
বেশ খানিকটা
রোমাঞ্চিত ছিল,
কবির জন্মস্থান
দেখতে যাওয়ার
সময়। কবির
বাবা রাজনারায়ণ
দত্ত ছিলেন
তত্কালীন জমিদার।
১৮২৪ সালের
দিকে মাইকেল
মধুসূদন দত্ত
এ বাড়িতে
জন্ম নেন
এবং তার
শৈশব এখানেই
কাটান। কয়েকটি
ভবন, পুকুরঘাটসহ
এখানে কবির
স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন
জিনিস নিয়ে
একটি জাদুঘর
নির্মাণ করা
হয়েছে। সেখানে
পরিবারের ব্যবহূত
খাট, পালঙ্ক,
আলনাসহ বিভিন্ন
জিনিস সংরক্ষিত
রয়েছে। বাড়িটির
চারপাশ পাঁচিলঘেরা।
বাড়ির পশ্চিম
পাশে বিশালাকৃতির
পুকুর।
কবির বাড়ি
এখন প্রত্নতত্ত্ব
অধিদপ্তরের অধীন।
পর্যটন শিল্প
বিকাশের লক্ষ্যে
কবির জন্মস্থান
সাগরদাঁড়িকে মধুপল্লী
ঘোষণা করেছে
বাংলাদেশ সরকার।
একটি কথা
না বলে
পারছি না,
মধুপল্লীর ভেতর
কবির একটি
পূর্ণাবয়ব ভাস্কর্য
তৈরি করা
হয়েছে, যা
মোটেও দৃষ্টিনন্দন
নয়।
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি
প্রায়
১৬৮ বছরের
পুরনো একটি
ঐতিহাসিক গণগ্রন্থাগার।
১৮৫৪ সালে
যশোর শহরের
প্রাণকেন্দ্রে তিন
একর জমির
ওপর প্রতিষ্ঠিত।
যশোরের তত্কালীন
জেলা কালেক্টর
আরসি রেকস
এর প্রতিষ্ঠাতা।
তিনি এ
লাইব্রেরি ভবন
নির্মাণ ও
পুস্তক সংগ্রহের
কাজে সে
কালের বিত্তবান
শ্রেণীর কাছ
থেকে ব্যক্তিগতভাবে
সাহায্য সংগ্রহ
করেছিলেন। কয়েকজন
সুহূদ নীলকর
সাহেব, নলডাঙ্গা
ও নড়াইলের
জমিদার এ
লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠায়
রেকসকে অর্থ
দিয়ে সাহায্য
করেছিলেন। সে
সময় এ
প্রতিষ্ঠানের নাম
ছিল যশোর
পাবলিক লাইব্রেরি।
১৮৫৪ সালেই
লাইব্রেরির নিজস্ব
ভবন নির্মিত
হয়।
শুরুর দিকে
লাইব্রেরিতে লেখাপড়ার
পাশাপাশি চলত
অবসর বিনোদন
ও আড্ডা।
এর এক
পাশে ছিল
পুস্তক সংগ্রহ
অন্য পাশে
বিলিয়ার্ড টেবিল।
পরবর্তী সময়ে
কলেবর আরো
বৃদ্ধি পায়।
লাইব্রেরিকে কেন্দ্র
করে গড়ে
ওঠে একাধিক
প্রতিষ্ঠান। ১৯০৯
সালে স্থাপিত
হয় টাউন
হল, ১৯১৯
সালে টাউন
ক্লাব ও
নিউ আর্য
থিয়েটার এবং
১৯২১ সালে
নিউ আর্য
থিয়েটারের জন্য
নির্মিত হয়
বি. সরকার
মেমোরিয়াল হল।
১৯২৭ সালে
যশোর জেলার
লোহাগড়ার কৃতী
সন্তান স্যার
যদুনাথ মজুমদার
যশোর পাবলিক
লাইব্রেরি, নিউ
আর্য থিয়েটার
ও টাউন
ক্লাব মিলে
একটি পূর্ণাঙ্গ
সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
গড়ে তোলার
উদ্যোগ নেন।
এভাবেই ১৯২৮
সালে প্রতিষ্ঠিত
হয় যশোর
ইনস্টিটিউট। এরপর
এক সরকারি
আদেশবলে লাইব্রেরিটি
যশোর ইনস্টিটিউটের
অঙ্গসংগঠনে পরিণত
হয়। সেই
থেকে এ
প্রতিষ্ঠানের নামকরণ
হয়েছে যশোর
ইনস্টিটিউট পাবলিক
লাইব্রেরি। ওই
সালেই লোহাগড়ার
সন্তান আইনজীবী
অবিনাশচন্দ্র সরকার
লাইব্রেরির জন্য
একটি নতুন
ভবন নির্মাণ
করে দেন।
পিতার স্মৃতি
রক্ষার্থে তিনি
এ ভবনের
নামকরণ করেন
‘বিশ্বনাথ
লাইব্রেরি হল’।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
সময় ১৯৪২
সালের মে
মাসে সামরিক
প্রয়োজনে রাজকীয়
বিমান বাহিনী
যশোর ইনস্টিটিউটের
পুরো ভবন
দখল করে
নেয়। ফলে
যশোর পাবলিক
লাইব্রেরি গৃহহীন
হয়ে পড়ে।
যুদ্ধ শেষে
লাইব্রেরি ও
তার শরিক
সংগঠনগুলো ফিরে
আসে পুরনো
অস্তিত্বে।
১৯৯৮ সালের
হিসাব অনুযায়ী,
এ লাইব্রেরিতে
বইয়ের সংখ্যা
মোট ৬৭
হাজার ১৯৭।
এর মধ্যে
৪৯ হাজার
৩০৬ বাংলা,
১৭ হাজার
৩৯১ ইংরেজি,
৩০০ আরবি,
ফারসি ও
উর্দু এবং
২০০ হাতে
লেখা পাণ্ডুলিপি
রয়েছে। বহু
শত বছরের
পুরনো তুলট
কাগজ ও
তালপাতায় হাতে
লেখা কতিপয়
পাণ্ডুলিপি ও
প্রতিলিপি রয়েছে।
সহায়িকা
বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ, আবুল
কালাম মোহাম্মদ
যাকারিয়া
যশোহর-খুলনার
ইতিহাস,
সতীশচন্দ্র মিত্র
বাংলাদেশে জেলা
গেজেটিয়ার বৃহত্তর যশোর,
মাহবুব তালুকদার
(সাধারণ সম্পাদক)
এলিজা বিনতে এলাহী: পর্যটক ও শিক্ষক






