মানুষের সময় গণনার ইতিহাস সুলুকসন্ধান করলে দেখা যাবে সেই হেসিয়োড ও স্টোনহেঞ্জ থেকে মধ্যযুগ হয়ে ফরাসি বিপ্লব পর্যন্ত (যখন ডেসিমেলভিত্তিক সময় গণনার প্রচলন ছিল, ১০ ঘণ্টায় হতো একদিন, ১০ দিনে এক সপ্তাহ) সবাই কোনো না কোনোভাবে সময়ের হিসাব রাখার চেষ্টা করেছে। এ প্রবণতা শুধু যে মানুষের মধ্যেই ছিল তা নয়, বেশির ভাগ প্রাণীই সুচারুভাবে তার পারিপার্শ্বিকতার ছন্দের সঙ্গে শরীর অভ্যন্তরের ঘড়ির সমন্বয়ও করে নেয় প্রতিনিয়ত (এমনকি সবজি আলু পর্যন্ত তার পরিপার্শ্বের চাপে সাড়া দেয়)।  দুটি উদাহরণ দেয়া যাক:

১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের নিউ হেভেন হার্বার থেকে এক ডজন ঝিনুক নিয়ে ইলিনয়ের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে যান জীববিজ্ঞানীরা এবং ঝিনুকগুলোকে নিউ হেভেন হার্বার থেকে আনা পানিতেই রাখা হয়। তবে সেগুলোর জন্য নিকষ অন্ধকারের ব্যবস্থা করা হয়।

এরপর বিজ্ঞানীরা ঝিনুকগুলোর খাবারের প্যাটার্ন পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন। যা ভেবেছিলেন বিজ্ঞানীরা! ঝিনুকগুলো নিউ হেভেন হার্বারের সময়সূচিই অনুসরণ করছিল, সে অনুযায়ীই তারা নিজেদের খোলসও উন্মুক্ত করছিল। অথচ ঝিনুকগুলো তাদের বাড়ি থেকে হাজার মাইল দূরে নতুন টাইমজোনে চলে এসেছিল।

কিন্তু সপ্তাহ দুয়েক পর অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করল। ঝিনুকগুলোর খোলস খোলা ও বন্ধ করার সময় বদলাতে থাকল। এটা সবারই জানা, সাগরে জোয়ার-ভাটার সময়সূচি নিয়মিত বদলে যায়। এ বদল সূর্যের প্রভাবে নয়, বরং চাঁদের প্রভাবে হয়। চার সপ্তাহ পর্যবেক্ষণের পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, ঝিনুকগুলো তাদের নতুন আবাস ইলিনয়ের সাগর বা চাঁদের সময়সূচি অনুসরণ করতে শুরু করেছে।

এখন প্রশ্ন হলো, ল্যাবরেটরির বদ্ধ দেয়ালের মধ্যে থেকেও কীভাবে এ নিম্নবর্গের প্রাণী চাঁদের সময়সূচি টের পেল? ঝিনুক তো ঝিনুক, আগেই বলেছি এমনকি সবজি আলুও সময় বুঝতে পারে। আলুর চোখগুলো তুলে ফেলে যদি সেগুলোকে একেবারে আবদ্ধ একটি পরিবেশে রাখা হয়, অর্থাৎ আলুগুলোকে বাইরের আলো, তাপমাত্রা, চাপ, আর্দ্রতা ও আলোর তীব্রতা থেকে পৃথক করে ফেলা হয়, তখন আলুর পক্ষে বাইরে দিন না রাত, সেটা জানার উপায় নেই।

কিন্তু তার পরও দেখা যাবে আলুগুলোর অক্সিজেন ব্যবহারের চক্র দিন-রাতে যেভাবে বদলাত, বদ্ধ পরিবেশেও সেটা অব্যাহত রয়েছে। এভাবে ঋতুর পরিবর্তনও আলু বুঝতে পারে।

তাহলে সময়জ্ঞান প্রকৃতিতে কবে থেকে? সময় কত বুড়ো?