‘প্রত্যেক প্রজন্ম ও জাতির মধ্যে গুটিকয়েক মানুষ থাকেন, যারা প্রকৃতিকে অধ্যয়ন করতে, তাকে বুঝতে আগ্রহী হন। আর যদি এ ধরনের মানুষ না থাকেন, তাহলে সেই জাতি ধ্বংস হয়ে যায়’—এ কথা লিখেছিলেন আবু উসমান আমর ইবনে বকর আল-কিনানি আল-ফুকাইমি আল-বাসরি, যিনি আল-জাহিয নামেই দুনিয়ায় বিখ্যাত। আর তিনি ওপরের কথাগুলো লিখেছিলেন তার ম্যাগনাম ওপাস বা মহাগ্রন্থ যা-ই বলি না কেন, কিতাব আল-হায়ওয়ান বা পশুপাখিদের গ্রন্থে।

বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে আলাপ আমাদের দেশ তো বটেই, দুনিয়ার অনেক প্রান্তেই এই ২০১৯ সালেও সুখকর নয়। বিবর্তন তত্ত্ব উপস্থাপন করে উনিশ শতকে চার্লস ডারউইন একদিকে যেমন মানুষের চিন্তাজগতকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তেমনি ধর্মীয় মহল থেকে বিপুল সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে।

দ্য অরিজিন অব স্পিসিস নামে চার্লস ডারউইনের আলোচিত গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে। এই গ্রন্থে তিনি বিবর্তনবাদকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যাতে কোনো প্রাণী ক্রমাগত অভিযোজনের ফলে আপন পরিবেশের জন্য বিশেষায়িত হতে হতে এক সময় নতুন একটি প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়।

বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলের অস্বস্তি, নেতিবাচক ধারণা এখনো অব্যাহত আছে। মুসলিম দুনিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো হাজার বছর আগে মুসলিম পলিম্যাথ আল-জাহিয প্রাণিজগতে বিবর্তন বিষয়ে তত্ত্ব, বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছিলেন। আল-জাহিয লিখেছিলেন, ‘প্রাণীরা তাদের অস্তিত্ব ও টিকে থাকার রসদের জন্য সংগ্রাম করে; অন্যের মুখের গ্রাস না হওয়া এবং প্রজননের জন্যও তাদের সংগ্রাম করতে হয়।’ তিনি আরো লেখেন, ‘অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য পরিবেশের বিভিন্ন ফ্যাক্টর প্রাণীকে তার নতুন বৈশিষ্ট্য বিকশিত করতে প্রভাবিত করে এবং তারা নতুন প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়। এরপর যেসব প্রাণী বেঁচে যায় এবং প্রজনন করতে পারে, তারা তাদের এই নতুন সফল বৈশিষ্ট্যগুলোর উত্তরাধিকারদের মধ্যে দিয়ে যায়।’ ওয়াকিবহাল যে কেউই জানেন, জীবজগতের বিবর্তন তত্ত্বের মূল কথা এটাই। অর্থাৎ আধুনিককালে চার্লস ডারউইন কর্তৃক প্রস্তাবের প্রায় এক হাজার বছর আগে আল-জাহিয জীবজগতে বিবর্তনের ধারণাটি উপস্থাপন করেছিলেন।

আল-জাহিয যে কালপর্বে তার কর্মজীবনটি পার করেছিলেন, সেটা ছিল মুসলিম দুনিয়ার বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের স্বর্ণযুগ। আরব দুনিয়া তখন গ্রিক বিজ্ঞান-দর্শনকে সংরক্ষণ ও চর্চা করছে এবং একই সঙ্গে বিকশিত হচ্ছে আরবি কাব্য সাহিত্যও। আর আল-জাহিয এই উভয় তত্পরতাতেই সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।&dquote;&dquote;

আল-জাহিযের জন্ম ৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে। আল-জাহিয অর্থ বড় বড় চোখ কিংবা যার চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসছে। বড় হয়েছেন ইরাকের বসরায়। বসরা শুরুতে ছিল এক সামরিক কেন্দ্র, কিন্তু আল-জাহিয যখন বেড়ে উঠছেন, তখন সেটা ইসলামী দুনিয়ার অন্যতম বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র। বসরায় আল-জাহিয শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন তখনকার কয়েকজন বিশিষ্ট ইসলামী আলেমের কাছে। তার ওস্তাদদের মধ্যে ছিলেন আল-আসমায়ি, আবু উবায়দা, আবু জায়াদ। শিগগিরই আল-জাহিয আরবি ভাষায় বিশেষ দক্ষ হয়ে ওঠেন। তার বুদ্ধিবৃত্তিক উত্কর্ষ দেখে মুতাজিলা চিন্তার ঘরানায় তার প্রবেশাধিকার ঘটে যায়। মুতাজিলা সম্প্রদায় ছিল যুক্তিবাদী; তারা দর্শন, ধর্মতত্ত্ব ও বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করত।

আরেকটি তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা আল-জাহিযের বিকাশে সহায়ক হয়েছিল। তার তারুণ্যে আরবে কাগজের ব্যবহার ভালোভাবেই শুরু হয়ে গিয়েছেল। আরবে কাগজের প্রচলন হয়েছিল আল-জাহিযের জন্মের কয়েক বছর আগে এবং তিনি তরুণ হতে হতে সেখানে কাগজের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়েছিল, ফলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা গ্রন্থ আল-জাহিযের জন্য সহজলভ্য হয়েছিল। লেখালেখি সহজ হয়ে যাওয়ার কারণে সমাজে পড়াশোনা করা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। আর এই নতুন বৈপ্লবিক দলের একজন ছিলেন আল-জাহিয। 

আল-জাহিয আশপাশের মানুষ, পশু-পাখি ও প্রকৃতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। অন্যদিকে প্রচুর বইপত্র পাঠ তাকে দুনিয়ার জ্ঞান-বিজ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত করেছিল। ফলে আল-জাহিয দিনে দিনেই আরো বেশি যোগ্য হয়ে উঠছিলেন। বাগদাদে মুতাজিলা সম্প্রদায়ের পণ্ডিতদের অধীন তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। এখানে তার গুরুদের মধ্যে ছিলেন আল-নাজ্জম ও থুমানা আশরাস। এই দুজনের গভীর প্রভাব ছিল আল-জাহিযের চিন্তা ও কাজে। রাজনৈতিক ও ধর্মতত্ত্বে আল-জাহিয ছিলেন মুতাজিলা। মুসলিম দর্শন ও চিন্তার বিকাশে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য, এমনকি তার নামে তিনি চিন্তার একটি স্কুলও বিকশিত করেছিলেন, যার নাম ছিল আল-জাহিযিয়া।&dquote;&dquote;

আল-জাহিয পরিবার ছিল দরিদ্র, তিনি যখন ২০ বছরের তরুণ, তখন পরিবারকে সহায়তা করতে মাছ বিক্রি করতেন। কিন্তু এ রকম পরিবারে জন্ম নিয়েও আল-জাহিয ভালো শিক্ষা-দীক্ষা পেয়েছিলেন। এ থেকে বোঝা যায়, অষ্টম শতকের ইরাকে সমাজ উন্নতির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। আল-জাহিযের কথা থেকে জানা যায়, একদিন তার মা তাকে কাগজে তৈরি অনেকগুলো খাতা উপহার দিয়ে বলেন, এগুলোই হবে তার জীবিকা অর্জনের উপায়। অর্থাৎ তার মা চাইছিলেন পুত্র লেখালেখি করে জীবন ধারণ করুক। আজকের মতো সে সময়ও লেখালেখি ছিল অনিরাপদ-অনিশ্চিত পেশা। আল-জাহিয বসরায় বসে সে পেশাই বেছে নিলেন। তিনি খিলাফতের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর একটি প্রবন্ধ রচনা করেন এবং সেটা বাগদাদের দরবার থেকে অনুমোদন পেয়েছিল। এর পর থেকে তিনি পুরো জীবন লেখালেখি করেই জীবিকা নির্বাহ করেছেন। তবে তিনি কখনো কোনো সরকারি পদ গ্রহণ করেননি। ফলে দরবারে কর্মরতরা যে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারতেন না, আল-জাহিয সেটা করেছেন। তবে তিনি তার কিছু কাজ দরবারের অমাত্য ও ক্ষমতাবানদের উৎসর্গ করেছিলেন। এই উৎসর্গের বিনিময়ে তিনি নানা উপহার ও আর্থিক পুরস্কার পেতেন। আল-জাহিয তার কিতাব আল-হায়ওয়ান যাকে উৎসর্গ করেছিলেন, তিনি তাকে ৫ হাজার দিনার উপহার দিয়েছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি ২০০টির বেশি গ্রন্থ রচনা করলেও কালের দুর্যোগ মোকাবেলা করে টিকে আছে ৩০টি। তার কাজের ক্ষেত্র ছিল জীববিদ্যা, আরবি ব্যাকরণ, কবিতা, অলংকারশাস্ত্র। তার রচনা করা কিছু গ্রন্থের মধ্যে আছে দি আর্ট অব কিপিং ওয়ান’স মাউথ শাট, আরব ফুড, ইন প্রেইজ অব মার্চেন্টস, লেভিটি অ্যান্ড সিরিয়াসনেস। লেখার স্টাইল সম্পর্কে আল-জাহিয বলেন—

‘সেরা রীতি হলো সেটাই যা সবচেয়ে স্পষ্ট, যেখানে কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না, নোট দিতে হয় না। যা বিষয়বস্তুকে নির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করে, বেশি বা কম না।’

আল-জাহিযের কাজ নিয়ে গবেষণা করেছেন মধ্যপ্রাচ্যের সভ্যতা বিষয়ে গবেষক জিনি মিলার। তিনি জানিয়েছেন আল-জাহিয কেবল বিজ্ঞান-বিষয়ক কথাবার্তা লিখেছেন, তাই নয় তার লেখায় প্রচুর কৌতুক, চটুল গল্পও আছে। এক্ষেত্রে তিনি আরব সাহিত্যে একটি স্বতন্ত্র ধারাও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আল-জাহিয একই সঙ্গে ধর্মীয় পণ্ডিতও ছিলেন। মিলার দেখাচ্ছেন সে আমলে আরবে এই ধর্মীয় লেখা ও কৌতুকে, হাস্যরসের মধ্যে গুরুতর দ্বন্দ্ব ছিল না। ফলে আল-জাহিয ধর্ম, বিজ্ঞান, রসসহিত্য সবকিছু নিয়েই লিখেছিলেন।&dquote;&dquote;

আল-জাহিযের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে কিতাব আল-হায়ওয়ান। বইটা অবশ্য তিনি সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। যতটুকু শেষ করেছিলেন, তাতে মোট সাতটি খণ্ড হয়েছে। বইটিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য রয়েছে এবং এমন অনেক ধারণার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, যেগুলো বিশ শতকের প্রথমার্ধের আগে বিকশিত হয়নি। বইতে তিনি প্রাণীদের অনুকরণ করার ক্ষমতার কথা আলোচনা করেছেন। অনেক প্যারাসাইট তাদের হোস্টের রঙ ধারণ করতে পারে। তিনি বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের মানুষ, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ওপর জলবায়ু ও খাদ্যের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি প্রাণীদের যোগাযোগ প্রক্রিয়া ও মনস্তত্ত্ব এবং বুদ্ধিমত্তার মাত্রা নিয়েও বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি পিঁপড়াদের সামাজিক সংগঠন নিয়ে বিশদ বিবরণী দিয়েছেন, নিজের পর্যবেক্ষণ থেকে পিঁপড়া কীভাবে বর্ষাকালে তার সঞ্চিত খাদ্য রক্ষা করে সেটাও জানিয়েছেন। অনেক কীটপতঙ্গ যে আলোয় সাড়া দেয়, সেটাও তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন। জীববিদ্যা ও নৃতত্ত্বের একটি প্রাথমিক সূচককে তিনি তুলে ধরেছিলেন, সেটা হলো প্রাণীদের জীবনের ওপর পরিবেশের বিভিন্ন ফ্যাক্টরের প্রভাব। এবং তিনি নিজে বিভিন্ন ফ্যাক্টরের প্রভাবে বিভিন্ন প্রজাতির যে রূপান্তর ঘটে, তা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তার গ্রন্থে উল্লেখিত বিভিন্ন ধারণা চার্লস ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের সদৃশ।

প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে আল-জাহিযের ধারণা ছিল বিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন। এর আগে গ্রিক দার্শনিক এম্পিডোক্লেজ এবং অ্যারিস্টটল প্রাণী ও উদ্ভিদের পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন, তবে সেটা কোনো তত্ত্ব আকারে নয়। তারা এই পরিবর্তনকে নিছক পরিবর্তন হিসেবেই দেখেছিলেন, কোনো প্রভাবকের প্রেক্ষিত থেকে নয়।&dquote;&dquote;

ঐতিহাসিক ফিলিপ কে হিট্টি তার বিখ্যাত হিস্ট্রি অব অ্যারাবস গ্রন্থে আল-জাহিযের মূল্যায়ন করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘আল-জাহিযের লেখা কিতাব আল-হায়ওয়ান সেই অর্থে জীববিজ্ঞানমূলক নয়, বরং তুলনায় তা অনেক বেশি ধর্ম ও লোকাচারের ভিত্তিতেই রচিত। তবে পরবর্তী সময়ের বিবর্তনবাদ, অভিব্যক্তি তত্ত্ব ও প্রাণী মনস্তত্ত্বের অঙ্কুর বলে বইটিকে আখ্যা দেয়া যায়। এ বইটিতে লেখক অ্যারিস্টটলের উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছেন। আল-জাহিয শুষ্ক পাতন পদ্ধতিতে মৃত জীবজন্তুর নাড়িভুঁড়ি থেকে অ্যামোনিয়া তৈরি করতে পারতেন। পরবর্তী সময়ের প্রাণী বিজ্ঞানী, বিশেষত সৃষ্টির গঠন তত্ত্ববিদ আল-কাজবিনি (মৃত ১২৮৩) পারসি ও আল-দামিরি (মৃত ১৪০৫) মিসরীয় হয়েও উভয়ই আরবি ভাষায় লিখতেন। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে তারা দুজনই প্রাণী বিজ্ঞানকে ভাষাতত্ত্ব সাহিত্যের একটি অংশ বলে মনে করতেন। আল-দামিরি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ আরবীয় প্রাণী বিজ্ঞানী। কিন্তু একজন প্রগতিশীল ধর্মতত্ত্ববিদ ও পণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে আল-জাহিযের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। তিনি একটি মুতাজিলা সম্প্রদায় তৈরি করেছিলেন। তারা তার নাম বহন করত। আরবীয় পণ্ডিতদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম সৃজনশীল ব্যক্তি। আরবীয় সাহিত্যে প্রায়ই তার নামের উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়। মৌলিকতা, কৌতুক, বিদ্রূপ ও পাণ্ডিত্যের জন্য তার ব্যাপক পরিচিত ছিল। কিন্তু তার ঘৃণ্য, কদর্য চেহারার জন্যই মুতাওয়াক্কিল তাকে তার ছেলেদের শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করেননি।’

বিখ্যাত রসায়নবিদ ও বিজ্ঞানের ঐতিহাসিক জর্জ সার্টন মনে করেন, কিতাব আল-হায়ওয়ান বিষয়ে হিট্টির মতোই মনোভাব পোষণ করেছেন। তার মতে বইটি সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রচিত নয় এবং এর ওপর ধর্ম ও লোকাচারের প্রভাব রয়েছে। কিন্তু Dr. Mehmet BAYRAKDAR সার্টন কিংবা হিট্টির মতের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেছেন, বইয়ে উল্লেখ করা অনেক জ্ঞান আল-জাহিযের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ফসল। এ গ্রন্থের বৈজ্ঞানিক মূল্য অনেক। অসিন প্যালাসিওস বলেছেন, বইটি জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অবদান। বইটি একদিকে যেমন পরবর্তীকালের মুসলিম বিজ্ঞানীদের প্রভাবিত করেছে, তেমনি তাদের মাধ্যমে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।&dquote;&dquote;

আল-জাহিযের বইয়ের অনেক বাক্য উল্লেখ করেছেন আল-সাফা ও ইবনে মিসকাওয়াহ। এবং অনেক অনুচ্ছেদকে উদ্ধৃত করেছেন জাকারিয়া আল-কাজয়িনি (১২০৩-৮২) ও মুস্তাফি আল-কাজয়িনি (১২৮১-?) যথাক্রমে তাদের আজা ইব আল-মাখলুকাত ও নুজহাত আল-কুলুব গ্রন্থে। এছাড়া আল-দামিরি তার হায়াত আল-হায়ওয়ান গ্রন্থেও আল-জাহিযের অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করেছেন। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে আল-দামিরি ও অন্যান্য মুসলিম বিজ্ঞানীর লেখাজোকা লাতিন ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন আব্রাহাম একেলেনসিস। এই অনুবাদ ১৬১৭ খ্রিস্টাব্দে De Proprietatibus et Virtutibus Medicis Animalium শিরোনামে প্যারিসে প্রকাশিত হয়েছিল। অর্থাৎ সময়টা ছিল ডারউইনের পূর্বসূরি ও বিখ্যাত বিজ্ঞানী এফ রেডি (১৬২৬-৯৮), ক্যারোলাস লিনিয়াস (১৭০৭-৭৮), বুফন (১৭০৭-৮৮), ল্যামার্কের (১৭৪৪-১৮২৯) জীবত্কালের আগে। অর্থাৎ মুসলিম দুনিয়ার বিজ্ঞানীদের বিবর্তনসংক্রান্ত চিন্তা এরই মধ্যে ইউরোপে পৌঁছে গিয়েছিল।&dquote;&dquote;

কিতাব আল-হায়ওয়ান বিশ্লষণে দেখা যায়, সেখানে জীবজগতের শ্রেণীবিন্যাসের একটি অসামান্য বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা ছিল, যা পরবর্তী সময়ে ক্যারোলাস লিনিয়াস আধুনিক বিজ্ঞানে পদ্ধতিগত ও লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন। আল-জাহিয তার শ্রেণীকরণে সবচেয়ে সরল জীব থেকে সবচেয়ে জটিল জীবকে ধারাবাহিকভাবে সরলপথে নির্দিষ্ট করেছেন। এই সরলরেখায় তিনি বিভিন্ন জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করেন। এই গ্রুপগুলোকে তিনি আবার বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্যের বিবেচনায় সাব-গ্রুপে ভাগ করেন যা জীবের মূল শ্রেণীভাগ প্রজাতির দিকে নিয়ে যায়।

নিজের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর আল-জাহিয তার কিতাব আল-হায়ওয়ানে জীবজগতের বিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। এবং এই বইতে পরবর্তীকালের প্রতিষ্ঠিত বিবর্তন তত্ত্বের অনেক সূত্র লুকিয়ে ছিল। যেমন—প্রাণী ভ্রূণতত্ত্ব, অভিযোজন, প্রাণী মনস্তত্ত্ব ও সামাজিকতা। এ বইয়ে আল-জাহিয আমাদের জীবনধারণের জন্য জীবের সংগ্রামকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এ সংগ্রামের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া ও প্রভাবকে একদিকে যেমন বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তেমনি লোকায়ত উপাদানও ব্যবহার করেছেন, সেগুলোকে স্পষ্ট করতে। জীবজগতের বিবর্তন বর্ণনা করতে গিয়ে আল-জাহিয তিনটি প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা করেছেন—টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম, এক প্রজাতির অন্য প্রজাতিতে রূপান্তরিত হওয়া ও পরিবেশের প্রভাব।  &dquote;&dquote;

আল-জাহিয টিকে থাকার জন্য লড়াইকেই বিবর্তনের ভরকেন্দ্র বলে জোর দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রাকৃতিক নির্বাচন। প্রতিটি জীব অস্তিত্বের জন্য পরস্পরের সঙ্গে লড়াইরত। সবসময় একটি প্রাকৃতিক লড়াই চলমান। অস্তিত্ব হচ্ছে একে অন্যের সঙ্গে সংগ্রাম। আল-জাহিযের মতে, এই অস্তিত্বের লড়াই একটি স্বর্গীয় আইন। আল্লাহ কোনো প্রাণীর মরদেহকে অন্য জীবিতের জন্য খাদ্য হিসেবে হাজির করেন। আল-জাহিয বলেছেন, যেমন—ইঁদুর যখন খাবারের সন্ধান করে, তখন এটি তার চেয়ে দুর্বল ও ছোট প্রাণীদের নিজের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। অন্যদিকে ইঁদুর নিজের বাচ্চা এবং নিজেকে গর্তে বা কিছুর আড়ালে লুকিয়ে রাখে, যেন এগুলো সাপ বা বড় পাখির খাদ্যে পরিণত না হয়। সাপের প্রিয় খাবার হচ্ছে ইঁদুর। আবার সাপ নিজেকে বীবর ও হায়েনাদের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখে। কারণ, এসবের চেয়ে সে কম শক্তিশালী। হায়না আবার শিয়াল ও তার চেয়ে কম শক্তিশালী পশুকে ভয় দেখাতে পারে।... এটাই হলো নিয়ম যে কারো অস্তিত্ব আবার অন্য কারো জন্য খাদ্য। সব ছোট প্রাণী তার চেয়ে ছোটদের খায়, অন্যদিকে বড়রা তার চেয়ে বড়কে খেতে পারে না। মানুষও নিজেদের মধ্যে ওই প্রাণীদের মতোই আচরণ করে।... আল্লাহ কারো জীবন রক্ষা করেন অন্য কারো মৃত্যু থেকে এবং উল্টোটাও ঘটে...।&dquote;&dquote;

আল-জাহিয এটাও বলেছেন, অস্তিত্বের সংগ্রাম কেবল ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে হয় না, বরং একটি প্রজাতির সদস্যদের মধ্যেও হয়। আল-জাহিযের তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে দেখা যায় তিনি বলেছেন, আল্লাহ দুনিয়াকে সৃষ্টি করেছেন এর অধিবাসীদের বিপুল উৎপাদনক্ষমতা দিয়ে। আল্লাহ একই সঙ্গে প্রকৃতিতে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামের আইন প্রতিষ্ঠা করেছেন যেন বিভিন্ন প্রজাতির জনসংখ্যা যথাযথ অনুপাতে বজায় থাকে। আর এমনটা না হলে প্রকৃতিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে এবং এর অনেক প্রজাতি ও বৈচিত্র্য হারিয়ে যাবে। উপরের আলোচনা থেকেই বোঝা যায়, এর মধ্যে পরবর্তীকালে ডারউইনিজম ও নিওডারউইনবাদীদের অনেক বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে।

প্রজাতি রূপান্তরিত হয়ে অন্য প্রজাতিতে পরিণত হতে পারে বলেও মনে করতেন আল-জাহিয। এই রূপান্তর ঘটে পরিবেশের বিভিন্ন ফ্যাক্টরের প্রভাব সহকারে। আল-জাহিয বলেছেন এক প্রজাতি ধীরে ধীরে বিভিন্ন নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জন করার মাধ্যমে নতুন আরেক প্রজাতি হওয়ার দিকে এগিয়ে যায় আর এই নতুন বৈশিষ্ট্যগুলোর আবির্ভাব ঘটে পরিবেশে টিকে থাকতে।

আল-জাহিয মনে করতেন, আল-মিসখ নামের চতুষ্পদী প্রজাতি থেকে কুকুর, নেকড়ে, শিয়াল প্রভৃতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো মনে করতেন, এসব কিছুর পেছনেই রয়েছে আল্লাহর ইচ্ছা ও শক্তি। আল্লাহ চাইলে কোনো একটি প্রজাতিকে যেকোনো সময় অন্য প্রজাতিতে রূপান্তর করতে পারেন।

পরিবেশের প্রভাবের ক্ষেত্রে আল-জাহিয বলেছেন, খাবার, জলবায়ু, আশ্রয় কোনো প্রজাতির ওপর জীবতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব রাখে। এবং এসব পরিবেশগত ফ্যাক্টর প্রজাতিগুলোকে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কঠোর সংগ্রামে নামিয়ে দেয়। পরিবেশে পরিবর্তন হলে প্রজাতিকে টিকে থাকতে নতুন বৈশিষ্ট্য গ্রহণ করতে হয়। এভাবে তারা বেঁচে যায় এবং নতুন বৈশিষ্ট্যগুলো বংশধরদের মধ্যে দিয়ে যায়।&dquote;&dquote;

আল-জাহিয কিতাব আল-হায়ওয়ানে প্রাণীর যৌন জীবন নিয়েও যথেষ্ট পর্যবেক্ষণ হাজির করেছিলেন। তিনি দেখিয়েছিলেন, প্রকৃতিতে যৌনসম্পর্কে বিভিন্ন রূপ বর্তমান, যার মধ্যে সমকামিতাও আছে।

কিতাব আল-হায়ওয়ানের ৮৭টি ফোলিও (মূল টেক্সটের এক-দশমাংশ) এখন সংরক্ষিত আছে মিলানের অ্যামব্রোসিয়ানা গ্রন্থাগারে। এ সংগ্রহটি (মূল কপির একটি অনুলিপি) চতুর্দশ শতকের এবং এতে তার শেষ মালিক ‘আবদ আল-রাহমান আর-মাগরিবির নাম উল্লেখ করা আছে এবং তারিখ দেয়া আছে ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দ। এই ফোলিওগুলোতে মিনিয়েচার আকারে ৩০টির বেশি অলংকরণ আছে।

আল-জাহিয ৫০ বছরের বেশি সময় বাগদাদে কাটিয়ে বসরায় ফিরে আসেন। বসরায় ৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুটিও ছিল একজন লেখকের মৃত্যু, নিজের ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে বইয়ের স্তূপের তলে চাপা পড়ে তার জীবনপ্রদীপ নিভে গিয়েছিল।

আল-জাহিযের অবদান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এহসান মাসুদ দ্য গার্ডিয়ানে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন বেশ কয়েক বছর আগে। তিনি আল-জাহিযের অবদান আলোচনার পাশাপাশি লেখার শেষ দিকে বর্তমান মুসলিম সমাজে বিজ্ঞানচর্চায় অনীহার সমালোচনা করে নিজেদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্মরণ করতে পরামর্শ দিয়েছেন। তার কথায়, ‘আজকের তরুণ বিজ্ঞানীরা যদি ইসলামী সংস্কৃতিতে বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটু উঁকি মারেন, তাহলে দেখবেন, সেখানে জীবনের উদ্ভব ও প্রজাতির বিবর্তন বিষয়ে চিন্তা, বিতর্ক ও যুক্তির সম্মানজনক ঐতিহ্য ছিল।’ এরপর তিনি আক্ষেপ নিয়ে লিখেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলো, ইসলামের স্বর্ণযুগে ক্রিয়েশনিজম কোনো শক্তিশালী মতবাদ ছিল না। বাগদাদ তখন ছিল উন্নত শিক্ষা কেন্দ্র। বিজ্ঞানীরা তখন ধর্মগ্রন্থ লেখার সঙ্গে প্রকৃতি বিষয়ে মানুষের অর্জিত জ্ঞান মিলছে কিনা তা যাচাই করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতেন না। বরং তারা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে নিজেরাই নানা কিছু আবিষ্কারে মগ্ন হতেন।’&dquote;&dquote;

আল-জাহিযের বৈজ্ঞানিক ধারণা পরবর্তী সময়ে অনেক মুসলিম চিন্তাবিদকে প্রভাবিত করেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন আল-ফারাবি, আল-আরাবি, আল-বিরুনী ও ইবনে খালদুন।

আল-জাহিযের জীববিদ্যা চর্চা এবং বিবর্তন তত্ত্ব পরবর্তীকালে জীববিজ্ঞানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগেই বলা হয়েছে, তার কাজের প্রভাব ছিল আল-সাফার ওপর। ইবনে তোফায়েল, আল বিরুনী, ইবনে মিসকাওয়াহ প্রমুখ দার্শনিক, পণ্ডিতদের ওপর আল-জাহিযের কাজের প্রভাব ছিল। তাদের হাত ধরে আল-জাহিযের তত্ত্ব নতুন ধরনের কিছু মতবাদ তৈরি করে। যেমন—এই দার্শনিকরা আল-জাহিযের তত্ত্বকে সমাজ জীবনে প্রয়োগ করেছেন। এভাবে আল-জাহিযের তত্ত্ব পরবর্তীকালে ইসলামী দর্শন, অধিবিদ্যা, মহাজাগতিক চিন্তায় প্রভাব রেখেছে।

ইউরোপীয় চিন্তায় আল-জাহিযের প্রভাব সম্পর্কে দুটি উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা রয়েছে Fr. DieteriCi-এর Dcr Darwinismus im X und XIX Jahrhundert” (Leipzig, 1878) এবং E. Wiedemann-এর  sitzungsbericht dcr physikalisch-medizinischen Sozietaet, (1915)। প্রথম কাজটিকে ডারউইন ও আল-জাহিযের কাজের সাদৃশ্য আলোচনা করা হয়েছে। বলা হয়, আল-জাহিযের কাজটিই ডারউইন এবং তার পূর্বসূরিরা অধিকতর বৈজ্ঞানিক প্রণালিবদ্ধ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করেছেন। আল-জাহিয ও ডারউইনের কাজের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটি হচ্ছে ঈশ্বরের ধারণা। আল-জাহিয মনে করেন, বিবর্তনের মূল শক্তি স্বয়ং ঈশ্বর, তার নির্দেশ বা আইনেই যা ঘটার, তা ঘটে। অন্যদিকে ডারউইন, ল্যামার্করা মনে করেন, বিবর্তন একটি বস্তুবাদী প্রক্রিয়া। যদিও উভয়ের বিবর্তন প্রক্রিয়ার পদ্ধতির যে ব্যাখ্যা তা কমবেশি একই রকম।

অনেক গবেষক মনে করেন, আল-জাহিযের প্রভাব ইউরোপীয় জীব ও প্রকৃতিবিজ্ঞানীদের ওপর ভালোভাবেই ছিল। কারণ ক্যারোলাস লিনিয়াস (১৭০৭-১৭৭৮) থেকে ডারউইন (১৮০৯-১৮৮২) পর্যন্ত যারা প্রকৃতিবিজ্ঞানের বিকাশে গুরুতর ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অনেক আগেই আল-জাহিয তার গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশ করেছেন। আল-জাহিয ও পরবর্তী আরব মুসলিম জীববিজ্ঞানীদের সেসব লেখা অনুবাদের মাধ্যমে ইউরোপে পৌঁছে গিয়েছিল সপ্তদশ শতকেই। তবে চার্লস ডারউইন নির্দিষ্টভাবে আল-জাহিযের কাজের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, এমন কোনো প্রামাণিক তথ্য পাওয়া যায় না।

পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধারণার প্রবর্তক, কবি, দার্শনিক মোহাম্মদ ইকবাল (আল্লামা ইকবাল) আল জাহিযের তত্ত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। ১৯৩০ সালে প্রকাশিত তার বক্তব্যের একটি সংকলনে তিনি বলেছিলেন, ‘আল-জাহিয দেখিয়েছেন অভিবাসন এবং পরিবেশে পরিবর্তনের কারণে প্রাণীদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে।’

গবেষক মিলার আগ্রহী ছিলেন বিজ্ঞান ও সাহিত্য মিশে আছে, এমন কাজ নিয়ে গবেষণা করতে। আর সেই খোঁজে তিনি পেয়ে যান আল জাহিযের কিতাব আল-হায়ওয়ান। এ মহাগ্রন্থে লেখক বিজ্ঞানের পাশাপাশি কবিতা, কৌতুক, গল্প অহরহ ব্যবহার করেছেন। এবং এই রীতি তখন আরবে প্রচলিত ছিল। আল-জাহিয নিজেও বিশ্বাস করতেন ঈশ্বরের দুনিয়াকে বুঝতে সম্ভাব্য সব উপায়কেই ব্যবহার করা উচিত। মিলারের কথায়, ‘আল-জাহিযের লক্ষ্য ছিল স্বর্গীয় সৃষ্টি কত বিস্ময়কর, সেটা দেখানো।’