রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজ সংস্কারক এবং বাংলায় নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ রোকেয়া নারী শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন। ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ কলকাতার ১৩ নং ওয়ালীউল্লাহ লেনের একটি বাড়িতে মাত্র আটজন ছাত্রী নিয়ে তিনি নবপর্যায়ে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। রোকেয়ার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৯১৭ সালে এ স্কুল মধ্য ইংরেজি গার্লস স্কুলে এবং ১৯৩১ সালে উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে রূপান্তরিত হয়। যে যুগে কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে বাঙালি মুসলমানরা মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করত, সেই অন্ধকার যুগে বেগম রোকেয়া পর্দার অন্তরালে থেকেই নারী শিক্ষা বিস্তারে প্রয়াসী হন এবং মুসলমান মেয়েদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তিলাভের পথ সুগম করেন। সাহিত্যিক হিসেবে তত্কালীন যুগের প্রেক্ষাপটে রোকেয়া ছিলেন এক ব্যতিক্রমী প্রতিভা। নবনূর, সওগাত, মোহাম্মদী, নবপ্রভা, মহিলা, ভারতমহিলা, আল-এসলাম, নওরোজ, মাহে নও, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, The Mussalman, Indian Ladies Magazine প্রভৃতি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন। তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায়।

ছোটগল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও শ্লেষাত্মক রচনায় বেগম রোকেয়া নিজস্ব স্টাইল তৈরি করেছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২), Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮), পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪), অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি। এছাড়া তিনি অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা লিখেছেন।

বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। এখানে তার হিমালয় ভ্রমণের স্মৃতিচারণের নির্বাচিত অংশ সংকলিত হলো—

 

এখন আমরা হিমালয়ে আছি। অনেক দিনের সাধ পূর্ণ হইল, আমি পর্ব্বত দেখিলাম। পাঠিকাদিগের নিকট হিমালয় নূতন বোধ না হইতে পারে, কিন্তু আমার জন্য ইহা সম্পূর্ণ নূতন। পুস্তকে সাগর, ভূধর, নির্ঝর ইত্যাদির বিষয় পাঠে দর্শনাকাঙ্ক্ষা জাগরিত হইত—নীরবে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলিয়া ভাবিতাম, এসব দেখা আমার পক্ষে অসম্ভব। বেশী দুঃখ হইত, এই ভাবিয়া যে, সুদূর ইউরোপের লোকেরা আমাদের হিমালয় দেখিয়া যায়, আর আমরাই তাহা দেখিতে পাই না। এতদিনে ঈশ্বর কৃপায় আমরাও হিমালয় দেখিলাম।

যথা সময় যাত্রা করিয়া শিলিগুড়ি ষ্টেশনে আসিয়া পহুঁছিলাম। শিলিগুড়ি হইতে হিমালয় রেল রোড আরম্ভ হইয়াছে। ইষ্ট ইণ্ডিয়ান গাড়ীর অপেক্ষা ইষ্টার্ণ বেঙ্গল রেলগাড়ী ছোট। হিমালয়ান রেলগাড়ী আবার তাহার অপেক্ষাও ছোট, ক্ষুদ্র গাড়ীগুলি খেলেনা গাড়ীর মত বেশ সুন্দর দেখায়। আর গাড়ীগুলি খুব নীচু। যাত্রিগণ ইচ্ছা করিলে চলিবার সময়ও অনায়াসে উঠিতে নামিতে পারেন।

আমাদের ট্রেন অনেক আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করিয়া ধীরে ধীরে উপরে উঠিতে লাগিল—গাড়ীগুলি “কটাটটা”—শব্দ করিতে করিতে কখনও দক্ষিণে কখনও উত্তরে আঁকিয়া বাঁকিয়া চলিল। পথের দুই ধারে মনোরম দৃশ্য—কোথাও অতিউচ্চ (Steep) চূড়া, কোথাও নিবিড় অরণ্য।

মাঝে মাঝে কয়েকটি Refreshment Room এবং ষ্টেশন দেখিলাম। প্রায় সব ষ্টেশনেই Ladie’s waiting room আছে। ঘরগুলি বেশ furnished, আমাদের সহযাত্রী ইউরোপীয়া ভগ্নীগণ প্রায় প্রত্যেক ষ্টেশনেই এক একবার নামিয়া বিশ্রাম করিয়াছেন। Waiting room-এ মুখ ধুইবার পেয়ালাও অনেক—একসঙ্গে চারিজন হাত মুখ ধুইতে পারে। ভগ্নীরা আর কিছু সঙ্গে রাখুন বা না রাখুন, চিরুণী, ব্রাশ পাউডার ত রাখেন। বাঙ্গালী মেয়েরা এত ঘন ঘন চুল বিন্যাস করিতে পারে না। যাহা হউক ইউরোপীয় ভগ্নীদের স্ফূর্ত্তি খুব প্রশংসনীয়। ওয়েটিং রুমে “ভুটিয়ানী” আয়া উপস্থিত থাকে।

ক্রমে আমরা সমুদ্র (Sea level) হইতে তিন হাজার ফীট উচ্চে উঠিয়াছি, এখনও শীত বোধ হয় না, কিন্তু মেঘের ভেতর দিয়া চলিয়াছি। নিম্ন উপত্যকায় নির্ম্মল শ্বেত কুজঝটিকা দেখিয়া সহসা নদী বলিয়া ভ্রম জন্মে। তরু, লতা, ঘাস, পাতা—সকলই মনোহর। এত বড় বড় ঘাস আমি পূর্ব্বে দেখি নাই। হরিদ্বর্ণ চায়ের ক্ষেত্রগুলি প্রাকৃতিক শোভা আরও শতগুণ বৃদ্ধি করিয়াছে। দূর হইতে সারি সারি চারাগুলি বড় সুন্দর বোধ হয়। মাঝে মাঝে মানুষের চলিবার সঙ্কীর্ণ পথগুলি ধরণীর সীমান্তের ন্যায় দেখায়। নিবিড় শ্যামল বন বসুমতীর ঘন কেশপাশ, আর পথগুলি আঁকাবাঁকা সিঁথি!!

রেলপথে অনেকগুলি জলপ্রপাত বা নির্ঝর দৃষ্টিগোচর হইল—ইহার সৌন্দর্য্য বর্ণনাতীত। কোথা হইতে আসিয়া ভীমবেগে হিমাদ্রির পাষাণ হূদয় বিদীর্ণ করিতে করিতে ইহারা কোথায় চলিয়াছে। ইহাদেরই কোন একটি বিশালকায় জাহ্নবীর উৎস, একথা সহসা বিশ্বাস হয় কি? একটি বড় ঝর্ণার নিকট ট্রেন থামিল, আমরা ভাবিলাম, যাহাতে আমরা প্রাণ ভরিয়া জলপ্রবাহ দেখিতে পাই, সেই জন্য বোধহয় গাড়ী থামিয়াছে। (বাস্তবিক সেজন্য কিন্তু ট্রেন থামে নাই—অন্য কারণ ছিল। সেইখানে জল পরিবর্ত্তন করা হইতেছিল) যে কারণেই ট্রেন থামুক—আমাদের মনোরথ পূর্ণ হইল।

এখন আমরা চারি হাজার ফীট ঊর্ধ্বে উঠিয়াছি, তবু শীত অনুভব করি না, কিন্তু গরমের জ্বালায় যে এতক্ষণ প্রাণ কণ্ঠাগত ছিল—সে জুলুম হইতে রক্ষা পাইলাম। অল্প অল্প বাতাস মৃদু গতিতে বহিতেছে। এইখানে ৪১২০ ফীট উচ্চে “মহানদী” ষ্টেশন। ষ্টেশনের নামটা খুব ভালমত পড়িতে পারি নাই, যতদূর দেখিয়াছি, তাহাতে বোধহয় “মহানদী”ই নাম। যাহা হউক, যদি ষ্টেশনের নাম ভুল হইয়া থাকে, তাহা আমার দোষ নহে,—ষ্টেশন হইতে আমার গাড়ীর দূরত্বের সে দোষ।

অবশেষে কারসিয়ং ষ্টেশনে উপস্থিত হইলাম, এখানকার উচ্চতা ৪৮৬৪ ফীট। ষ্টেশনে অত্যন্ত ভীড় দেখিয়া আমি Ladie’s waiting room-এ একটু বসিলাম। ইউরোপীয় ভগ্নীদের মুখ ধোয়া এবং কেশ বিন্যাস দেখিলাম। একজনের সঙ্গে কচি ছেলে ছিল, তিনি আমাকে ছেলের মুখ ধোয়াইতে হুকুম দিয়া গাড়ীতে উঠিতে গেলেন। আমার কি গরজ, যে ছেলের মুখ ধোয়াইব? সে তাহার পরিত্যক্ত তোয়ালে দ্বারা ছেলের মুখ মুছাইয়া অনুমান দশ সেকেণ্ড দেরী করিয়া গাড়ী অভিমুখে ছুটিল। চাকরের উপর নির্ভর করিলে ঐ রূপ হয়ই। ট্রেন ছুটিলে ভীড় কম হইল, তখন আমরা ওয়েটিং রুম ছাড়িয়া উঠিলাম।

ষ্টেশন হইতে আমাদের বাসা অধিক দূরে নহে, শীঘ্রই আসিয়া পঁহুছিলাম। আমাদের ট্রাঙ্ক কয়টা ভ্রমক্রমে দার্জ্জিলীঙ্গের ঠিকানায় book করা হইয়াছিল। জিনিষপত্রের অভাবে বাসায় আসিয়াও (সন্ধ্যার পূর্ব্বে) গৃহসুখ (at home) অনুভব করিতে পারি নাই। সন্ধ্যার ট্রেনে আমাদের ট্রাঙ্কগুলি ফিরিয়া আসিল। আমাদের দার্জ্জিলীং যাবার পূর্ব্বে আমাদের জিনিষ পত্র তথাকার বায়ু সেবন করিয়া চরিতার্থ হইল। পরদিন হইতে আমরা সম্পূর্ণ গৃহসুখে আছি। তাই বলি, কেবল আশ্রয় পাইলে সুখে গৃহে থাকা হয় না, আবশ্যকীয় আসবাব সরঞ্জামও চাই।

এখানে এখনও শীতের বৃদ্ধি হয় নাই, গ্রীষ্মও নাই। এ সময়কে পার্বত্য বসন্তকাল বলিলে কেমন হয়? সূর্যকিরণ প্রখর বোধ হয়। আমাদের আসিবার পর একদিন মাত্র সামান্য বৃষ্টি হইয়াছিল। বায়ু ত খুবই স্বাস্থ্যকর, জল নাকি খুব ভাল নহে। আমরা পানীয় জল ফিল্টারে ছাঁকিয়া ব্যবহার করি। জল কিন্তু দেখিতে খুব পরিষ্কার স্বচ্ছ। কূপ নাই, নদী পুষ্করিণীও নাই—সবে ধন নির্ঝরের জল। করুণার সুবিমল, শীতল জলদর্শনে চক্ষু জুড়ায়, দর্শনে হস্ত জুড়ায় এবং ইহার চতুষ্পার্শ্বস্থিত শীতল বাতাসে, না ঘন কুয়াশায় প্রাণ জুড়ায়।

এখানকার বায়ু পরিষ্কার ও হাল্কা। বায়ু এবং মেঘের লুকোচুরি খেলা দেখিতে চমত্কার। এই মেঘ এদিকে আছে, ওদিক হইতে বাতাস আসিল, মেঘখণ্ডকে তাড়াইয়া লইয়া চলিল। প্রতিদিন অস্তমান রবি বায়ু এবং মেঘ লইয়া মনোহর সৌন্দর্য্যের রাজ্য রচনা করে। পশ্চিম গগনে পাহাড়ের গায় তরল স্বর্ণ ঢালিয়া দেওয়া হয়। অতঃপর খণ্ড খণ্ড সুকুমার মেঘগুলি সুকোমল অঙ্গে সুবর্ণ মাখিয়া বায়ুভার ইতস্ততঃ ছুটাছুটি করিতে থাকে। ইহাদের এই তামাসা দেখিতেই আমার সময় অতিবাহিত হয়, আত্মহারা হইয়া থাকি, কাজ করিতে পারি না।

এদেশে স্ত্রীলোকেরা জোঁক দেখিলে ভয় পায় না। আমাদের ভুটিয়া চাকরানী “ভালু” বলে, জোঁকে কি ক্ষতি করে? রক্ত শোষণ শেষ হইলে আপনিই চলিয়া যায়। ভুটিয়ারীরা সাত গজ লম্বা কাপড় ঘাঘরার মত করিয়া পরে, কোমরে একখণ্ড কাপড় জড়ানো থাকে, গায় জ্যাকেট এবং বিলাতী শাল দ্বারা মাথা ঢাকে, পৃষ্ঠে দুই এক মণ বোঝা লইয়া অনায়াসে প্রস্তরসঙ্কুল আবুড়াখাবুড়া পথ বহিয়া উচ্চে উঠে। ঐ রূপ নীচেও যায়। যে পথ দেখিয়াই আমাদের সাহস “গায়েব” হয়—সেই পথে উহারা বোঝা লইয়া অবলীলাক্রমে উঠে।

‘মহিলা’র সম্পাদক মহাশয় আমাদের সম্বন্ধে একবার লিখিয়াছিলেন যে, “রমণীজাতি দুর্ব্বল বলিয়া তাহাদের নাম অবলা”। জিজ্ঞাসা করি, এই ভুটিয়ানীরাও ঐ অবলা জাতির অন্তর্গত না কি? ইহারা উদরান্নের জন্য পুরুষের প্রত্যাশী নহে, সমভাবে উপার্জ্জন করে। বরং অধিকাংশ স্ত্রীলোকদিগকেই পাথর বহিতে দেখি—পুরুষেরা বেশী বোঝা বহন করে না। অবলারা প্রস্তর বহিয়া লইয়া যায়। “সবলেরা” পথে পাথর বিছাইয়া রাস্তা প্রস্তুত করে, সে কাজে বালক বালিকারাও যোগদান করে। এখানে সবলেরা বালক বালিকার দলভুক্ত বলিয়া বোধহয়।

ভুটিয়ানীরা ‘পাহাড়নী’ বলিয়া আপন পরিচয় দেয়, এবং আমাদিগকে ‘নীচেকা আদমী’ বলে। যেন ইহাদের মতে “নীচেকা আদমী”ই অসভ্য। স্বভাবতঃ ইহারা শ্রমশীলা, কার্য্যপ্রিয়, সাহসী ও সত্যবাদী। কিন্তু “নীচেকা আদমীর” সংস্রবে থাকিয়া ইহারা ক্রমশঃ সদগুণরাজী হারাইতেছে। বাজারের পয়সা অল্পস্বল্প চুরি করা, দুধে জল মিশানো ইত্যাদি দোষ শিখিতেছে। আবার “নীচেকা আদমীর” সঙ্গে বিবাহও হয়। ঐরূপে উহারা অন্যান্য জাতির সহিত মিশিতেছে।

মুসলমান ধর্ম্মের শাস্ত্রানুমোদিত পর্দা রক্ষা করিয়া দেশ বিদেশ ভ্রমণ করা যায়, এ কথা অনেকেই বুঝে না। তাই তাহারা বাড়ী ছাড়িয়া কোথাও যাইতে হইলে মহাবিপদ ভাবে। শাস্ত্রে পর্দা সম্বন্ধে যতটুকু কঠোর ব্যবস্থা আছে, প্রচলিত পর্দা প্রথা তদপেক্ষাও কঠোর। যাহা হউক কেবল শাস্ত্র মানিয়া চলিলে অধিক অসুবিধা ভোগ করিতে হয় না। আমার বিবেচনায় প্রকৃত পর্দ্দা সে-ই রক্ষা করে, যে সমস্ত মানব জাতিকে সহোদর ও সহোদরার ন্যায় জ্ঞান করে।

আমাদের বাসা হইতে প্রায় এক মাইল দূরে বড় একটা ঝরণা বহিতেছে, এখান হইতে ঐ দুগ্ধফেননিভ জলের স্রোত দেখা যায়। দিবানিশি তাহার কল্লোল গীতি শুনিয়া ঈশ্বরের প্রতি ভক্তির উচ্ছ্বাস দ্বিগুণ ত্রিগুণ বেগে প্রবাহিত হয়। বলি, প্রাণটাও কেন ঐ নির্ঝরের ন্যায় বহিয়া গিয়া পরমেশ্বরের চরণ প্রান্তে লুটাইয়া পড়ে না?

অধিক কি বলিব, আমি পাহাড়ে আসিয়া অত্যন্ত সুখী এবং ঈশ্বরের নিকট কৃতজ্ঞ হইয়াছি। সমুদ্রের সামান্য নমুনা, অর্থাৎ বঙ্গোপসাগর দেখিয়াছি, বাকী ছিল পর্বতের একটি নমুনা দেখা। এখন সে সাধও পূর্ণ হইল।

না, সাধ ত মিটে নাই যত দেখি, ততই দর্শন পিপাসা শতগুণে বাড়ে। কিন্তু কেবল দুটি চক্ষু দিয়াছেন, তাহা দ্বারা কত দেখিব? প্রভু অনেকগুলি চক্ষু দেন নাই কেন? যত দেখি যত ভাবি, তাহা ভাষায় ব্যক্ত করিবার ক্ষমতা নাই।

 

[‘মহিলা’, কার্তিক ১৩১১]